,

বাবা-ক্ষুধায় আমার শরীর কাঁপছে

news-image

ফয়সল আহমেদ খান,বাঞ্ছারামপুর থেকে : ‘‘সকালে আমার সন্তান গেছে স্কুলের অনুষ্ঠানে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে এখনো বাড়ি ফিওে আসেনি,এই আশংকায় ছুটে যাই বহু দূরের জগন্নাথপুর মাঠে।গিয়ে দেখি সন্ধ্যা বেলায়ও অনুষ্ঠান চলছে।আমার ৪র্থ শ্রেনীর পড়–য়া ছেলের মুখ দেখি ক্ষুধায় শুকিয়ে আছে।জিজ্ঞাসা কওে জানি,সকাল ৯টায় বাড়ি হতে বের হবার পর এখ নপর্যন্ত সে কিছুই খায়নি।সে কেদে কেটে বলল বাবা-ক্ষধায় আমার শরীর কাপঁছে।আমাকে কিছু কিনে দাও।স্যাররা আমাদেও কিছুই খেতে দেয়নি।’–এমনি করে অভিযোগ করেন দড়ি বাঞ্ছারামপুরের ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো.মোশাররফ হোসেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো বার্ষিক আন্ত:স্কুল ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা।

সকাল ১০টা হতে শুরু হওয়া সদর উপজেলার জগন্নাথপুর মাঠে খুবই নি¤œমানের প্যান্ডেল থেকে শুরু করে শিশু প্রতিযোগীদের দিনভর কোন কিছুই না খাইয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে খোজ নিয়ে জানা গেছে,এই ইভেন্টটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো থানা কলোনীর প্রধান শিক্ষক আ.অহিদ মিয়াকে।কিন্তু তিনিসহ তার সহকর্মীরা দিনভর শীতের মধ্যে নাস্তা-পানি থেকে শুরু করে দুপুরের খাবার খেলেও কোমলমতি শতাধিক প্রথম শ্রেণী হতে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ৮ ঘন্টা মানে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত না খাইয়ে বা কোন প্রকার দেখভাল না করে রাখেন।

এবিষয়ে কথা বললে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নৌশাদ মাহমুদ বলেন,-‘আজ যেটা ঘটেছে সেটা ঠিক হয়নি।তবে-আমাদের একটি টাকাও দেয়া হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে।শিক্ষকরা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে এই প্রতিযোগিতা সফল করেন’।

কিছুক্ষণ পর মোবাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বনিকের সাথে অভিযোগ নিয়ে কথা বললে তিনি বলেন,এটা ঠিক নয়।প্রতিটি স্কুলের জন্য ১ হাজার টাকা বাজেট দেয়া হয়েছে।সেই অনুযায়ী অংশগ্রহনকারী ১২টি স্কুলের জন্য ১২ হাজার টাকা দেয়া হয়।শিশুদের দিনভর কিছুই না খাইয়ে রাখাটা অমানবিক।আমি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।’

বাঞ্ছারামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,ছবুরকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়,বাঞ্ছারামপুর কান্দা পাড়া,সরিষারচর,থানা কলোনী,দূর্গারামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবক মো.আলমগীর হোসেন,মহিউদ্দিন ভূইয়া,আল আমীন মেম্বার,ফয়সল খান,নুরুল ইসলাম আকাশ অভিযোগ কওে বলেন,যেখানে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে তা স্কুল ও বাসা হতে অনেক দূরে।দুপুরে যখন শিক্ষকরা বিরতিতে খাবার খান,তখন শিক্ষার্থী তথা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীদের কারো পক্ষে ২ হতে ৪ কি:মি: দূরে যেয়ে খেয়ে আসা সম্ভব হয়নি।কোমলমতি শিক্ষার্থীরা উপোস করে থাকে।আমরা এর প্রতিবাদ করছি।সরকারি বরাদ্ধ থাকা সত্বেও কেন একটি কলা কিনে খাওয়ালো না শিক্ষকরা-এর তদন্ত দাবী করছি’’।
বাঞ্ছারামপুরে আন্ত:স্কুল প্রতিযোগিতা সামনের দিনে জগন্নাথপুরে না করে বাঞ্ছারামপুর সদরে করার দাবী করেন অভিভাবকরা।

একটি সূত্রে জানায়,অহিদ মিয়ার মতো কয়েক শিক্ষক মিলে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বাজেটের যতসামান্য ২/৩ হাজার টাকার কম মূল্যের পুরস্কার দিয়ে বাকী টাকা নিজের মনে করে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেন!

এ জাতীয় আরও খবর

সিলেটে ট্যাংকলরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও শাস্তি হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত

কসবায় নিখোঁজের ২দিন পর কলাবাগানের পাশ্ববর্তী ডোবায় মিললো বৃদ্ধের লাশ

প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য মানবসম্পদ ও শিক্ষার উন্নয়ন: কসবায় মুশফিকুর রহমান এমপি

নবীনগরে প্রতিরোধমূলক ওরাল কলেরা টিকা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

কচু খেয়ে গলা চুলকালে তেঁতুল ছাড়াই মিলবে সমাধান

নায়করাজের শূন্যতা আজও সমান অনুভব করি: শাকিব খান

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

আস্থার ঘাটতিতে অনিশ্চিত প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর