,

কেউ বলে সম্রাট, আবার কেউ বলে মহাদেব

news-image

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : আদর করে কেউ বলে কেউ বলে সম্রাট, আবার কেউ বলে মহাদেব, আবার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা থেকে কেউ বলে মহাদেব। চলাফেরা আর খাবার দাবারে মুন্সীয়ানা ভাব রয়েছে। তাই সকলের কাছে তার কদর। যে যাই নামে ডাকুন না কেন রাজপথ মাড়িয়ে আয়েশ ভঙ্গীমায় সম্রাটের মতই তার চলাফের। অবশ্য শহরের মানুষের কাছে ভোজন বিলাসী গরু হিসেবেই পরিচিত। আলোচিত ভোজন বিলাসী গরুটি এখন সারা শহর চড়াট করে বেড়াচ্ছে। দোকানে দোকানে দিচ্ছে নিজের ইচ্ছেমত হাজিরা। কেউ দিচ্ছে চাল, ডাল, আবার সাধ্যমত দিচ্ছে ফল। আর এভাবেই সারাদিন মুন্সীয়ানাভাবে ভোজনবিলাসী মহাদেব নিজের পেটভারি করছেন। প্রতিদিন একই সময়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানের মধ্যে তার খুশী মত আসা যাওয়া। শহরের মানুষ ও গরুটিকে প্রতিদিন কেজির কেজি চাল সহ বিভিন্ন দ্রব্যাদি খেতে দিচ্ছে। জনবহুল রাস্তা দিয়ে মানুষই যখন চলতে পারে না, অথচ ভোজন বিলাসী মহাদেব ঠিক সময়ই শহর অতিক্রম করছে তার রাস্তা। চলন্ত রাস্তায় পথচারি কিংবা কোন মানুষেরও ক্ষতিও করছে না সে। খাবারের সময় হলে হেলেদুলে নির্দ্দিষ্ট স্থানে এসে দাড়িয়ে থাকে খাবার গ্রহন করে আবার চলে যায়। মানুষের চলাফেরার পথ দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর যাবৎ তার চলাফেরা। পথচারিরা ও সানন্দে বরন করে নেয় তাকে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে, তিতাস নদীর তীরে কাল ভৈরব নাট মন্দিরে তার জন্ম হয়। এরপর হেলে ঢুলে বেড়ে উঠে মন্দিরেই। প্রতি বছরের বিশেষ এক দিনে সনাতন ধর্মালম্বীরা পূজা করে তাকে। আর এভাবে বেড়ে উঠতে থাকে মহাদেব মানে সম্রাট। শহরের যানজট এড়িয়ে আনন্দবাজার, সড়কবাজার, কালাশ্রীপাড়া, মহাদেবপট্রি, ফরিদুলহুদা রোড ও সিনেমা হল রোডে প্রতিদিন নির্ধারিত দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। খাবার না দেওয়া পর্যন্ত প্রভূ ভক্তের মত ঠাই দাঁড়িয়ে থাকে। তখন ভালবেসে মানুষ তাকে খাবার দেয়। নির্ধারিত দোকানে প্রতিদিন পাঁচ কেজি চাল তার জন্য দেওয়া হয়। পোলাওয়ের চাল, চাল, ফলসহ বিভিন্ন খাবার খেয়ে সে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলে যায়। সনাতন ধর্মালম্বীদের মতে, চর্তুথদশী দিনে জন্ম নেওয়া গরুটি মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালবাসার প্রতীক। তাই তাকে মহাদেব বলে ডাকে।
মাতৃভান্ডার দোকানের মালিক স্বদীপ চন্দ্র পাল জানান, গরুটির নাম মহাদেব। তার অবস্থান কালভৈরব বাড়িতে। প্রতিদিন একই সময় আমাদের এখানে আসে। খাওয়া-দাওয়া শেষে সময় মতে চলে যায়। ফল, চাল, ভূষিসহ বিভিন্ন জিনিস খাবার হিসেবে সে গ্রহন করে ।
শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, কেউ কেউ গরুটিকে সম্রাট বা মহারাজ বলে। আবার হিন্দুরা একে ভক্তি করে প্রণাম করে মহাদেবের মত সম্মান করে। গরুটি দেখে আমরা আনন্দ পাই। মানুষের দোকানে দোকানে যায়। কারো কোন ক্ষতি করে না। প্রতিদিন বিকেল ৫টায় আমাদের এখানে আসে। তখন ৫ কেজি চাল দেই।

কয়েকজন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, গরুটিকে মহাদেবকে সবাই ভক্তি প্রণাম করে। আদর-স্নেহে করে। ধান-দূর্বা ও ফুল দিয়ে পূঁজা করে বছরের একদিন। মন্দিরে আসে, মন্দিরেই থাকে সবাই মনে করে এটি দেবতা। তাই সবাই এটির সেবা করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কালভৈরব মন্দিরের পুরোহিত নারায়ণ চক্রবর্তী জানান, শিব চতুর্দশীর সময় এর জন্ম। এর বয়স এখন ৭ বছর। মন্দিরের প্রাঙ্গণেই বড় হতে থাকে। গরুটিকে বেঁধে রাখা যায় না। রাস্তায় চলাফেরা করে। মানুষ একে ভক্তি করে প্রনাম করে। তাই তার নাম দেয়া হয় মহাদেব।

 

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে