,

বাংলাদেশী সামাজিক মাধ্যমে খলনায়িকা রূপে আবির্ভূত অং সান সুচি

news-image

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যেভাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে তার দায় কিছুতেই এড়িয়ে যেতে পারেন না অং সান সুচি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মানবতার দিক বিবেচনায় এমনটাই মনে করে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রীয় মদদেই রোহিঙ্গাদের উপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রসঙ্গটি এখন সর্ব আলোচিত। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত থেকে মিয়ানমারের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে মুসলিম বিদ্রোহীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হলে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গটি।

রোহিঙ্গাদের উপর নির্যতনের বিভিন্ন ছবিতে ছেয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা রোহিঙ্গা নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন মানবিক ও রাগান্বিত পোস্ট শেয়ার করছে। এসব পোস্টে অনেকেই মিয়ানমারের গণতন্ত্রী নেত্রী অং সান সুচিকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, যেন তার শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারটি কেড়ে নেওয়া হয়। বেশ কিছু ছবি ও কার্টুনে তাকে ব্যাঙ্গ করতেও দেখা গেছে। সত্তরের দশক থেকে রোহিঙ্গাদের উপর ধারাবাহিক নির্যাতন থামাতে ক্ষমতায় এসে সুচি উদ্যোগী হবেন এমনটাই আশা করেছিলো এ দেশের মানুষ। কিন্তু সুচি এই প্রসঙ্গটি অত্যন্ত চাতুর্য্যতার সঙ্গে এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অনেকেরই মত। সর্বশেষ তিনি রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জন্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার কর্মীদের দোষারোপ করেছেন। শুধু বাংলাদেশ নয়, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুচির ভূমিকা সারা বিশ্বেই সামালোচিত।

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যটিতে অভিযানরত নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এক দিনেই নিহত হয়েছে ৭১ জন, যাদের মধ্যে ৫৯ জনই রোহিঙ্গা মুসলিম, অবশিষ্ট ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। গত বছর অক্টোবরে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের পর বছর না ঘুরতেই আবারো রোহিঙ্গা নিধন শুরু করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলার ঘটনায় ভয়ার্ত রোহিঙ্গারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশী সীমান্তে এসে হামলে পড়েছে। যদিও বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী বাহিনী রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্ঠা করছে।

গত বছরের অক্টোবরে এমন সহিংস ঘটনার পর সেনা অভিযান শুরু হয় রাখাইনে। সেনাদের হাতে শত শত রোহিঙ্গা নিহত ও নারীরা ধর্ষণের শিকার হয়। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা একে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ওই অভিযানের সময় থেকে গত এক বছরে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে মিয়ানমারে ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গার বাস। কিন্তু এর বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে আরো প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা, যারা নির্যাতনের মুখে বিভিন্ন সময় দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিশ্ব মিয়ানমার সরকারকে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানালেও সরকার তা করেনি। বলা চলে, এর মাধ্যমে অং সান সুচির এনএলডি সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের জন্য সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছে।

 

আমাদের সময়.কম

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে