সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অজানা আতঙ্কে সাধারণ রোহিঙ্গারা

news-image

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে প্রতিনিয়ত চলছে অপহরণ, হত্যা, গুমসহ নানা অপকর্ম। আর এর পেছনে জড়িত রয়েছে কিছু অসাধু রোহিঙ্গা ও সন্ত্রাসীদের হাত। এমনটাই অভিযোগ শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গা নাগরিকদের। এখনি যদি এই অপরাধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে বড় ধরণের হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

এদিকে জানা যায়, বস্তিগুলোতে বিরাজমান সন্ত্রাসী গ্রুপের হাতে এক মাসের ব্যবধানে অপহৃত কুতুপালং নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের তিনজন রোহিঙ্গা নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার রেশ না কাটতেই বৃস্পতিবার দিনে দুপুরে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিককে হত্যার লক্ষ্যে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। অপহরণ ও খুনের ভয়ে কুতুপালং শিবিরের রোহিঙ্গা মাঝিরা (নেতা) আতঙ্কিত হয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাত কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বস্তি পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক। একের পর এক অপহরণ ও খুনের ঘটনায় জড়িত কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারছে না প্রশাসন। এতে এক অজানা আতঙ্কে রয়েছে সাধারণ রোহিঙ্গারা।

এদিকে ঈদুল ফিতরের চাঁদ রাত ২৫ জুন রাত ৮টার দিকে উখিয়া থানা পুলিশ বালুখালী তেলীপাড়া খাল পাড়ের ঝোঁপ থেকে হাত, পা বাঁধা, গলা কাটা একজনের লাশ উদ্ধার করেছে। উখিয়া থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেছেন, লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় সনাক্ত করা যায়নি। কুতুপালং নিবন্ধিত শিবিরের ই-১ ব্লকের অপহৃত রোহিঙ্গা মাঝি মো. আয়ুব (৩০) এর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী নুর আলকিছ প্রাথমিকভাবে তার স্বামীর লাশ বলে সনাক্ত করায় ময়নাতদন্ত শেষে তার কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

অন্যদিকে গত ১৩ জুন রাত দেড়টার দিকে ১৮/২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপে হানা দিয়ে কুতুপালং অনিবন্ধিত ক্যাম্পের ই-১ ব্লক নেতা মো. আয়ুব মাঝি ও কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের শরণার্থী আলী আহমদের ছেলে মো. সেলিমকে (২৬) তাদের ঘর লুটপাট করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার মধ্যে গত ১৮ জুন দুপুরে বালুখালী তেলীপাড়া খাল থেকে ভাসমান হাত পা বাঁধা ও গলা কাটা অবস্থায় মো. সেলিমের এবং গত রবিবার রাত ৮টার দিকে অপহৃত রোহিঙ্গা মো. আয়ুব মাঝি একই অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ। একই ভাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গত ২৩ মে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের মালয়েশিয়া ফেরত মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে মো. শফিকে (২৬) রাতের অন্ধকারে শিবির থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের তিন দিনের মাথায় ২৫ মে সকালে পার্শ্ববর্তী মধুরছড়া জঙ্গল থেকে রোহিঙ্গা মো. শফির লাশ উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ।

সিরিজ অপহরণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত জড়িত কাউকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি।

অপহরণকারী ও খুনীদের মধ্যে কুতুপালং শিবির ও বালুখালী বস্তির রোহিঙ্গা কলিম উল্লাহ, ছলিম উল্লাহ, ইসমাইল কুতুপালং বস্তির সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা মো. জাবের (৩২), মো. নুর (২৮), মনির আহমদ (২৮), খুইল্যা মিয়া মুন্না (৩২), সলিম (২৬), কলিমুল্লাহ (২৮) ও বালুখালীর নতুন রোহিঙ্গা বস্তির মো. কালু (৩৫) ও মো ইসলাম (৩৩) এর নেতৃত্বে ১৮/২০ জনের স্বশস্ত্র একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ আয়ুব মাঝির ঘরে হানা দিয়ে তাকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে যায়। এরা সকলেই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল ইয়াকিনের পক্ষ হয়ে এখানে কাজ করছে। তারা সকলে চিহ্নিত হলেও আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকায় সহজে আটক হচ্ছে না বলে দাবি রোহিঙ্গা নেতাদের।

অপহরণ ও খুনের শিকার আয়ুব মাঝির স্ত্রী নুর আনকিছ জানান, ১৮/২০ জন সন্ত্রাসীর মধ্যে উল্লেখিতদের চিহ্নিত করা গেছে। কুতুপালং নিবন্ধিত শিবিরে খুন হওয়া মো. শফির ভাই মো. হাছানও একই কথা বলেন।

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবির ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা মো. আবু ছিদ্দিক বিবার্তাকে বলেন, একের পর এক অপহরণ ও খুনের ঘটায় আমরা যারা সরকারের আইন-কানুন মেনে এখানে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করি, তাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। কারণ, অপহরণকারী ও খুনীরা মিয়ানমারের কথাকথিত জিহাদরত আলেকিনের পক্ষ হয়ে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে কাজ করে যাচ্ছে। তারা মূলত এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। এরাই কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে দায়িত্বরত নেতাদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দাবী করে ব্যর্থ হয়ে নানাভাবে অপহরণ পূর্বক খুন করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা মাঝিদের অনেকে নিরাপত্তা ও জানের ভয়ে রাতের বেলায় অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে রাত কাটাচ্ছে। তিনি সহ অনেক রোহিঙ্গা দাবি করে জানান, এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ না পাওয়া গেলে রোহিঙ্গারা বার্মা ও বাংলাদেশে সমানভাবে নির্যাতন, অপহরণ ও খুনের শিকার হলে তাদের আর কোন উপায় থাকবে না বলে তিনি জানান।

রাজাপালং ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বিবার্তাকে বলেন, রাজাপালং ইউনিয়নের আওতাধীন কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গা শিবিরে কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। ওখানে দেশী, বিদেশী অনেক অখ্যাত, বিতর্কিত লোক, সংস্থা, এনজিও মানবতার নামে অবাধ বিচরণ করে অজ্ঞাত অর্থ রোহিঙ্গাদের মাঝে বিলাচ্ছে। ফলে সেখানে নানা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী/গ্রুপের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে এসব নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনকে দায়িত্ব দেয়ার জন্য বলা হলেও, তা কার্যকর হচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের ভয়ংকর কর্মকাণ্ড স্থানীয় লোকজন সর্বদা আতংকে থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল খায়ের বিবার্তাকে জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাহাড়ী এলাকায় আত্মগোপনে থাকায় এ অভিযানে সফলতা আসতে একটু সময় লাগছে।

এ জাতীয় আরও খবর

আমড়া খাওয়ার এই উপকারিতাগুলো জানতেন?

কাহানি থ্রি-তে বিদ্যা বালান নয়, মূল চরিত্রে ইয়ামি গৌতম

২০২৬-২৭ অর্থবছর: রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে : আইনমন্ত্রী

যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে আহত ২০

কলকাতার ‘পাখি’ এবার ঢাকাই সিনেমার ‘চামেলি’

সৌদিতে এক সপ্তাহে প্রায় ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেপ্তার

স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল স্ত্রীরও

সাত মাসের মেয়েকে হত্যার মামলায় বাবার ৩ দিনের রিমান্ড

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৮

রেমিট্যান্সে বড় গতি, ২৫ দিনে এলো ২৮ হাজার কোটি টাকা