,

মাদকাসক্ত নারীদের ৪০ শতাংশই শিক্ষার্থী

news-image

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মোহনা। লম্বা, শ্যামলা, সুন্দরী। তার চোখে-মুখে অনেক মায়া। মায়াবী এই মোহনা সহজেই নজর কাড়তেন যুবকদের।

প্রেমের প্রস্তাব পেতেন অহরহ। বিলাসী জীবনের প্রতি ঝোঁক ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের এই তরুণীর। পরিবারের অমতেই ভালোবেসে ঘর ছাড়েন মুকুল নামক যুবকের সঙ্গে। ঘটনাটি ২০১০ সালের।

মোহনা জানান, মুকুল ভালো চাকরি করেন জানতেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক। যৌথজীবন যাপনে অভাব লেগেই থাকতো। অর্থের জন্য তারকা হোটেলের বিভিন্ন পার্টিতে নাচ করেন মোহনা। কিন্তু মোহনার শরীরের ওজন বাড়ছিল। মোটা দেখাচ্ছিল।

মোহনার ভাষায়, ‘মোটা মেয়েদের পার্টিতে কদর কম। তাই স্লিম হওয়ার জন্য সহকর্মী চিয়ার্সগার্লদের পরামর্শ নিয়ে ইয়াবা সেবন শুরু করি।’

তারপর থেকে স্লিম থাকার জন্যই নিয়মিত ইয়াবা সেবন করেন। ওই সময়ে তার প্রেমিক মুকুলের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। ততদিনে অনেক বন্ধু জুটেছে মোহনার। নিয়মিত পার্টিতে অংশ নেন। বাসা নেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায়।

ততদিনে ইয়াবা সেবন করে স্লিমও হয়েছেন। কিন্তু বিলাসী জীবনযাপনের জন্য আরো অর্থ দরকার। বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য পার্টিতে যৌনসঙ্গী হন অনেকের। ছুটে যান দেশের বিভিন্ন স্থানে। দীর্ঘসময় পুরুষকে আনন্দ দিতে এবং নিজেকে স্লিম রাখতে ইয়াবা সেবন করেন প্রতিদিন। একদিন সেবন না করলে কিছুই ভালো লাগে না। পার্টি, সঙ্গী সব অসহ্য লাগে। ইয়াবা ছাড়া চলে না। এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে যান এই তরুণী।

দীর্ঘ ৭ বছর পর গত ৮ই মার্চ ফোনে মা-বাবাকে জানান তিনি গুরুতর অসুস্থ। বলেন, ‘আমি অনেক অপরাধ করেছি মা। আমি বোধ হয় আর বাঁচবো না। আমাকে তোমরা বাঁচাও।’ বাসার ঠিকানা জেনে মা-বাবা ছুটে যান। বিলাস বহুল ফ্ল্যাটে ঢুকতেই বুঝতে বাকি নেই তাদের আদরের মেয়েটি অন্ধকারের বাসিন্দা। অ্যালকোহলের বোতলে সাজানো ফ্রিজ খুলে তারই প্রমাণ পান। অতঃপর এই তরুণী এখন একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শুধু মোহনায় নয়, তার মতো অনেক শিক্ষার্থী মাদকের ছোবলে আজ চোখে অন্ধকার দেখছে।

সরকারি হিসেবে দেশের ৬০ লাখ মানুষ মরণ নেশায় আক্রান্ত। কিন্তু বাস্তবে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৬,০০,০০০ হচ্ছে নারী। মাদকাসক্ত নারীদের বেশিরভাগ উচ্চবিত্ত পরিবারের। আক্রান্ত নারীদের ৪০ শতাংশ হচ্ছেন শিক্ষার্থী।

২০১৪ সালে দেশে নারী মদ পানকারীর সংখ্যা ছিল ৪,১০,০০০। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪,৯০,০০০ জনে। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ৫,৬০,০০০। বর্তমানে দেশে নারী মদ পানকারীর সংখ্যা ৬,০০,০০০।

মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বারাকা’র এডুকেটর শেফা বলেন, ‘কৌতূহলে, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে, পারিবারিক হতাশার কারণে মাদকাসক্ত হচ্ছে মেয়েরা। মাদক বলতে মূলত ইয়াবা ও গাঁজায় আক্রান্ত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ মেয়েরা স্ল্লিম হওয়ার জন্য ইয়াবা সেবন করছে। পরবর্তীতে আক্রান্ত হয়ে নিজের জীবন ধ্বংস করছে। এমনকি পরিবারকেও ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ মানবজমিন

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে