সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগর ডাকাতিয়া কান্দি ডাকাতদের অভয়াশ্রম

news-image

নাসিরনগর প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের ডাকাতিয়া কান্দি চোর, ডাকাত, মাদক ব্যবসা, দেহ ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগের  সুত্রে জানা গেছে, চাপড়তলা ইউনিয়নের ডাকাতিয়া কান্দি গ্রামের মৃত দুধ মিয়ার ছেলে সফিক মেম্বার (৪২)  তার নেতৃত্বে  গরু চুরি, মাদক ব্যবসা ও দেহ ব্যবসার অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছে। এসব অপকর্মের মূল হোতা (গডফাদার) হিসাবে দীর্ঘ দিন যাবৎ কাজ করছে। তাছাড়াও তার নেত্রিত্বে আরো বেশ কয়েক জন মিলে সমস্ত অপকর্মের মদদ দিচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে পুরোদমে চলছে  চুরি, ডাকাতি, জোয়া, দেহ ও মাদক ব্যবসা। ২ মার্চ ডাকাতির প্রস্তুতি কালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সামসু মিয়া (৪০) ও কাউছার মিয়া (৪১) নামে কুখ্যাত দুই ডাকাতকে জনতার সহযোগিতায় আটক করে। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কালিউতা গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত মাসুম মিয়া, ছোয়াব মিয়া, বেঙ্গাউতা গ্রামের মিজান মিয়া, কানু মিয়া, সরুউল্লাহ সহ অজ্ঞাত নামা আরো অনেকেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। জানা গেছে সামসু মিয়ার বাড়ী হবিগঞ্জ জেলার, মাধবপুর উপজেলার খাউড়া গ্রামে। সামসু মিয়ার নামে মাধবপুর হবিগঞ্জ, লাখাই ও নাসিরনগর সহ বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষনের মামলা রয়েছে। এলাকাবাসি জানায় ডাকাতিয়া কান্দিতে শফিক মেম্বার ও তার ভাইদের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে ডাকাতদের অভয়াশ্রম। এখানে তারাউল্লাহ, বানেশ্বর, রামপুর, বেঙ্গাউতা, হবিগঞ্জ, মাধবপুর, থেকে ডাকাতরা এসে সঙ্গবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে। ওই সময়ে আউয়াল মিয়ার ঘর থেকে একটি, আব্দুল কুদ্দুছের ঘর থেকে একটি ও বাবুল মিয়ার ঘর থেকে একটি মোট ৩টি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকার নুর ধন মিয়া, আজদু মিয়া, এমদদুল্লা, সামছু উদ্দিন চৌধুরী, হোসাইন মিয়া, দুলাল মিয়া, তাহের মিয়া, শরিফ উদ্দিন সহ আরো বেশ কয়েক জন এ প্রতিনিধিকে জানায় চুরি, ডাকাতি, জোয়া, বহিরাগত নারীদের এনে দেহ ব্যবসা বিভিন্ন রাস্তা থেকে তাদের লোকজনের মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে যাত্রিদের আটক করে মুক্তি পন দাবী করে বিকাশের মাধ্যমে অভিভাবকদের নিকট থেকে টাকা এনে ছেড়ে দেওয়া।

টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দের বয়স বাড়িয়ে জন্ম নিবন্ধন, জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবা বাতা প্রদান, ড্রেজারের মাধ্যমে সরকারী খাস জায়গা থেকে মাঠি তুলে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সহ সমস্ত অপকর্মের গডফাদার সফিক মেম্বার। তার ভাই বাবুল মিয়া একজন কসাই। সে চুরাই গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে থাকে। আর এক ভাই ছোয়াব মিয়া একজন ফেনসিডিল ব্যবসায়ি। ছোয়াব মিয়ার নামে ঢাকাতে ফেনসিডিলের মামলা চলমান রয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকার লোকজন অতঙ্কে বসবাস করছে। থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে গেলে পালিয়ে জায়। পুলিশ চলে এলে দেশিয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে এলাকা বাসির ওপর অক্রমন চালায়। এ বিষয়ে থানায় একটি ডাকাতি প্রস্তুতির মামলা রুজু করা হয়েছে। যাহার নং (০২) ০২/০৩/২০১৭। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ কাউছার হোসাইন জানান, শফিক ও কাউছারকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরো ৩ জন সহ মোট ৫ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চাপরতলা ইউপি চেয়ারম্যন মোঃ ফয়েজ উদ্দিন ভুইয়া (পারভেজ মাষ্টার) সহ অনেকেই এ প্রতিনিধিকে জানান সমস্ত চোরাই গরুর রশিদ শফিক মেম্বারের মাধ্যমে কালা মিয়ার ছেলে আনফর আলী টাকার বিনিময়ে দিয়ে থাকে। তারা জানান বর্তমানে ডাকাতদের ভয়ে এলাকাবাসি আতংকে রয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

শেয়ার জালিয়াতির মামলায় আসামি সাহাবুদ্দিন

শাপলা চত্বরে হত্যা মামলায় ৪১ আসামি, তালিকায় হাসিনা-আজিজ-বেনজীর

‘স্পিরিট’-এ দীপিকার বদলে ক্যাটরিনা, বাড়ছে জল্পনা

প্রযুক্তি ও গবেষণায় স্বনির্ভর হতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার

রাজধানীতে আতঙ্ক, সক্রিয় ভাড়াটে খুনিদের তালিকা হালনাগাদ

ঢাকার বায়ুমান আজ সহনীয় পর্যায়ে

থার্ড টার্মিনাল দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন বিমানমন্ত্রী

আন্দোলনে গতি ফেরাতে সক্রিয় হন তারেক রহমান, আসে তিন দাবির আলটিমেটাম

মার্কিন হামলা বন্ধ থাকলে পাল্টা হামলাও বন্ধ রাখবে ইরান

ঢাকায় তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই

সিয়াটলে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আটক সন্দেহভাজন

এক বছর পর চালু হলো ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট