সোমবার, ২৭শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকালে চলে কোচিং, বিকালে চলে দেহব্যবসা!

news-image

অনলাইন ডেস্ক : মধ্য কলকাতায় চেন রেস্তোরাঁর মতো চেন মেসেজ পার্লার! খবরের কাগজ এবং ইন্টারনেটের ক্লাসিফায়েড বিজ্ঞাপন ঘেঁটে ফোন করা হয়েছিল কয়েকটি ম্যাসাজ পার্লারে। উল্টোদিকের কণ্ঠ জানিয়ে দিল, বিশেষ এক জায়গায় পৌঁছে ফোন করতে হবে। সেখান থেকে গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া হবে। কেন? জায়গার নাম বলে দিলেই তো পৌঁছে যাওয়া যায়।

কোনো সাইনবোর্ড নেই? সহাস্য জবাব, বোর্ড টাঙিয়ে কি আর এসব ব্যবসা হয়, স্যার! গড়িয়াহাট অঞ্চলের নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে ফোন করার কয়েকমিনিটের মধ্যেই হেলমেট পরিহিত এক যুবক এসে গেলেন। এ গলি, সে গলি দিয়ে বাইক যেখানে পৌঁছল, সেটি স্ট্যান্ড-অ্যালোন অ্যাপার্টমেন্ট। নিরাপত্তাকর্মীকে টপকে বাইকচালক নিয়ে গেলেন দোতলায়। দরজা খুললেই ছোটদের কোচিং ক্লাস। সবুজ দেয়ালে টাঙানো বাচ্চাদের আঁকা ছবি। এক কোণে ব্ল্যাকবোর্ড। সেখানেই টেবিল নিয়ে বসে আছেন দুজন। কাস্টমারকে নিয়ে একজন ঢুকে গেলেন ভেতরে।

বিরাট হলের চারদিকে তিনটি ঘর। তারই একটি ঘরে ঢোকার পর ডাক পড়ল নবরত্নের। কারও বয়সই পঁচিশের বেশি নয়। এই রত্নদের মধ্যে থেকেই ১৫০০ টাকার বিনিময়ে একঘণ্টার জন্য পাওয়া যাবে একজনকে। টাকার পরিমাণ বাড়ালে দুজনও। ঘরে যে তরুণী ঢুকলেন, তার বয়স ২১। বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। এয়ারপোর্টের কাছে ফ্ল্যাট শেয়ার করে থাকেন তিন বন্ধু। একটি সন্তানও আছে। তরুণী যখন স্কুলপড়ুয়া, তখন থেকে প্রেম। তারপর বিয়ে। স্বামীই তাকে চালান করে দেয়। প্রথমে পুনে, তারপর বেঙ্গালুরু। একটা হোমেও আশ্রয় পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কতদিন আর হোমে থাকা যায়! দেহব্যবসা এখন ওই তরুণীর অভ্যাস হয়ে গিয়েছে। তার বক্তব্য, যৌনপল্লীতে কাজ করলে ও পাড়াতেই থাকতে হয়। ম্যাসাজ পার্লারে কাজ করলে সম্মানজনকভাবে প্রতিদিন অফিসে বেরোনো যায়।

সার্ভিস নিতে অস্বীকার করায় স্পায়ের মতো এখানেও তরুণীটি ভয়ংকর! উল্টে পুলিশ ডাকবেন বলে হুমকি দিতে শুরু করলেন। তাকে, ঘরের বাইরে পাহারায় বসে থাকা লোকটিকে, বাচ্চাদের ছবি-আঁকা ঘরে বসে থাকা আরও দুজনকে প্রায় মুচলেকা দিয়ে তবে মুক্তি! অভিজাত এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাটে এ ধরনের ব্যবসার কথা পুলিশ যে জানে না, তা নয়। ইউনিসেক্স পার্লার এবং আবাসনে যৌনব্যবসা সম্পর্কে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) বিশাল গর্গ বলেন, এ ধরনের অভিযোগে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি মামলাও করা হয়েছে।

আর এনজিও কর্মীরা জানাচ্ছেন, নামগোত্রহীন ম্যাসাজ পার্লার বা আবাসনে যারা কাজ করছেন, শ্রেণিগতভাবে তাদের অবস্থান সমাজের নিচের দিকে। ওই মেয়েদের ঘিরে যে চক্রগুলো কাজ করে, তার কাঠামো অনেকটা যৌনপল্লীর মতোই। যৌনপল্লী থেকেই বহু মেয়েকে ওই সব জায়গায় পাঠানো হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

২ হাজার একর খাসজমি অবৈধভাবে দেওয়ায় ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত

কক্সবাজারে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে দুই বোনসহ নিহত ৩

গ্যাস সংকট কাটতে শুরু করবে আগামী সপ্তাহে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা রাজনৈতিক: পার্থ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠক মঙ্গলবার

যুবদল কর্মী হত্যা: ২৫ লাখ টাকায় ৪ শুটার ভাড়া, দাবি ডিবির

হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে ইসি

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

আইনশৃঙ্খলা উন্নত না হলে বিনিয়োগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ৩৫ দেশে সহজ ভ্রমণ সুবিধা

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে বিজয়ীদের পুরস্কার দিলেন প্রধানমন্ত্রী