,

সাঁইজির বারাম খানায় সাধুর হাট

news-image

কুষ্টিয়া প্র্রতিনিধি : ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়, সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে’ গানে লালন চত্বর মুখরিত হয়ে উঠেছে। লালন চত্বরে লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছে। দেশ-বিদেশ থেকে আগত লালনভক্তরা কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আবাসিক হোটেল বুক করে রাখায় আবাসিক হোটেলেও চরম সিটসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে লালন স্মরণোৎসব উপলক্ষে কালিগাং নদীর পাড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।
সত্য সু-পথের সন্ধ্যানে মানবতার দীক্ষা নিতে আত্মার টানে দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু ও ভক্তরা দলে দলে এসে ভিড় করেছেন সাঁইজির মাজারে। বাউল সম্রাটের মূল উৎসব শুরু হওয়ার সপ্তাহ খানেক আগ থেকে আখড়ায় আসা বাউল সাধকরা মাজারের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে আসন গেড়ে গেয়ে চলেছেন সাঁইজির আধ্যাত্মিক মর্মবাণী ও ভেদ তথ্যের গান। জমজমাট এখন লালন শাহের আখড়াবাড়ি। কুষ্টিয়া পরিণত হয়েছে উৎসবের শহরে।

মরমী সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁই বাঙালির চেতনায় এক অবিস্মরণীয় কালপুরুষ। তাঁর গানের মাঝেই লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য। সৃষ্টিকর্তার সাথে আত্মিক সম্পর্ক তাঁর গানের মূলমন্ত্র। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে একই স্রোতধারায় আনার জন্য আমরণ কাজ করেছেন এ মরমী সাধক। বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের সঙ্গীত আজও আমাদের অনুপ্রাণিত করে।

এ মহান সাধক বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইজির স্মরণোৎসব উপলক্ষে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আঁখড়াবাড়িতে শনিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। সাঁইজির জীবদ্দশায় তার ভক্ত-অনুরাগী শিষ্যরা স্মরণোৎসবের অনুষ্ঠান খুব জাঁকজমকভাবে উৎযাপন করতেন। এবারও তার কোনো ব্যত্যয় হচ্ছে না।

সন্ধ্যা ৭টায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় ও কুষ্টিয়া লালন একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ স্মরণোৎসব লালন একাডেমির সভাপতি, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ লালন একাডেমির কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর নির্মম অত্যাচারে গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনকে যখন বিষিয়ে তুলেছিল, ঠিক সেই সময়ই বাউল সম্রাট লালন শাহর আবির্ভাব ঘটে কুমারখালির ছেঁউড়িয়ায়। লালনের জন্মস্থান নিয়ে নানা মত থাকলেও নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় লালন ফকির ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান।

আর্থিক অসংগতির কারণে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। তবে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিত। যৌবনকালে পূণ্য লাভের জন্য তীর্থ ভ্রমণে বেরিয়ে তার যৌবনের রূপান্তর ও সাধন জীবনে প্রবেশের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। তীর্থকালে তিনি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হলে তার সঙ্গীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করে। পরে একজন মুসলমানের দয়া ও আশ্রয়ে জীবন ফিরে পাওয়ার পর তিনি সাধক ফকির হন। তার স্মরণে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া লালন মাজার চত্বরে উৎসবের আয়োজন করা হয়।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে