মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্দরে বাড়ছে কার্যক্রম, বাড়ছে না সক্ষমতা

news-image

নিজস্ব প্রতিবেদক : পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর প্রায় রেকর্ড গড়ছে। কিন্তু বন্দরের কর্মব্যস্ততার পাশাপাশি পণ্যের পরিমাণ যে হাতে বাড়ছে, তা বিবেচনায় আনা হলে এটাই বলতে হবে, দেশের এই শীর্ষ সমুদ্রবন্দর সক্ষমতার দিক থেকে উপরে ওঠে আসতে পারছে না। বন্দর ব্যবহারকারী, ব্যবসায়ী নেতা ও বন্দরের কর্মকর্তারা এমনটাই মনে করছেন।

 

চট্টগ্রাম চেম্বারের পোর্ট এন্ড শিপিং বিষয়ক স্ট্যান্ডিং সাব-কমিটির আহবায়ক ও চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, বন্দর ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে সক্ষমতার সেই গ্রোথ নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাণিজ্য সামাল দেয়ার অবস্থায় নেই।

মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে আমাদের প্রচুর বিদেশী বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কিন্তু বর্তমান বন্দর দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যাবে না। দেশের আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য সামলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এখনিই উদ্যোগ নিতে হবে। নাহলে সব আয়োজনই মুখ থুবড়ে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে বন্দরের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং। কিন্তু বছর শেষে দেখা গেছে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টিইউএএস। ২০১৫ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টিইইউএস। হ্যান্ডলিং হয়েছে ২০ লাখেরও বেশি। এভাবে প্রতি বছরই বন্দর নিজেদের রেকর্ড ভাঙ্গছে। বাড়ছে বন্দরের কার্যক্রম। কিন্তু সেই অনুপাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বছর কয়েকের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর চাহিদা মেটাতে অক্ষম হয়ে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।

পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর একের পর এক রেকর্ড গড়ছে। শুধু কন্টেইনারই নয়, একইসাথে খোলা পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রেও বন্দর কর্তৃপক্ষ রেকর্ড গড়ছে। গত আট বছরে বন্দরের পণ্য হ্যান্ডলিং একশ’ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু বার বার নানা পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথা বলা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বন্দরের সক্ষমতা ক্রমে কমছে।

আধুনিক শিপিং বাণিজ্যের ধারণার কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, উন্নত বন্দরগুলোতে জেটি ব্যবহারের হার ৬০ শতাংশে নির্ধারণ করে রাখা হয়। ব্যবহার এর থেকে বাড়তে থাকলে নয়া জেটিসহ অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর ইন্টারন্যাশনাল এই স্টান্ডার্ড অনুসরণ করছে না। তারা বলেন, বন্দরে ১৩টি কন্টেইনার জেটির মধ্যে বর্তমানে গড়ে ১০টিতে জাহাজ বার্থিং দেয়া যায়। অপরদিকে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের জন্য নির্ধারিত ছয়টি জেটি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে দুটি জেটির নাব্যসহ বেশ কিছু সমস্যা থাকায় পুরোপুরি ব্যবহার করতে কষ্ট হচ্ছে।

তাই প্রয়োজনীয় জেটির অভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা জাহাজগুলোকে প্রয়োজনের বেশি সময় অবস্থান করতে হচ্ছে। জাহাজের অবস্থানকাল বাড়ার সাথে সাথে খরচও বাড়ছে। এই বাড়তি অর্থের যোগান দিতে হচ্ছে দেশের সাধারণ ভোক্তাদের।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এটি এখনো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া গত প্রায় দশ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে কোন জেটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং এরমধ্যে সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজের জন্য নির্ধারিত এক নম্বর জেটি প্রায় পুরোপুরি অচল এবং দুই নম্বর জেটিরও নাব্য কমে গেছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান ছয়টি জেটি ভেঙ্গে কর্ণফুলী কন্টেইনার টার্মিনাল বা কেসিটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল ২০০৫ সালে। এক যুগ গত হতে চললেও প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি। পতেঙ্গায় লালদিয়ার চরে ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘লালদিয়া বাল্ক টার্মিনাল’ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। তাও থমকে গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ পদস্থ একজন কর্মকর্তা নিজেদের সক্ষমতা ক্রমে কমার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের মাস্টারপ্ল্যানের ২০১৬ সালে এনসিটি পুরোদমে চালু করার কথা ছিল। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতায় তা হয়ে উঠেনি। ২০১৮ সালে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যে যে পরিমাণ কন্টেইনার এবং খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হবে তা আমাদের সক্ষমতা ছাড়িয়ে যাবে বলেও মাস্টার প্ল্যানে বলা হয়েছে। এজন্য ২০১৯ সালের আগেই নতুন কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের উপর জোর দেয়া হয়েছে প্ল্যানে। ২০২৩ সালের মধ্যে নতুন বন্দর হিসেবে বে-টার্মিনাল নির্মাণের কথাও বলা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যানে নানা কথা বলা হলেও কার্যত চট্টগ্রাম বন্দর প্রতিদিনই সক্ষমতা হারাচ্ছে।’

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের