,

জীবিকার আশায় বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা

rohingyaনিউজ ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের ওপর সেদেশের সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়ন কিছুটা কমে এলেও আতঙ্ক কাটেনি তাদের। খাদ্য সংকট ও যেকোনো মুহূর্তে সেনাদের হামলা-নির্যাতনের ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন রোহিঙ্গা গ্রামগুলোর বাসিন্দা। তার ওপর গ্রামের পর গ্রাম পুরুষশুন্য হয়ে পড়েছে।

সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বেঁচে থাকার তাগিদেই আগ-পিছ না ভেবে বাংলাদেশের সীমান্তে এসে ভিড়ছেন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ-শিশুরা। নানাভাবে ঢুকেও পড়ছেন বাংলাদেশের সীমানায়। রোহিঙ্গারা আশা করছেন, বাংলাদেশে একবার ঢুকতে পারলে অন্তত কিছু একটা করে জীবন চালাতে পারবেন।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার এমন ১৫টি গ্রামের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরুষরা হত্যার ভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছেন। ফলে রোহিঙ্গা পরিবারগুলোতে চরম খাদ্য সংকটের দেখা দিয়েছে। এছাড়া মংডু শহরের সঙ্গে অন্যান্য এলাকার যোগাযোগও প্রায় বিচ্ছিন্ন। মিয়ানমারের সেনারা ঘরে ঘরে অভিযান চালিয়ে তরুণী-যুবতীদের তুলে এসে পাশবিক নির্যাতন করছে।

রোহিঙ্গারা আরও জানান, সরকারিভাবে তাদের সাহায্যের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এমনকি, ভিন্নপথে মানবিক সাহায্যের কোনো সুযোগ নেই। তবে সরকারি সহায়তায় সীমিত জায়গায় ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডাব্লিউএফপি) সহায়তা দিলেও তা খুবই সামান্য। ফলে এসব কারণে তারা সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশে চলে আসছেন।

এদিকে, মিয়ানমারের ওই এনজিও কর্মকর্তার উদ্বৃতি দিয়ে তারা আরো জানান, মংডুতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এসবের মধ্যে স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার জন্য রয়েছে এসিএফ, এমএসএফ ও মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনাল, প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে কেয়ার, খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে ডাব্লিউএফপি, সুরক্ষা নিয়ে ইউএনএইচসিআর এবং অভিবাসন নিয়ে আইওএম। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে কাজকর্ম করতে না পেরে অর্ধাহারে-অনাহারে থাকা মানুষেরা বাংলাদেশে পাড়ি দেওয়া অনেক সুবিধাজনক মনে করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের চেয়ারম্যান ডা. দুদু মিয়া বলেন, ‘মংডুতে আগের তুলনায় সেনা নির্যাতন কমে আসার তথ্য সদ্য ক্যাম্পে আসা লোকজন থেকে জানা গেছে। তবে সেখানে কোনো কাজ না থাকায় আয়-রোজগার করতে পারছে না গরিব রোহিঙ্গা পরিবারগুলো। বাংলাদেশের ক্যাম্পে এলে কিছু সহযোগিতা মিলবে এমন আশায় এখনো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে।’

লেদা অনিবন্ধিত শিবিরে কয়েক দিন আগে আসা আমিনা বেগম বলেন, ‘পরিবারের আটজন সদস্য। আয়-রোজগারের কোনো রাস্তা খোলা নেই মংডুতে। ছেলেমেয়েদের খাবার দিতে পারি না। নদীতে মাছও ধরতে পারি না। তাই বাংলাদেশে আসা। এখানে দৈনিক কাজকর্ম করে অন্তত সংসার চালাতে কষ্ট হবে না।’

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে