মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্তির পথে পাহাড়ি এলাকার মাটির ঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পাহাড়ি অঞ্চলের মাটির ঘরগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বলে বেশ পরিচিত। কারণ এটি শীত ও গরম মৌসুমে বেশ আরামদায়ক। চারপাশে মাটির দেয়াল, ছাউনিতে ব্যবহার করা হতো ছন। বেশিদিন আগের কথা নয়, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিটি পাড়ায় এক সময় মানুষের নজর কাড়তো সুন্দর এ মাটির ঘর। আদিবাসীরা বাসস্থান হিসেবে বেছে নিত এ ঘরকেই।

image-10913
কিন্তু কালের আবর্তনে দালানকোঠা আর অট্টালিকার কাছে হার মানছে এই চিরচেনা মাটির ঘর। মাটির ঘর বসবাসের জন্য আরামদায়ক হলেও যুগের পরিবর্তনে অধিকাংশ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী মাটির ঘর ভেঙে অধিক নিরাপত্তা ও স্বল্প জায়গায় অনেক লোকের বসবাসের জন্য ইটের ঘর করছে।

রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার হেডম্যান চিংকিউ ওয়াজার কাছে জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই মাটির ঘরের প্রচলন ছিল এ অঞ্চলে। এঁটেল বা আঠালো মাটি কাদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হতো। ১০-১৫ ফুট উঁচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় অথবা টিনের ছাউনি দেয়া হতো।

তিনি আরো জানান, মাটির ঘর অনেক সময় দোতলা পর্যন্ত করা হতো। একটি ঘর তৈরি করতে আমাদের এক মাসেরও বেশি সময় লাগতো। সৌখিন আদিবাসী নারীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে তুলতেন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য বাঞ্ছিতা চাকমা জানান, এক সময় পাহাড়িরা মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো। তবে বর্ষার সময় মাটির ঘরের ক্ষতি হয় বেশি। ভূমিকম্প বা বন্যা না হলে একটি মাটির ঘর শত বছরেরও বেশি স্থায়ী হয়।

দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়িরাও এখন ঝুঁকছে ইট আর লোহা-সিমেন্টের পাকা বাড়ি নির্মাণের দিকে। এ অবস্থায় মাটির ঘর বিলুপ্ত হতে চলেছে। তবে মাটির সঙ্গে পাটের আঁশ, প্রয়োজনীয় কংক্রিট, তক্তা ও বাঁশের ফলা ব্যবহার করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম মাটির বাড়ি বানানো যায়। এক্ষেত্রে মানুষকে মাটির বাড়ির গুণগত মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সচেতন ও আগ্রহী করে তুললে হয়তো ভবিষ্যতে টিকে থাকবে পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের