,

শেষ বছরগুলোতে ইরাক শাসন করেননি সাদ্দাম!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :২০০৩ সালের ৩ ডিসেম্বর ইরাকের আদ-দাওর শহরের একটি গর্ত থেকে দখলদার মার্কিন বাহিনী টেনেহিঁচড়ে বের করে সাদা দাড়িওয়ালা রোগাভোগা এক বুড়োকে।ইরাকের পতিত স্বৈরশাসক সাদ্দাম সন্দেহে তাকে ধরা হলেও এই বুড়োই সাদ্দাম কি না, নিশ্চিত হতে পারছিল না ওরা। শেষে ডাকা হলো জন নিক্সনকে। এই ব্যক্তি হলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর একজন এনালিস্ট এবং সাদ্দাম-বিশেষজ্ঞ।

image-10785

জন নিক্সন এলেন এবং সাদ্দামের পরিচয় নিশ্চিত হতে তাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করলেন। জন নিক্সনই হলেন নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক সাদ্দামকে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদকারী। বেশ কিছু প্রশ্ন করে এবং একটি পুরনো ক্ষতচিহ্ন ও শরীরে আঁকা দু’টি উপজাতীয় উল্কি দেখে ধৃত ব্যক্তিকে সাদ্দাম বলে সনাক্ত করেন নিক্সন।

ওই ঘটনা নিয়ে সম্প্রতি একটি বই লিখেছেন নিক্সন।ডিব্রিফিংপ্রেসিডেন্ট : দ্য ইন্টারোগেশন অব সাদ্দাম হোসেন নামের বইটি আগামী ২৭ ডিসেম্বর বাজারে আসবে।
সাদ্দাম হোসেনকে নিক্সন প্রশ্ন করেন, আপনার ছেলেদের সঙ্গে সর্বশেষ কবে দেখা হয়েছে ?

এ প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি, তোমরা কারা? তোমরা কি ইন্টেলিজেন্সের লোক? জবাব দাও। নিজেদের পরিচয় দাও।

তাঁকে কিছু প্রশ্ন করা হবে শুনে নড়েচড়ে বসেন এবং অভিযোগের ঝাঁপি খোলেন সাদ্দাম হোসেন। বলেন, তাকে যথাযোগ্য মর্যাদাসহকারে গ্রেফতার করা হয়নি।

দিনভর জিজ্ঞাসাবাদে সাদ্দাম একদিকে প্রচুর কথা বলেন, অন্যদিকে তার জবাবগুলো ছিলো ধূর্ততায় ভরা। তবে এর মধ্য দিয়ে নিক্সন আবিস্কার করেন, শেষ বছরগুলোতে দেশের সামরিক বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ছিলেন সাদ্দাম। তিনি বলেন, সাদ্দাম উপন্যাস লেখায় ব্যস্ত ছিলেন, তিনি আর সরকার চালাচ্ছিলেন না। অন্যকথায় বলতে হয়, ‘পাগল ও শয়তান লোকটি’ তার প্রতিবেশী দেশকে আক্রমণের পরিকল্পনা করেননি।

নিক্সন তার বইতে লিখেছেন, সাদ্দামের কথা শুনে মনে হয়েছে ইরাকের ভেতরে কী হচ্ছে তা তার ব্রিটিশ ও আমেরিকান শত্রুরা যতোটা জানতো, সাদ্দাম তাও জানতেন না। সরকার কী করছে সেদিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না এবং ইরাককে রক্ষার প্রস্তুতি নেয়ার কোনো বাস্তব পরিকল্পনাও ছিল না।

নিক্সন আরো লিখেছেন, ওই সময়েই সাদ্দাম এক মার্কিন কর্মকর্তাকে বলেছিলেন, তোমরা ব্যর্থ হবে। শিগগিরই দেখবে, ইরাক শাসন এতো সোজা নয়।

নিজের দুই ছেলের কথা উঠতেই চোখে পানি চলে আসে সাবেক এই নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের। বলেন, তারা আমাকে খুব ভালোবাসতো, আমিও ওদের খুব ভালোবাসতাম।

সামিরা শাহবন্দর নামে এক বিমানবালাকে দ্বিতীয় স্ত্রীরূপে গ্রহণ করেন সাদ্দাম। তার গর্ভে আলী নামে তাদের এক সন্তান আছে বলেও গুজব ছিল। এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাতর হয়ে যান সাদ্দাম। বলেন, আমি যদি বলি ‘হ্যা’ তাহলে তোমরা ওকেও উদয় ও কুসাইয়ের মতো মেরে ফেলবে না তো?

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে