মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিতে রাজি ছিল পাকিস্তান : কিসিঞ্জার

kisingarডেস্ক রিপোর্ট : হেনরি কিসিঞ্জার১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিতে রাজি হয়েছিল পাকিস্তান। নভেম্বর মাসে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত হন,পরের বছর ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার দাবি মেনে নিতে। সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।

দ্য আটলান্টিক সাময়িকির সর্বশেষ সংখ্যায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিসিঞ্জার স্বীকার করেছেন, নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাকিস্তান সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম নৃশংসতার বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কোন্নয়নে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্যই এটা করা হয়েছিল।

সাক্ষাৎকারে কিসিঞ্জার জানান, ‘বাংলাদেশ সংকট ছিল মূলত বাঙালিদের পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার পদক্ষেপ। পাকিস্তান তা চরম সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।’ তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে এসবের নিন্দা করতে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেত। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়ন হতে আরও কয়েক মাস সময় দরকার ছিল।’
কিসিঞ্জার জানান, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নকে কূটনৈতিকভাবে দুর্বল করা এবং শান্তির জন্য চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কোন্নয়নকে আবশ্যক বলে বিবেচনা করেছিল নিক্সন প্রশাসন।’

কিসিঞ্জার বলেন, ‘বাংলাদেশ ট্র্যাজেডির নৃশংসতা প্রত্যক্ষ করা মার্কিন কূটনীতিকরা চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়ে জানতেন না। তাদের বর্ণনা ছিল আন্তরিক ও যৌক্তিক। কিন্তু আমরা প্রকাশ্যে কোনও সাড়া দিতে পারিনি।’ তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর খাদ্যের ব্যবস্থা করে এবং সংকট উত্তরণে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয় বলে জানান তিনি।

কিসিঞ্জার বলেন, ‘পাকিস্তানের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পর যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার জন্য একাধিকবার আহ্বান জানায়। নভেম্বরে নিক্সনের সঙ্গে আলোচনায় পরবর্তী বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিতে একমত হন পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সামরিক চুক্তির পর এবং শরণার্থী সংকট কাটাতে পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) অভিযান শুরু করে ভারত।’

কিসিঞ্জার জানান, ‘ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সোভিয়েত চাপ, ভারতের উদ্দেশ্য, চীনের সন্দেহ ও পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিষয় নিয়ে ভাবতে হয়েছে।’

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সমন্বয় করতেই হতো এবং তার জন্য নতুন কিছু দরকার ছিল। কিন্তু ফলাফল নিয়ে কোনও দুঃখপ্রকাশের সুযোগ ছিল না। সংকট শুরু হওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শেষ হয়ে যায় এবং ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেইজিংয়ে একটি সম্মেলনে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। সবই ঘটে ১৯৭২ সালের মার্চের আগেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭২ সালের মে মাসে মস্কোতে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৭৪ সালের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপিত হয় মার্কিন-ভারত যৌথ কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে। যা এখনও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।’

১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সমর্থন করে কিসিঞ্জার বলেন, ‘সিরিয়া, লিবিয়া, মিসর, ইরাক ও আফগানিস্তানে যা ঘটছে ,সে তুলনায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ যে ত্যাগ করেছে, সেটার অনেক বেশি সুস্পষ্ট সমাপ্তি ছিল।’ বাংলা ট্রিবিউন

এ জাতীয় আরও খবর

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত

এলপিজি ও ডিজেল ভর্তুকিতে নতুন কার্ড চালুর উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সিইসির বৈঠক ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে

স্বর্ণের দাম আবার কমল ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশীয় চিকিৎসা যন্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

আহত জুলাই যোদ্ধার নবজাতকের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব ব্যবসায়ীদের