বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে ঢাকার উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে সৃষ্ট মানবিক সংকটে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে তলব করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে এ উদ্বেগ জানানো হয়। অবিলম্বে সেখানকার নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানোর তাগিদও দেয় ঢাকা।

full_430521693_1432126464

গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) কামরুল আহসানের কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় আধাঘণ্টার বেশি সময় সচিব-রাষ্ট্রদূত কথা হয়। বৈঠক শেষে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সচিব কামরুল আহসান মানবজমিনসহ সাংবাদিকদের বলেন, রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের কাছে আমরা আমাদের উদ্বেগ তুলে ধরেছি। সেখানকার লোকজনের দেশে ফিরে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে আমরা তাদের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে বলেছি। আমরা স্পষ্ট করেই বলেছি, মিয়ানমারে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে যারা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বর্ডারে এসেছে এবং বাংলাদেশে ঢুকার চেষ্টা করছে তারা যেন নিজ নিজ বসত ভিটায় ফিরতে পারে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতের হাতে একটি কূটনৈতিক পত্র (এইড মেমোয়ার) দেয়া হয়েছে বলেও জানান সচিব। রোহিঙ্গাদের নিয়ে সীমান্তে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তাতে বাংলাদেশ খুব উদ্বিগ্ন জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা মনে করি এই সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই হওয়া উচিত। বাংলাদেশ রাখাইন অঞ্চলে হত্যা, অগ্নিসংযোগ বা কোন ধরনের নির্যাতন বাংলাদেশ দেখতে চায় না। বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কি বলেছেন? জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ ওই কর্মকর্তা বলেন, তারা বরাবর যা বলেন রাষ্ট্রদূতও তা-ই বলেছেন। তার দাবি রাখাইন বিষয়ক রিপোর্টগুলো ফেব্রিকেটেট। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও ছবিগুলো রাষ্ট্রদূতকে দেখানো হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে সচিব কামরুল আহসান কোন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। গত মাস থেকে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলা চলছে। সেখানে আন্তর্জাতিক ত্রাণকর্মীদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এ হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যটিতে জঙ্গি নিধনের নামে নির্বিচারে হত্যা, নারী ও শিশুদের নির্যাতন এবং বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।

রাখাইন থেকে মরিয়া হয়ে আসা জনস্রোত থামান: এদিকে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলবের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সচিব কামরুল আহসান রাষ্ট্রদূতকে বলেন, রাখাইন প্রদেশ থেকে মরিয়া হয়ে মানুষজন নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের আশায় বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। এ অনুপ্রবেশ বন্ধে আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, নারী-শিশু ও বৃদ্ধসহ মিয়ানমারের হাজার হাজার পীড়িত মানুষ বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম অব্যাহত রেখেছে। খবর এসেছে বিভিন্ন সীমান্ত ক্রসিং-এ আরও হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। সীমান্তের অখন্ডতা নিশ্চিতে ও রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সচিব মিয়ানমারকে অনুরোধ করেন। তিনি মিয়ানমারের গণমাধ্যমে মিয়ানমারের ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়ানোর প্রবণতার প্রতিবাদ জানান। সচিব মিয়ানমারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি বিবেচনা করে রাখাইন প্রদেশে চলমান সামরিক অভিযানের সময় বাছবিচারহীন ও অনুপাতহীন বল প্রয়োগ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। আইনের শাসন ও যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাবিপত্তি ছাড়াই কাজ করতে দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তার সরকারকে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়, যাতে রাখাইন প্রদেশের মুসলিম সংখ্যালঘুরা সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয়। রাখাইন প্রদেশের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। যাতে করে যারা ইতিমধ্যে সীমান্ত পেরিয়েছে ও যারা পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে, তারাসহ অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু মানুষজন স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে নিজেদের গ্রামে কোনো ভয় ছাড়াই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে ফিরতে পারে। সচিব মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপের ফলে মানুষের করুণ দুর্দশা ও অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের ওপর এসবের প্রভাব নিয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন।

পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক মিশনগুলোকে ব্রিফ করার নির্দেশ: রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিরক্তও বটে। সেখানে একটি বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা বহুদিনের উল্লেখ করে সরকারের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল মানবজমিনকে বলেন, আমরা এখন আর এ নিয়ে রাখঢাক করতে চাই না। এ পরিস্থিতির দায় মিয়ানমারের, বাংলাদেশ কেন বছরের বছর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবে? এমন প্রশ্ন রেখে ঢাকার এক কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোকে ওইসব দেশের হেড কোয়ার্টারকে পরিস্থিতি সম্পর্কে জরুরি ভিত্তিতে ব্রিফ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতও মানবজমিন-এর সঙ্গে আলাপে ঢাকার ওই নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। বলেন, সরকারের তরফে বিদেশে সব মিশনকে এ নিয়ে নিজ নিজ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে ব্রিফ করতে বলা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানাতে ঢাকা নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান ওই রাষ্ট্রদূত। গত অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে যে মানবিক সংকট তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে যে রাষ্ট্রীয় মদত রয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র দপ্তরে এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক সরকারের উচিত এটি এখনই বন্ধ করতে উদ্যোগ নেয়া। মিয়ানমারের পরিস্থিতি মূল্যায়নে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। সীমান্ত খোলা রাখার ব্যাপারে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্রের বক্তব্য নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। তবে রোহিঙ্গাদের প্রশ্নে সরকার আগের অবস্থানেই রয়েছে। নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তবে কেউ সেই চেষ্টা করলে মানবিক আচরণ করেই তাকে ফেরত পাঠানো হবে।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারেই দেখতে চায় বাংলাদেশ: এদিকে বাংলাদেশে নয়, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান এর উৎস মিয়ানমারের অভ্যন্তরে খুঁজতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিবাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন জিএফএমডি’র প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করতে আয়োজিত গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এ অভিমত ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ১০ই ডিসেম্বর তিনদিনব্যাপী গ্লোবাল ফোরাম ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (জিএফএমডি) সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এতে বিশ্বের ৭৩টি দেশের ২০ জন মন্ত্রীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় সাড়ে পাঁচশ’ প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানান সচিব। জিএফএমডি’র প্রস্তুতি নিয়ে অবহিত করতে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওই আয়োজনে মুখ্য আলোচ্য হয়ে ওঠে রোহিঙ্গা বা রাখাইন পরিস্থিতি। সেখানে এ নিয়ে অন্তত ডজন খানেক প্রশ্নের জবাব দেন সচিব। সেখানে মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে যা যা করা প্রয়োজন, সবকিছুই করছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সংকট সৃষ্টির আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়নমারের প্রেসিডেন্ট এবং স্টেট কাউন্সিলরের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনায় রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা হয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন ধরনের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে কথা বলেছেন জানিয়ে সচিব বলেন, আমি নিজেও পাঁচবার মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সবকিছুই খোলাখুলিভাবে আলোচনা হয়েছে। অনেকটা মিডিয়া জানে কিছুটা জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সচিব বলেন, আমরা সমস্যাটার মূলে সমাধান চাইছি। মিয়ানমার পরিস্থিতি বিশেষ করে একটি এলাকায় সঙ্কট সৃষ্টি করে একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীকে ভিটে মাটি ছাড়তে বাধ্য করা আর নিয়মিত অভিবাসনকে এক সঙ্গে মেলানো ঠিক হবে না উল্লেখ করে সচিব বলেন, নিয়মিত অভিবাসনে দল বেঁধে পুরো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে যায় না। পরিবার নিয়ে কেউ পালিয়ে যায় না। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জিএফএমডি’র সঙ্গে এ বিষয়টি মেলানো ঠিক হবে না। জিএফএমডি মাইগ্রেশন বা অভিবাসন বিষয়ক একটি বৈশ্বিক সম্মেলন, এটা দ্বিপক্ষীয় বা আঞ্চলিক কোন ইস্যু নিয়ে আলোচনার ফোরাম নয়। এবারের জিএফএমডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সচিব বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায় অভিবাসন ইস্যুতে এখন একটি গ্লোবাল কমপ্যাক্ট প্রণয়ণে একমতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের প্রস্তাব। এর মাধ্যমে অভিবাসন, শরণার্থী ও মানবপাচার বিষয়ক সমস্যার ব্যাপকভিত্তিক সমাধান খোঁজা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত