,

১৯ জেলায় ৬০ হাজার দরিদ্র পরিবার ঘর পাচ্ছে

doridroনিউজ ডেস্ক : উপকূলীয় অঞ্চলসহ ১৯ জেলায় অসহায় দরিদ্র ৬০ হাজার পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে কোন কোন পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া দরকার তা জানতে চেয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তালিকা অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে। আর রাজস্ব খাত থেকে এসব ঘর নির্মাণের অর্থ খরচ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যেসব জেলার অসহায় হতদরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে সেসব জেলাগুলো হলো সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালামনিরহাট, সুনামগঞ্জ, জামালপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী. টাংগাইল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, চাদপুর এবং রাজশাহী জেলা। জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ শাহ্ কামাল বলেন, সরকার দেশের ১৯টি জেলার ৬০ হাজার পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেবে। বিশেষ করে যেসব এলাকা দূর্যোগপূর্ন ওইসব এলাকার দারিদ্র পরিবারকে ঘর তৈরি করে দেয়া হবে।এ ক্ষেত্রে যাদের ঘর জলচ্ছ্বাসে ডুবে যায় তাদের ঘর উচু করে দেয়া হবে। আবার যাদের ঘর একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে তাদের ঘর তৈরী করে দেয়া হবে। তিনি জানান, তিনটি ক্যাটাগরিতে ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। প্রথমত অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী পরিবার। দ্বিতীয়ত যেসব পরিবারে মহিলা প্রধান কিন্ত আয় নেই এবং সর্বশেষ যেসব পরিবারে ৬৫বছর বয়স উর্ধ্ব পুরুষ আছে কিন্তু কর্মক্ষম নয় তাদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়া হবে।

এদিকে বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ন দেশ। এ দেশে বন্যা, খরা, জলচ্ছ্বাস, ঘূর্নিঝড়, অতিবৃষ্টি এবং অনাবৃষ্টি লেগেই থাকে। এছাড়া নদীভাঙ্গন একটি নিত্যদিনের সমস্যা। বেশ কয়েক বছর আগে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে হয়েছিল সিডর এবং আইলা। এসব কারনে অনেক পরিবার বাস্তুচ্যূত হয়ে পড়ে। এদের কিছু অংশ শহরের বস্তি ও ফুটপাতে আশ্রয় নেয়। আর বাকীরা আবার হারভাঙ্গা পারিশ্রম করে ঘর তৈরি করে কিন্ত পরবর্তী বছরই আবার প্রাকৃতি দুর্যোগে তা শেষ হয়ে যায়। কখননোই তারা মাথাগোজার ঠাই ঠিক রাখতে পারে না। তাই তাদের প্রতিবছর শুধু আশ্রয়স্থলের জন্যই জীবন যুদ্ধে কাটে।কোনো সঞ্চয়ের চিন্তাই করতে পারে না তারা। অর্থাৎ জীবন যেখানেই ছিল সেখানেই থেকে যায়। ভাগ্যের একটুও পরিবর্তন হয় না। এ সম্পর্কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রত্যোক বছর যখন দুর্যোগ হয় তখন ওইসব পরিবারের ঘরটার ক্ষতি বা পুরোটাই ধ্বংস হয়ে যায়। তাই তাদের প্রতি বছরই গৃহ নির্মান সহায়তা দিতে হয় এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে। এভাবেই তাদের প্রতি বছর কেটে যায় কিন্ত দারিদ্রতা থেকে বের হতে পারে না।

এ অবস্থায় যদি তাদের নির্ভরযোগ্য ঘর থাকে তাহলে দরিদ্র থেকে তাদের বের হওয়া সম্ভব। তাই তাদের জন্য সরকার ৬০ হাজার গৃহ নির্মান করে দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার যে পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে হলে গৃহ নির্মান করে দিতে হবে। আর ২০১৮ সালে অতিদরিদ্র সীমা ৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে হলে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। এদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ কোটি ৮৫ লাখ লোক দরিদ্র সীমার নীচে বাস করছে। এই সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ২৪দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৭ লাখ লোক অতি দরিদ্র অর্থাৎ দেশের ১০ দশমিক ৬৪ শতাংশ মানুষ অতিদরিদ্র। দেশের এই বিশাল জনসংখ্যার আর্থিক উন্নতি না ঘটাতে পারলে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব নয়। সরকারের গৃহ নির্মান পরিকল্পনা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে