,

মাদকের নীল ছোবলে ঢাকার পথশিশুরা

00000-400x347যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে শিশুরা সে বয়েসে নেশায় জড়িয়ে পড়ছে, আমাদের দেশের শিশু-কিশোররা। জীবন জীবিকার তাগিদে বস্তা হাতে নিয়ে তারা কুড়িয়ে চলেছে বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্য ও লোহালক্কড়। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত নোংড়া অলি গলিতে পড়ে থাকা পলিথিন ও প্লাস্টিক পাত্র কুড়িয়ে বিক্রি করে চলে তাদের জীবন। এসব শিশুরা নোংড়া পাত্র কুড়াতে কুড়াতে এক পর্যায়ে মাদকের নীল নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছে। ধুকে ধুকে চলছে তাদের জীবন জীবিকা।
রাজধানীর কমলাপুর রেলষ্টেশন ও রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকার রেল লাইনের পাশে পলিথিন মুখে নিয়ে নিঃশ্বাস নিতে দেখা যায় কয়েকজন ১০-১২ বছরের শিশুদের। এই মাদকের নাম ড্যান্ডি, যা চামড়া জোড়া লাগানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাইকোর্ট, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্বর, চাঁনখারপুল, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, সায়েদাবাদ, গাবতলী বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থানে খুব সহজেই দেখা মেলে মাদকাসক্ত এসব পথশিশুর।
রাজধানীর কমলাপুর রেলষ্টেশনে কয়েক পথশিশুকে ড্যান্ডি ও গাজা সেবন অবস্থা দেখা যায়। তাদের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে একজন জানায়, তার নাম সুমন। বয়স ৮ বছর হবে। সুমন জানায়, তার মা মারা যাওয়ার পর বাবা আরও একটি বিয়ে করেছেন। সৎ মা তাকে ভাল চোখে দেখতেন না। শুধু মারধর করতেন। এক সময় রাগ হয়ে সে ঢাকায় চলে আসে। এরপর কাগজ ও ভাঙ্গাড়ি টোকানোর কাজে যোগ দেয়। সেই সঙ্গে বিড়ি, সিগারেট ও ড্যান্ডি সেবনে আসক্ত হয়ে পরে।
ড্যান্ডি খেলে কী হয় জানতে চাইলে জনি নামে অপর এক পথশিশু জানায়, ড্যান্ডিতে শরীরে শক্তি আসে। কাজ করতে ভাল লাগে। কোন খারাপ লাগে না। অনেক কাজ করা যায়। তা ছাড়া এর দাম বেশি না হওয়ায় তাদের কিনতে কোন অসুবিধা হয় না। আর না খেলে শরীর ভারি হয়ে যায়। ঝিমুনি আসে। কাজ করতে মন চায় না। ড্যান্ডি কোথায় পাওয়া যায়Ñ জানতে চাইলে জনি জানায়, ঢাকা শহরের যে কোন হার্ডওয়্যারের দোকানে পাওয়া যায়। বিশেষ করে নিমতলীর আনন্দবাজারে।
পথশিশুরা জানায়, কোন পথশিশু ড্যান্ডি খেতে না চাইলে মহাজনরা (যাদের কাছে কাগজ ও ভাঙ্গাড়ি বিক্রি করে) জোর করে তাদের ড্যান্ডির প্রতি আসক্ত করে তোলে। কারণ ড্যান্ডি সেবন করে কাজে বের হলে একজন শিশু অনেক বেশি কাগজ ও ভাঙ্গাড়ি সংগ্রহ করতে পারে। আর তাই বাড়তি টাকা আয় করার জন্য মহাজনরা অনেকটা জোর করেই তাদের নেশায় আসক্ত করে তোলে।
বাংলাদেশে ঠিক কোন জন শিশু কিশোর এই মাদকের জালে আটকা পড়েছে, তার হিসাব জানা নেই। এমন কি সরকারের কাছেও সারাদেশে কতজন মাদকাসক্ত রয়েছে, সে বিষয়ে কোন হিসাব নেই। শুধুমাত্র আইসিডিডিআরবি ও বেসরকারি সংস্থা মোস্ট অ্যাট রিস্ক অ্যাডোলেসেন্ট (এমএআরএ)-এর তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে মোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার পথশিশু রয়েছে। যাদের মধ্যে রাজধানীতেই আছে ৩ লাখেরও বেশি পথশিশু। এসব পথশিশুর মধ্যে অধিকাংশই মাদকাসক্ত। তাদের সংস্পর্শে এসে প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন মাদকাসক্তের সংখ্যা।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য মতে, পথশিশুদের ৮৫ ভাগই কোন না কোনভাবে মাদক সেবন করে। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ হেরোইন, ৪৪ শতাংশ ধূমপান, ২৮ শতাংশ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ৮ শতাংশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নেশা করে। সংগঠনটির তথ্য মতে, ঢাকা শহরে কমপক্ষে ২২৯টি স্পটে ৯ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুরা মাদক সেবন করে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশু কিশোররা নানানভাবে মাদকাসক্তে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের আক্রিস্ত করতে মাদক ব্যবসায়ীরা নানান প্রলোভন দেখাচ্ছে। এসব শিশু-কিশোরদের সামাজিকীকরণ হচ্ছে না। যার কারণে তারা সুনাগরিক হিসেবেও গড়ে উঠছে না, ফলে অপরাধ প্রবণতা ক্রমাগতই বেড়ে যাচ্ছে। সুষ্ঠু সমাজ গড়তে এসব শিশু-কিশোরদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। কিন্তু আমাদের দেশে এসব মাদকাসক্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবার জন্য নেই পর্যাপ্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি ব্যবস্থা।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে