,

ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। এ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপি ‘ভূল’ করেছে বলেও দাবি অনেকের। আর এই ‘ভূলের’ কারণে বিএনপিকে দিতে হচ্ছে খেসারত। বর্তমানে কঠিন সময় পার করছে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি। এই কঠিন সময় মোকাবেলা করে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, এ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

12

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে ‘অবৈধ নির্বাচন’ বলে দাবি করে নির্বাচন ঠেকানোর অনেক চেষ্টা করেছিল দলটি। দাবি আদায়ে দল থেকে দেয়া হয়েছিল টানা অবরোধও। তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের মুখে অঘোষিতভাবেই বন্ধ হয়ে যায় অবরোধ কর্মসূচী।। যা নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলের নেতাদেরকে।

বর্তমানে ‘পদ’ আর বিভিন্ন কারণে কোন্দল এবং গ্রুফিং রয়েছে বিএনপিতে। যার কারণে আস্তে আস্তে দুর্বল হচ্ছে একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা দলটি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানালেও পাত্তা দিচ্ছে না সরকার। সরকারে থাকা দল আওয়ামীলীগ বলছে, ২০১৯ সালেই হবে নির্বাচন। আর নির্বাচন হবে সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ীই।

আর বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে দলীয় কোন্দল, গ্রুপিংসহ নানামুখী সমস্যা সমাধান করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সফলতা পাবে কি না, সে বিষয়েও রয়েছে সংশয়। আর এ অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে আরও বেকায়দায় পড়ে যাবে বিএনপি।

দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর অনেকেই মনে করেছিল, আবারো চাঙ্গা হবে বিএনপি। তবে কাউন্সিলের পর বেশ কয়েকজন নেতার পদত্যাগ আর ‘যোগ্য পদ’ পাওয়া নিয়ে ক্ষোভই প্রমান করে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা কতটুকু।

ইতোমধ্যে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে তারেক রহমানকে কারাদণ্ড এবং জরিমানা করা হয়েছে। এতে করে তার আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়েও তৈরি হয়েছে সংশয়। অপরদিকে একাধিক মামলায় শীঘ্রই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা হতে পারে।

এদিকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীন রাজনীতিবিদ আ. স. ম. হান্নান শাহ মারা গেছেন। সড়ক দুর্ঘটনার কারণে এখনও অসুস্থ রয়েছেন দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে বার্ধ্যকে ভূগছেন দলের একাধিক জ্যৈষ্ঠ নেতা। সব মিলিয়ে বিএনপির নেতৃত্ব এখন খুবই দুর্বল বলে বলছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় থাকলে বিএনপি ঘুরে দাড়াতে পারবে না বলেও বলছে কেউ কেউ।

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রংপুরে নিজ বাসভবন পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তারা আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। ক্ষমতায় থাকতে আমার এবং দলের ওপর যে অন্যায় করেছে, আজ তারই খেসারত দিতে হচ্ছে। প্রকৃতি প্রদত্ত শাস্তি ভোগ করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা কারাগারে। তাদের ভুল রাজনীতির কারণে তারা নিজেরাই শেষ হতে চলেছে। তাদের অস্তিত্ব এখন সংকটে। মামলার ভয়ে নেতাকর্মী শূন্য হয়ে পড়েছে দলটি। বিএনপি আর যাই করুক, কোনো দিন সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। কাউন্সিলে বিএনপি’র নেতৃত্বের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। তাই দলটির গুনগত কোন পরিবর্তণও ঘটবে না।

তবে বিএনপি নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বিশ্বাস, বিএনপি আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি প্রতিবারই বিভিন্ন বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে। এবারও বিএনপি ঘুরে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করবে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় মিয়ানমারকে অবশ্যই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে