বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘এই ২০ টাকা ১২ জনে পাইবো’

2012নিউজ ডেস্ক : তখনও তেমন বেলা হয়নি। সকাল সাড়ে আটটা বা নয়টা হবে। মানুষের দৌড়ঝাপ, চিৎকার চ্যাচামেচি আর বাস স্টাফদের ডাকাডাকিতে কাপছিল বরিশালের নতুল্লাবাদ বাসস্ট্যান্ড।ঈদের তিনদিন পর বলে কথা। বিআরটিসি বাস কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হলে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় যাবে। একই অবস্থা বেসরকারি বাস কাউন্টারেরও। বিকল্প- কিছু লোকাল বাস। এগুলোই চাকরিজীবীদের ভরশা। এমন একটি পরিবহন- জয়বাবা।

বাসটিতে সিট ভাড়া কাওরাকান্দি পর্যন্ত ২০০ টাকা। ৫/১০ মিনিটের মধ্যেই সব সিট বুকিং হয়ে গেল। এবার ডাকাডাকি শুরু হলো দাঁড়াইয়া দেড়শ/ছাদে দেড়শ। এক নারী যাত্রী বলে উঠলেন-সিটিং গাড়ি আবার দাঁড়াইয়া কেন। বাসের মালিকের সাফ কথা-ভাড়া ৪০০/৫০০ নেই নাই, ২০০ টাহা নিছি। দাঁড়াইয়া যাইবে, ছাদে যাইবে, যেখান সেখান থেকে যাত্রী ওডবে, যাইলে যাইবেন না যাইলে না যাইবেন।

সাড়ে ৯ টার দিকে ছাড়লো বাসটি। অনেক লোক ঢুকানো হলো ভেতরে। তারা সবাই দাঁড়িয়ে। অনেক চাপাচাপি হওয়ায় একজন বলে উঠলেন-ভাই ছাদে উঠি। হেলপার- না না, এইহানে ছাদে লওনের নিয়ম নাই। আরএকটু সামনে লন, হেরপর ছাদে উঠামু। ৫০ গজ যাওয়ার পরই বাস থামিয়ে ৪০/৫০ জনকে ছাদে উঠানো হলো।

ভাঙ্গা থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর বাসটি থামিয়ে দেয়া হলো। ড্রাইভার বললেন গাড়ি আর যাবে না, এখানেই নামেন। সবাই নেমে হাটা শুরু করলো। এক কিলোমিটার পথ, কোন গাড়িও নেই। ভ্যানওয়ালারা জন প্রতি ১০০ টাকা করে চাচ্ছে। দুই একজন ভ্যানে উঠলেও বাকিরা সবাই হাটা শুরু করলো। এ জনস্রোত কাওড়াকান্দি ঘাট পর্যন্ত।

বেলা দুপুর ২ টা। স্পিড বোর্ডে ২০ মিনিটেই পাড় হওয়া সম্ভব। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। কালো মেঘে ঢেকে গেল পদ্মা। যাত্রীরা কোন রকম শহ পরান ফেরিতে উঠলো।

ফেরির ছাদ কানায় কানায় পূর্ণ। বসা তো দূরের কথা দাঁড়িয়ে থাকারও অবস্থা নেই। তবুও ঢাকায় ফিরতে তো হবে। তাই কোনমতে নদী পাড় হওয়ার চেষ্টা। এই যখন অবস্থা তখন আসলো দুই যুবক (টিকিট চেকার)। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করছে। টিকিটের গায়ে ২৫ টাকা লেখা খাকলেও নিচ্ছে ৩০ টাকা করে। কেউ মিষ্টি ভাষায় প্রতিবাদ করছে, তবে ৫ টাকার জন্য এই চাপাচাপির মধ্যে বেশি কিছু বলছে না। এক যুবক ২০ টাকা দিয়ে জানায়- তার একটু সমস্যা আছে। টিকিট চেকাররা ২০ টাকা নিল, কিন্তু টিকিট দিল না। ওই যুবক টিকিট দাবি করলে তারা বলে- কোন সমস্যা নাই, কেউ ধরবো না। এই ২০ টাকা ১২ জনে পাইবো।

বেলা আড়াইটার দিকে ফেরি চলতে শুরু করে। মাঝ পথে এসে ডুবচরে আটকে যায় ফেরি। সেখানে আরো ২০ মিনিট সিস্টেম লস। মাত্র সোয়া এক ঘণ্টার পথ পাড় হলো আড়াই ঘণ্টায়। তীরে আসতেই যাত্রীরা ছুটলো বাস স্ট্যান্ডে। কে কার আগে উঠবে তা নিয়ে প্রতিযোগীতা। এক পর্যায়ে ওঠাও গেল। কিন্তু গাড়ি চলছে চালক-হেলপারের ইচ্ছে মত। থামছে আর যাত্রী উঠাচ্ছে, আবার লোকাল যাত্রী নামছে। যাত্রীরা কখনো চিৎকার করছে আর বলছে-পরিবহন সেক্টরের মত এত খারাপ অবস্থা আর কোথাও নেই। এটা একটা নোংরা সেক্টর। কারো কথা শোনে না। ওরা কারো পরোয়া করে না। যাক পরিবহন সেক্টরের কল্যাণে ৫ ঘণ্টার যাত্রা শেষ হলো ৯ ঘণ্টায়। চাকরিজীবীরা এলো ঢাকায়।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত