বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গো-রক্ষকদের থামাতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি

 
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের ‘সমাজ-বিরোধী’ বলে উল্লেখ করার কয়েকদিনের মধ্যেই এবার ভারতের কেন্দ্র সরকার সব রাজ্য সরকারকে এদের কর্মকাণ্ড থামাতে চিঠি পাঠিয়েছে।

a1d34f6f4728cc2cf756679280cd9da8-57aa9e9f4ebe9
মঙ্গলবার (৯ জুলাই) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সকল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিকেক্টর জেনারেল বরাবর চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন গো-রক্ষার নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তা হলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনও অবস্থাতেই যেন দোষী ব্যক্তিকে ছাড় দেওয়া না হয়।

ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘কিছু রাজ্যে গো-হত্যা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, ওই সব রাজ্যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন গো-হত্যাকারীকে শাস্তি দিতে আইন নিজের হাতে তুলে নেবে। সম্প্রতি দেখা গেছে, কিছু মানুষ বা গোষ্ঠী গো-রক্ষার নামে ঠিক সেই কাজটাই করেছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে।’

এর আগে শনিবার (৬ জুলাই) নয়া দিল্লির টাউন হলে জনসংযোগের জন্য আয়োজিত অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘কিছু লোক দোকান খুলে বসেছে! এই গো-সেবক, গো রক্ষকদের দেখে আমার খুব রাগ হয়! এরা সারারাত অসামাজিক কাজকর্ম করে। আর সকাল হলেই গো-রক্ষক ও গো-সেবক হয়ে যায়।’

তখন তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্য সরকারগুলোকে বলছি, এদের বৃত্তান্ত তৈরি করলেই দেখবেন, এদের অধিকাংশই সমাজবিরোধী।’

কেন্দ্রে মোদি সরকার আসার পর থেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় রয়েছে ওই স্বঘোষিত গো-রক্ষকরা। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাটে তাদের একাংশের তাণ্ডবের শিকার হতে হয়েছে দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলিমদের। প্রথমদিকে মুখ না খুললেও সম্প্রতি ওই গো-রক্ষকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে দলিতরা সোচ্চার হয়ে উঠলে এ নিয়ে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী বৃহস্পতিবার দলিতদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক আগেই কেন্দ্র সরকার গো-রক্ষকদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জানান দিলো।

দলিত ও সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের নির্যাতন একাধিক রাজ্যে মোদি সরকারকে বিপাকে ফেলেছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গো হত্যার অভিযোগে মহম্মদ ইকলাখকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল গো-রক্ষকরা। তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কিন্তু মোদি এ বিষয়ে কখনও মুখ খুলেননি। সম্প্রতি গুজরাটের উনা ও মধ্যপ্রদেশে গো-হত্যা ও গো-মাংস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দলিত ও সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার পুরো পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। গুজরাটে দলিতরা কাজ বন্ধ করে পথে নেমেছেন। তাদের সব ক্ষোভ রাজ্য সরকার ও বিজেপির ওপর। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়েছে, আনন্দিবেন প্যাটেল মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়ার পর কোনও দলিতকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি। এতেও দলিতদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যেই আবার গুজরাট ও উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন সামনে। এই সব রাজনৈতিক হিসেবে-নিকেশ মাথায় রেখেই মোদি গো-রক্ষকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন বলে মনে করছেন বিরোধীরা।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত