,

পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপরে

shariatpurনিউজ ডেস্ক : পদ্মার পানি বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের বন্যার পানি নেমে আসায় শরীয়তপুর জেলার প্রধান নদনদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে পদ্মার পানি বেড়েছে বলে জানা গেছে।

জাজিরা ও নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনদুর্ভোগ চরমভাবে বেড়ে গেছে। কোনো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেননি।

জেলা প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

জাজিরা উপজেলার পালেরচর রাঢ়িকান্দি গ্রামের অলি উল্লাহ রাঢ়ি জানান, উজানের বন্যার পানি নেমে আসায় এবং টানা বর্ষণের ফলে শরীয়তপুর জেলার প্রধান প্রধান নদনদী পদ্মা মেঘনা কীর্তিনাশা ও আড়িয়াল নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরেশ্বর পয়েন্টে পদ্মার পানি ৩০ সে. মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইতোমধ্যে জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে জাজিরা উপজেলার নাওডোবা, কুন্ডেরচর, পালেরচর, বড়কান্দি, বিলাসপুর নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর, চরআত্রা নওয়াপাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামে নিচু এলাকার বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ।

এ সব এলাকায় অধিকাংশ স্কুল বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সব বাড়ি ঘরের লোকজন ঘরের ভিতরে মাচায় অথবা চৌকির উপর বসবাস করছেন। বাঁশের সাকো দিয়ে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে চলাফেরা করছেন। আগলা চুলায় রান্না-বান্না করে কোনো রকম খাওয়া দাওয়া করে বেঁচে আছেন।

নলকুপগুলো ডুবে যাওয়ার কারণে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। কলার ভেলা বা নৌকা ছাড়া তাদের চলাফেরার কোনো উপায় নেই। গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। শত শত একর জমির বীজতলা ও আউশ আমন ধান তলিয়ে গেছে।
এ সব এলাকায় বন্যার পাশাপাশি নদী ভাংগন শুরু হয়েছে। ভাংগনের কবলে পড়ে বাড়ি-ঘর সরিয়ে নিচ্ছেন এলাকার লোকজন।

সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা ত্রান সাহায্য সহযোগিতা তো দূরের কথা কেউ ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতেও আসেননি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।

পালেচর রাঢ়ি কান্দি গ্রামের আ. সামাদ সেক বলেন, ৭/৮দিন ধরে বন্যার পানিতে বাড়ি-ঘর তলিয়ে গেছে। চলাফেরা, খাওয়া দাওয়ায় খুবই কষ্ট হচ্ছে। দিনেও পানিতে থাকি রাতেও পানিতে থাকি।

রাঢ়ি কান্দির মিনারা বেগম ও ধলু সরদার বলেন, বন্যার পানিতে পানিরকল ও পায়খানা ডুবে গেছে। এতে আমাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। অনেক দূর থেকে কলের পানি ভেলায় করে এনে খাই। ঘরের ভিতরে মাচায় বা চৌকিতে আগলা চুলায় পাক করে কোনো রকম খেয়ে বেঁচে আছি। আমাদের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি।

স্কুলছাত্রী ডালিয়া বলেন, স্কুল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। স্কুলে যাওয়ার রাস্তাও তলিয়ে গেছে। আমরা এখন স্কুলে যেতে পারছি না। তাই স্কুল বন্ধ।

জাজিরা বিলাসপুর ইউনিয়নের কাজিয়ারচর গ্রামের মেছের মাস্টার বলেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী ভাংগন দেখা দিয়েছে। বাপ-দাদার ভিটে মাটি ছেড়ে অন্যত্র ঘরবাড়ি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাবো থাকবো বুঝে উঠতে পারছি না।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, বন্যার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তালিকা প্রণয়নের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগর সাধু সঙ্গের উদ্যোগে লঞ্চযোগে আনন্দ ভ্রমণ: নদীর বুকে ফিরে দেখা স্মৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য আয়োজন

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা