বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদবাজার ছোঁয়া লেগেছে সীমান্ত হাটেও

Brahmanbaria pic 28-06 (7)টুটন দেবনাথের দোকান থেকে একে একে দশটি শাড়ি নিলেন ফাতেমা আলম। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা পৌর এলাকার থানা ভবনের সামনের বাসিন্দা গৃহবধূ ফাতেমা আলম জানালেন, ঈদ উপলক্ষে বোনদেরকে দেওয়ার জন্য শাড়িগুলো তিনি কিনেছেন। দামে একটু সস্তা হবে জেনে সীমান্ত হাটে এসে এসব ভারতীয় কাপড় নিলেন ওই নারী।

প্রচন্ড রোডে ঘেমে একাকার কসবার টিএন্ডটি এলাকার সালমা ইসলাম। বললেন, ’ভারতীয় কাপড় মানেই তো আনকমন হবে। তাই শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রিপিস কেনার জন্য এসেছি। কিছু কাপড় কেনা হয়েছে আর কিছু বাকি আছে। এবারের ঈদে এখান থেকেই কাপড় কিনব বলে মনস্থির করেছি’।
ওই দুই ক্রেতার সঙ্গে কথা হয় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত হাটে। ঈদকে কেন্দ্র করে গত দু’সপ্তাহ ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্ত হাটে ভারতীয় পণ্য বিক্রি বেশ তুঙ্গে। কোনো কোনো ভারতীয় কাপড়ের দোকানে বিক্রি গিয়ে ঠেঁকে প্রায় তিন লাখে, যা হাট চালু হওয়ার পর একদিনে সর্বোচ্চ বিক্রি।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে জানা গেল, মূলত ঈদের কারণেই সীমান্ত হাটে বিক্রি বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। হাটে বিশেষ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের আনাগুনা বেড়েছে। তবে হঠাৎ করেই রবিবারের পরিবর্তে হাটের দিন মঙ্গলবার নির্ধারণ করায় গতকাল প্রথমদিনে তেমন ভীড় ছিল না।
অবশ্য জানাজানি হলে পরবর্তী দিনে ক্রেতা বাড়বে আশা করা হলেও হাটটির বার পরিবর্তনের দাবি তোলা হয়েছে দু’দেশের ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকেই। বাংলাদেশের ব্যবসায়িরা আগামী মঙ্গলবার হাটে আসবেন কি-না এ নিয়েই দ্বিধায় আছেন।
দোকানীরা জানালেন, গত দুই রবিবার হাটটিতে তিল ধারণের ঠাঁয় ছিল না। ঈদের কেনাকাটা করতে বাংলাদেশিরা বেশি ভীড় করেছেন এখানে। যে কারণে ভারতীয় দোকানগুলোতে বিক্রি হয়েছে বেশি। পাশাপাশি বাংলাদেশিরা নিজ দেশের দোকানগুলো থেকেও মালামাল ক্রয় করেছেন। এসব মালামালের মধ্যে ছিল শাড়ি, থ্রিপিস, লেহেঙ্গা, কসমেটিকস ইত্যাদি।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কসবার এ সীমান্ত হাট শুরুতে বৃহস্পতিবার বসতো। পরবর্তীতে ভারতীয়দের আগ্রহে সেটি রবিবার করা হয়। কিন্তু রবিবার দিন সেখানে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি বিধায় তাঁরা আবারো বার পরিবর্তনের দাবি জানায়। সে অনুযায়ি গতকাল থেকে প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার হাট বসতে শুরু করেছে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত দু’দেশের নাগরিকরা এখানে কেনাকাটা করতে পারেন। উভয় দেশের ২৫টি করে ৫০টি দোকান আছে হাটে।
হাটটিতে মূলত ভারতীয় পণ্যই বেশি বিক্রয় হয়। বেশ কয়েকটি কারণে বাংলাদেশিদের সমাগম বেশি হয় বলেই ভারতীয় পণ্যের বিক্রি বেশি। সর্বশেষ গত রবিবার এ হাটে ১৬ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়। এর মধ্যে ভারতীয় পণ্যই বিক্রি হয় ১৪ লাখ টাকার।
সীমান্ত হাট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, হাটে যাওয়া-আসার জন্য বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার নাগরিক যেখানে স্থায়ী প্রবেশ কার্ড করেছেন সেখানে মাত্র ভারতীয় ১২০০ নাগরিক এ কার্ড করেছেন। হাটের পাশে বাংলাদেশের পাঁচ বর্গ কিলোমিটারে যেখানে প্রায় লাখো লোকের বাস সেখানে ভারতের পাঁচ বর্গকিলোমিটারে মাত্র ১৫ হাজারের মতো লোক বাস করে।
গতকাল ভারতের কাপড় বিক্রেতা কিশোর দাস বলেন, ’ঈদের জন্য গত দুই সপ্তাহ ধরেই এখানে বিক্রি বেড়েছে। শাড়ি ও থ্রিপিস বেশি নিচ্ছেন বাংলাদেশিরা’। ওই দোকান থেকে তিনটি থ্রিপিস কেনা বিজিবি সদস্য লিমন বলেন, ’ঈদ উপলক্ষে এগুলো দেশের বাড়িতে (গোপালগঞ্জ) পাঠানো হবে’। একটি থ্রিপিস কেনেন হাবিলদার আফতাব।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মৌড়াইল থেকে হাটে এসেছেন শফিকুল ইসলাম। জাকাত দেওয়ার জন্য তিনি ১০টি সুতি শাড়ি কিনেছেন ভারতীয় দোকান থেকে। জানালেন, দামে কম হবে জেনে তিনি এই প্রথমবারের মতো এ হাটে এসেছেন। কসবার চরনাল গ্রামের নূরজাহান বেগম জানান, ঈদ উপলক্ষে বাবা-মা, জ্যা ও সন্তানদের জন্য এখান থেকে কাপড়-চোপড় কিনেছেন।
কাপড় দোকানি অমৃত লাল দাস বলেন, ’ঈদ উপলক্ষে গত দুই সপ্তাহ বিক্রি বেশ ভালো গেছে। এখন হঠাৎ করে রবিবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার হাট হওয়ায় লোকজন কমে গেছে। তবে সাধারন সময়ের তুলনায় লোকজন এখনও বেশি আছে’। কসমেটিকস বিক্রেতা খোকন শীল বলেন, ’ঈদ উপলক্ষে আমাদের বিক্রি অনেক বেড়েছে’।
ভারতীয় দোকানীরা বিক্রি নিয়ে যখন বেজায় খুশি তখন বাংলাদেশের ব্যবসায়ি অলিউল্লাহ সরকার অতুল জানালেন কষ্টের কথা। জামদানি শাড়ি বাজার নামে দোকানের মালিক অতুল জানান, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত তিনি এক টাকাও বিক্রি করতে পারেন নি। গত দুই রবিবার বাংলাদেশিরাও কাপড় কিনেছে। কিন্ত হঠাৎ করে বার পরিবর্তনের কারণে ভারতীয় লোকজন নেই বললেই চলে।
তিনি অভিযোগ করেন, হাটে আসা নিয়ে ভারতীয় বিএসএফ একটু বাড়াবাড়ি করে। আট হাজার টাকার মালামাল নেওয়ার বৈধতা থাকলেও তিন হাজার টাকার বেশি মালামাল নিতে দেয় না বলে বাংলাদেশি দোকানে বিক্রি খুবই কম। এছাড়া বিএসএফ তাদের এখানকার পাঁচশ’র বেশি লোক প্রবেশ করতে দেন না।
বাংলাদেশের একটি দোকান থেকে শুঁটকি কিনেছেন ত্রিপুরার দেবিপুরের নিতাই চন্দ্র বর্মণ। তিনি বলেন, ’বাংলাদেশের লুঙ্গি, গামছা, শুঁটকি, ফল ইত্যাদি ভালো বলে এখানে প্রায়ই আসি। এছাড়া এখানে এলে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও দেখা হয়ে যায়’। শুঁটকি ব্যবসায়ি কসবার শীতল পাড়ার সুভাস চন্দ্র দাস ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, বারবার দিন পরিবর্তনের কারণে হাটে লোক সমাগম কম হচ্ছে। তাঁর মতে, রবিবার দিন হাট হলে ভারতের লোকজন বেশি পাওয়া যেতো।
এদিকে দুপুরে কসবা সীমান্ত হাটে বসে আলোচনা করেন ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যের এলএমএ নারায়ন চন্দ্র চৌধুরি, কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, কসবা উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, কসবা পৌরসভা মেয়র মো. ইলিয়াস, বিজিবি ও বিএসএফ কর্মকর্তাবৃন্দ। হাটের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।
বিজিবি’র সুবেদার মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ’ভারতীয় পণ্যের গুনগত মান নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। এগুলো দূর করায় এখন ভালো পণ্য এখানে আসছে। ঈদকে সামনে রেখে প্রচুর বাংলাদেশি এ হাটে কেনাকাটা করছে’।
ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, ’ঈদকে কেন্দ্র করে এ হাটে ভারতীয় পণ্য বিক্রি বেড়েছে’। তিনি জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের আগ্রহের কারণেই হাট রবিবারের পরিবর্তে মঙ্গলবার করা হয়েছে। আগামী ছয়মাস পর্যন্ত এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত