বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেতরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা : বাইরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে কারারক্ষীরা

1462800645দুপুর আনুমানিক সোয়া ২টা। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে তখন রিকশা, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলের যানজট। চকবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন দুই রিকশাযাত্রী। একজনের বয়স চল্লিশের কাছাকাছি আরেকজনের ১৭/১৮।
যানজটে পড়ে থাকা মধ্যবয়সী  ভদ্রলোক তরুণকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন, ওই মিয়া দেখছো নি, কি সব গায়ে লাগাইয়া বন্দুক হাতে খাঁড়াইয়া রইছে। দেখলে তো মনে হয় যেন ওরা যুদ্ধক্ষেত্রে যাইতাছে। মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল লইয়াও টহল দিবার লাগছে। জবাবে তরুণ বলে, জঙ্গিমুঙ্গিরা হামলা করতে পারে হের লাইগ্যাই এতো কড়া ব্যবস্থা লইছে হুনছি।
শুধু এ দুজনই নয়, তাদের মতো অনেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক ও চৌহদ্দিতে কারা পুলিশ ও থানা পুলিশের টহল দেখে এমনটাই মন্তব্য করেন। রোববার জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক সরজমিন পরিদর্শনকালে এ দৃশ্য দেখেন।
কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দেশের সকল কারাগারের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। প্রতিদিন কারাগারের ভেতরে ও বাইরে বৃদ্ধি করা হয়েছে দৃশ্যমান টহল ও  গোয়েন্দা নজরদারি।
সাধারণত কারাগারে নিরাপত্তা জোরদার হলে বিষয়টি গোপন রাখা হয় তবে কারা মহাপরিদর্শক গণমাধ্যমকে ডেকে রেড এলার্ট জারির খবরটি কেন জানালেন জানতে চাইলে তিনি  বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৮ কারাগারে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণেরও বেশি বন্দি রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক জঙ্গিও রয়েছে। যদিও তাদের পৃথক সেলে রাখা হচ্ছে তবুও কোনভাবেই তারা যেন ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে রেড এলার্ট জারি করা হয়।
এছাড়া জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায়ের ব্যাপারে আদালত থেকে সর্বশেষ নির্দেশনা আসলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এ জন্যই কারাগারের ভেতরে বাইরে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রোববার দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চৌহদ্দি ঘুরে দেখা গেছে, গত কিছুদিন আগের তুলনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মূল ফটকের সামনে পালাক্রমে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে সশস্ত্র অবস্থায় ডজনখানেকের বেশি কারারক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. শাখাওয়াত হোসেন জাগো নিউজকে জানান, কারাগারের ভেতরে-বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিক অবস্থান করছে। কারারক্ষীরা ছাড়াও চকবাজার পুলিশ সার্বক্ষণিক রাউন্ড দিচ্ছেন। এছাড়া মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল যোগেও টহল চলছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারা কর্মকর্তা জানান, বন্দিদের দিয়েও গোয়েন্দাগিরি করানো হচ্ছে। ভেতরে জঙ্গিদের ২/৩টি  সেলের বাইরে একজন করে কারারক্ষী নিয়োজিত রাখা হচ্ছে। এছাড়া সিসিটিভির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি দুর্ধর্ষ দুই ডজন জঙ্গিসহ অন্যান্য মামলার আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ চলছে।

একাধিক কারা শীর্ষ কর্মকর্তা অবশ্য জানান, রেড এলার্ট জারি হলেও কোন কারাগার থেকেই বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তারা এলার্ট রয়েছেন।

jagonews24.com

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত