,

কলকাতায় কুমিরসদৃশ মাছ, বিস্ময়-উদ্বেগ

photo-1466603752নিউজ ডেস্ক : ভারতের পশ্চিবঙ্গের রাজধানী কলকাতার সুভাষ সরোবরে এলিগেটর বা কুমিরের মতো একটি মাছ পাওয়া গেছে। এর নাম এলিগেটর গার।

তীক্ষ্ণ ও ধারালো দাঁতওয়ালা মাছটি লম্বায় ৩ দশমিক ৫ ফুট। এটি ৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।

ভারতের দৈনিক পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, শিকারি এই মাছ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

দুই মাস আগে স্থানীয় মাছ শিকারি শিবু মণ্ডল তাঁর ছিপ দিয়ে এই মাছটি শিকার করেন।

পশ্চিবঙ্গ মৎস্যশিকারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য শিবু মণ্ডল জানান, তিনি যখন ছিপ দিয়ে মাছটি ধরছিলেন তখন এটি তাঁকে আক্রমণ করা চেষ্টা করছিল এবং তাঁর আঙ্গুলে কামড়ও দেয়। মণ্ডল নিয়মিত কলকাতা বেলেঘাটার সুভাষ সরোবরে মাছ শিকার করে থাকেন।

পাঁচ কেজি ওজনের মাছটি মণ্ডলের এক বন্ধু এটি রান্না করেছেন। কিছুটা অংশ শুঁটকি করে রেখেছেন। এটির স্বাদ হালকা টক।

মণ্ডল বলেন, ‘মাছটি এতই শক্ত ছিল যে আমরা বঁটি বা ছুরি দিয়ে কাটতে পারিনি। এটিকে কুড়াল দিয়ে কাটতে হয়েছে।’

জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও মাছ শিকারিরা জানান, শিকারি এই মাছ লেকের সব  মাছকে মেরে ফেলতে পারত।

জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্তৃপক্ষ ও তেলেঙ্গানা রাজ্য জীববৈচিত্র্য বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য রাজীব ম্যাথিউ বলেন, ‘এটি পুরোপুরি মাংসাশী প্রাণী। এটি শুধু অন্য মাছ মেরে ফেলে না, মানুষের ওপর আক্রমণ করার খবরও পাওয়া গেছে। এই মাছের ডিম বিষাক্ত হয়। এদের আক্রমণাত্মক আচরণে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।’

বর্তমানে এই এলিগেটর গারের বসবাস শুধু নর্থ ও মধ্য আমেরিকায়। কিন্তু এই মাছ ভারতে কি করে এলো এখন এটিই প্রশ্ন।  তেলেঙ্গানা ও  অন্ধ্রপ্রদেশে এরই মধ্যে আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই শিকারি মাছ। তামিলনাড়ুর জলাশয়ে দ্রুত বংশ বৃদ্ধি করছে এলিগেটর গার।

২০১৫ সালে মুম্বাইয়ের দাদরে একটি কুয়ার মধ্যে একটি এলিগেটর গার পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই শিকারি মাছের হুমকি মোকাবিলা আহ্বান জানিয়েছে।

ভারতের প্রাণিবিদ্যা বিষয়ক গবেষক কেসি গোপী বলেন, ‘এই শহরে (কলকাতা) এই প্রথমবারের মতো এই প্রজাতির মাছ ধরা পড়েছে। আমরা ওই লেকে একটি দল পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহ করতে চাই। পানিতে তাদের বংশবৃদ্ধি হয়েছে কি না বা এলাকার জন্য কত বড় বিপদ হয়ে উঠতে পারে এই মাছ তা আমরা পরীক্ষা করে দেখব।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় অনেকে অ্যাকুরিয়ামে সাজানোর জন্য বিদেশ থেকে বিরল প্রজাতির মাছ নিয়ে আসে। কিন্তু যখন এটি বড় হতে থাকে এবং অন্য মাছগুলোকে মেরে ফেলে। তখন তাঁরা স্থানীয় জলাশয়ে সেই মাছ ছেড়ে দেন।

এ জাতীয় আরও খবর

নবীনগর সাধু সঙ্গের উদ্যোগে লঞ্চযোগে আনন্দ ভ্রমণ: নদীর বুকে ফিরে দেখা স্মৃতি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির অনন্য আয়োজন

নবীনগরে গাড়ির ধাক্কায় বেকারি লাইনম্যান তামিম নিহত

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি

যেভাবে সময় কাটছে বুবলীর

তপ্তদহনে পুড়ছে মানুষ, কমছে কর্মঘণ্টা, ক্ষয়ে যাচ্ছে জিডিপি

২২ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৬ হাজার ৪২০ কোটি টাকা

অ্যাভোকাডো খাওয়া যে কারণে উপকারী

পাড্ডিক্যালের সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে ভারত

নতুন রূপে আসছে শাকিবের ‘অপারেশন অগ্নিপথ’

বাংলাদেশের ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে ম্যাকাইয়ে রেকর্ডের ছড়াছড়ি

ডেঙ্গুতে ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

নবীনগরে ‘হোপ’-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও আলোচনা সভা