শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণধর্ষণের শিকার খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী শিক্ষিকা, কুষ্টিয়াজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়ায় নিবন্ধন পরীক্ষা দিতে এসে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী এক স্কুল শিক্ষিকা। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া শহরের একটি আবাসিক হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুষ্টিয়াজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।কুষ্টিয়া শহরে অবস্থিত বড়বাজার আল আমিন আবাসিক হোটেলে সারারাত ধরে চলেছে এই গণধর্ষণের ঘটনা। যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ধর্ষকরা নানা কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করলেও সাংবাদিকদের তৎপরতায় অবশেষে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে।

2_127802

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ই মে শনিবার কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ জনিত অবস্থায় আনুমানিক ২৬ বছর বয়সের লিপি নামের এক মেয়েকে জাহিদ নামে জৈনক ব্যক্তি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস ওয়ার্ডে সকাল ৯টার সময় ভর্তি করে চলে যায়।জানা যায়, মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর আম্রকানন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খন্ডকালীন শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন ধর্ষণের শিকার মেয়েটি। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং তার সহযোগীদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হন ওই শিক্ষিকা। কুষ্টিয়াতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ১২মে বাড়ি থেকে বের হলে প্রধান শিক্ষক শরিফুল কৌশলে ওই শিক্ষিকাকে নিয়ে কুষ্টিয়ার বড়বাজারস্থ আলআমিন আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া করে সেখানে নিয়ে যায়। শিক্ষক শরিফ তাকে ভাগ্নি পরিচয় দিয়ে হোটেলের রুম ভাড়া নেয় বলে হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রাত গভীর হলে ধর্ষকদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়েটিকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে শরিফুলসহ তার সহযোগীরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে অচেতন করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

 

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটিকে ‘মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করে’ বলে জানায় মেয়েটি। এমনকি ধর্ষকদের পক্ষ থেকে তাকে হাসপাতাল থেকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে মেয়েটির বাবা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়, মেয়েটির নগ্ন ভিডিও ধর্ষকদের কাছে আছে বলেও জানিয়েছে মেয়েটি। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে এই ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও মেয়েটি জানিয়েছে।

 

 

শনিবার সংবাদ সংগ্রহ করতে হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, কোন এক নার্স এর যোগসাজশে হাসপাতাল থেকে ধর্ষকরা মেয়েটিকে চিকিৎসা না দিয়ে মেহেরপুর নিজ গ্রামে পাঠিয়ে দেয়।মেহেরপুরের মুজিবনগরের মেয়েটির নিজ গ্রামের লোকজনের সহায়তায় অসুস্থ অবস্থায় আবারো তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।শেষ খবর পওয়া পর্যন্ত কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।