,

মাথাটা বাংলাদেশের ব্যথাটা যেন ফিলিপাইনের

1837472016_03_15_19_34_08_DfcovFCGwOa8sOj6VL4EMQrlZVMlf7_original-400x240নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা চুরির ঘটনায় তোলপাড় চলছে আড়াই মাস ধরে। মাথাটা বাংলাদেশের, কিন্তু ব্যথাটা যেন ফিলিপাইনের। টাকা চুরি হয়েছে বাংলাদেশের, কার্যকর ও দৃশ্যমান তদন্ত হচ্ছে সব ফিলিপাইনে। এই চুরির ঘটনা তো বাংলাদেশে গোপন রাখা হচ্ছিল।
একমাস পর জানাজানি হলো তাও ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়ারারের রিপোর্টের সূত্র ধরে। জানাজানি হওয়ার পর বাধ্য হয়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করেন। পদচ্যুত হন দুই ডেপুটি গভর্নর। সরকার একটি তদন্ত কমিটিও করেছে। সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্টও দিয়েছে। কিন্তু রিপোর্টে কি আছে, তা জানা যায়নি এখনও। তার মানে এই ঘটনায় বাংলাদেশে কে বা কারা জড়িত, কিভাবে করলো; তা জানা যায়নি। এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু সবই হাওয়া বাতাসে, আন্দাজে। কিন্তু ফিলিপাইন অনেক বেশি সিরিয়াস। কোন ব্যাংক জড়িত, কোন ম্যানেজার দায়ী, কোন ব্যবসায়ী টাকা নিয়েছেন; সবই একে একে ফাঁস হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের কারোর সম্পৃক্ততা ছাড়া এতবড় ঘটনা ঘটে গেল, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ফিলিপাইনের সিনেট টানা শুনানি করছে, সেই শুনানি সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। সেই সূত্রে আমরা রিপোর্টও করছি। কিন্তু বাংলাদেশে কী হচ্ছে? বাংলাদেশের কোনো সংসদীয় কমিটি শুনানি তো দূরের কথা, একটা বৈঠকও তো করেনি। দায় যেন সব ফিলিপাইনের। ফিলিপাইন তো এখানে থার্ড পার্টি। বাংলাদেশের টাকা, রাখা ছিল নিউইয়র্কে, গেছে ফিলিপাইনে, সেখান থেকে নাকি হংকংয়ে। সবচেয়ে বেশি তৎপর তো হওয়ার কথা বাংলাদেশের। বরং উল্টো অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে ফিলিপাইনের তৎপরতাকে ‘টালবাহানা’ অভিহিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ কিন্তু একবারও টাকা ফেরত দেওয়া হবে না, এমন কথা বলেনি। বরং তারা বারবার বলছে, যথাযথ আইনী প্রক্রিয়া মেনে সব টাকাই ফেরত দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে এক ব্যবসায়ী কিছু টাকা ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরতও দিয়েছেন। সেই টাকা বাংলাদেশকে দিতে তো কিছু আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার সময় আসেনি এখনও। বরং বাংলাদেশের ফিলিপাইনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তারা তৎপরতা চালাচ্ছে, সবাইকে শুনানিতে ডাকছে বলেই দায়ীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে, টাকা ফেরতের আশা তৈরি হয়েছে। ফিলিপাইনের সিনেটের শুনানি লাইভ হয়, আর এখানে বাংলাদেশে ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার আটকানো হয়। ফিলিপাইন এত তৎপর না হলেও বাংলাদেশ তাদের দোষ দিতে পারত না। ফিলিপাইনকে দোষ না দিয়ে বাংলাদেশের উচিত নিজেদের দিকে আরও নজর দেওয়া। বাংলাদেশের অংশের দোষীদের চিহ্নিত করা, আইনের আওতায় আনা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
লেখক : এসোসিয়েট হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

আমাদের সময়.কম

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা