বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এইচএসসি’র প্রবেশপত্র আনতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক কলেজের শিক্ষার্থীদের দিতে হয়েছে ৫’শ টাকা

collআমিরজাদা চৌধুরী,ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সব কিছুই লাগাম ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজে। শোষনের শিকার হচ্ছেন এখানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এই অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশ পত্রের জন্যে নেয়া হয়েছে ৫’শ টাকা করে। এই কলেজ থেকে প্রায় ১২’শ ছাত্রছাত্রী এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে হিসেবে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকা। শুধু এই একটি পরীক্ষাতেই নয় সব কিছুতেই বেশী বেশী এই কলেজ। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দ্বিগুন-তিনগুন বেশী টাকা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। সেটা পরীক্ষার ফি,কিংবা ভর্তি ফি হোক। এসবের কোন রশিদও দেয়া হয়না। এছাড়াও মাসিক বেতনের পরিমান জেলার যেকোন কলেজের চেয়ে এখানে বেশী। এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনীতে ভর্তির জন্যে নেয়া হয়েছে ৪২’শ টাকা করে। অথচ বোর্ড নির্ধারিত ছিলো ২ হাজার টাকারও কম। সম্মান শ্রেনীতে ভর্তির জন্যে নেয়া হয় ৪৬’শ টাকা করে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেনীর বেতন নেয়া হচ্ছে ৪’শ টাকা করে। ডিগ্রী,অনার্স ও মাষ্টার্স শ্রেনীর বেতন নেয়া হয় ৫’শ টাকা করে। শুধু তাই নয় মাকসীট ও সনদপত্র নেয়ার সময়ও দিতে হয় ৫’শ টাকা করে। কলেজের গাড়ি ব্যবহার না করেও শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে পরিবহন ফি। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে বিদুৎত বিল দিতে হয় ৮০ টাকা করে। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও বেতন আদায় করা হয়। যা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নেয়া হয়না। অভিযোগ নানা ভাবে এখানে অভিভাবক- শিক্ষার্থীদের শোষন করা হচ্ছে। কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্র জানায়, রোববার ২ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটি থেকে এক হাজার ২৩৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এদের মধ্যে সাধারণ (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসা শাখা) শাখায় ৯৭১জন ও কারিগারি (বিএমএ) শাখায় ৩৬৮জন। কারিগরি শাখার প্রথম বর্ষে ১৩০জন ও দ্বিতীয় বর্ষে ১৩৮জন। সাধারণ শাখা থেকে মানবিক বিভাগের ৩৪৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগের ২৯৯ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ৩২৮জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত ২৪ মার্চ থেকে কলেজের পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে বকেয়া কেন্দ্র ফির কথা বলে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়। কোনো কোনো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০০ থেকে ৯০০টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। প্রবেশপত্রে দেওয়ার সময় বকেয়া পাওনা ও কেন্দ্র ফির কথা বলে এ টাকা আদায় করা হয়। শনিবার বিকেল দুপুর পর্যন্ত পঞ্চাশ জন পরীক্ষার্থী টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়েছেন।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে এই কলেজটি অবস্থিত। এই কলেজের সীমার ভেতরে একই প্রতিষ্ঠার আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ নামে আরেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নতুন এই কলেজটি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ২০ থেকে ২৫জন পরীক্ষার্থী জানান, ‘ফরম পূরণের সময় ফিসহ যাবতীয় পাওনা তারা পরিশোধ করেছেন। কেন্দ্র ফি ও বকেয়া পাওনার কথা মুখে বলে কৌশলে তাদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় টাকা আদায় করা হয়েছে। তাছাড়া কলেজে পড়াকালীন সময়েও একাদশ শ্রেণীর নম্বরপত্র নেওয়ার সময় ৫০০টাকা করে দিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলেন সামনে পরীক্ষা। ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারি ভেবে নিরুপায় হয়ে ৫০০ টাকা দিয়ে প্রবেশপত্র নিয়েছি। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, যারা কলেজের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট দেয়নি তাদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ের জন্য ১৫০টাকা করে জরিমানা পর্যন্ত আদায় করা হয়।এবিষয়ে কলেজের প্রধান অফিস সহকারী হাফিজুর রহমান বলেছেন-কেন্দ্র ফি বাবদ সরকারী নির্দেশে ৫’শ টাকা রেখেছেন তারা । কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বলেন, ফরম পূরণের সময় কলেজের সব পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্র ফি ৩৫০ টাকা ও বিভিন্ন জরিমানা মিলিয়ে মোট ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়নি। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের সময়ে এ টাকা আদায় করার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ফরম পূরণের সময় এই টাকা আদায় করিনি। বিষয়টি নিয়মবর্হিভূত কি না প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়মের মধ্যে থেকে আদায় করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার উননেছা শিউলি বলেন, ‘এমনটি তো হওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করিনি। ফরম পূরণের সময় তো কেন্দ্র ফি আদায় করার কথা। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ফরম পূরণের সময় কেন্দ্র ফিসহ যাবতীয় পাওনা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়ে থাকে। বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাইরে এক টাকাও বেশি নিতে পারবে না। তাছাড়া প্রবেশপত্র বাবদ অর্থ আদায় করা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সম্মান শ্রেনীতে ভর্তির সময় কথা বলেছিলাম ভর্তির দায়িত্বে থাকা কলেজের কম্পিউটার অপারেটর বাহাউদ্দিনের সঙ্গে। তিনি ৪৬’শ টাকা করে নেয়ার এবং রশিদ না দেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের ষ্টুডেন্ট কপি দিয়ে দিচ্ছি। কোন রশিদ দেয়া হচ্ছেনা। এবছর কলেজটিতে সম্মান শ্রেনীর ৬ টি বিষয়ে ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। সম্মান শ্রেনীতে ভর্তি বাবদ ২০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় হয়। কলেজটিতে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৮’শ।

এ জাতীয় আরও খবর

গর্ভবতী নারীর হেপাটাইটিস বি থাকলে যা করবেন

লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন, যা এড়িয়ে চলবেন

বাংলাদেশি যুবককে বিয়ে করলেন পাকিস্তানি ভ্লগার

সাকিবকে ছাড়িয়ে শীর্ষে পরীমনি

বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সারজিসসহ আহত অনেকে

স্নিগ্ধা ইস্যুতে জেবার দাবি, ‘আমাকে ভুলভাবে জড়ানো হচ্ছে’

রাবিতে মারধরের ঘটনায় আহত দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন, দিনক্ষণ চূড়ান্ত নয়

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর প্রথম বৈঠক, আলোচনায় ইরান যুদ্ধ

সরকারি নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

শাহজালালে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদন স্থগিত