বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ খ্রিস্টান নেতার অর্থ মুসলমানের নামে আত্মসাৎ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :  রাজধানীর তেজকুনিপাড়ায় অবস্থিত দি মেট্রোপলিটন খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড বা দি এমসিসিএইচ লিমিডেট। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন সেটির চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ তিন নেতা। আর এই আত্মসাৎকৃত টাকা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে এক মুসলমান ব্যক্তির নামে।

2016_03_15_21_28_58_g2Qd0acifd8vSJwmeVPkwokA2fe02F_original

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে এ অভিনব পন্থায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। আর তাই এমসিসিএইচ’র চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও ম্যানেজারকে আসামি করে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। খুব শিগগিরই দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বিচারিক আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করবেন।

 

মঙ্গলবার দুদক সূত্র বাংলামেইলকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কমিশনের অনুমোদিত চার্জশিটে আসামিরা হলেন- দি মেট্রোপলিটন খ্রিস্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান এলসিয়াম মিলন খান, সাবেক সেক্রেটারি ডমিঙ্গ প্রান্সিস গোমেজ (রবিন) এবং সাবেক ম্যানেজার মার্টিন এস পেরেরা।

 

দুদক সূত্র জানায়, দি এমসিসিএইচ লিমিটেড ২২ জন এলোটি ও সোসাইটির মালিকানাধীন বাড্ডা থানার ভাটারা মৌজায় ১.৫৯২৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ ‍উত্তোলনের জন্য ব্যবস্থাপনা কমিটির মতামতে ক্ষতিপূরণ আদায় কমিটিও করা হয়। সেই কমিটি ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের বিষয়ে ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় উপস্থাপন করে এবং তা সমন্বয় করে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বুঝিয়ে দেন।

 

পরে ক্ষতিপূরণ কমিটি ও ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্য সদস্যের অগোচরে অসৎ উদ্দেশ্যে ওই সংগঠনটির নেতারা তথা চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি ও ম্যানেজার রেজুলেশনে মিথ্যা তথ্য ও খরচের ভাউচার লিপিবদ্ধ করেন। পরে ওই সংগঠনের নামীয় ব্যাংক এশিয়া এসকোসিয়া শাখার হিসাব থেকে তিনটি চেকের বিনিময়ে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৭৩১ টাকা জুলফিকার নামে অস্তিত্বহীন এক ব্যক্তির নামে উঠানো হয়। আর সেই টাকা সোসাইটির কাজে বা ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যয় না করে তা ওই তিন নেতা আত্মসাৎ করেন।

 

প্রাথমিক অনুসন্ধানে এসব অভিযোগ এনে ২০১৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও ডিএমপি থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল। পরে সেই মামলার তদন্তে এসব প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯/১০৯ ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় কমিশন।

এ জাতীয় আরও খবর