,

ভয়ে হাসপাতালে ছটফট করছেন বাংলালিংকের সেই কর্মকর্তা

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলালিংকের কর্মকর্তা মোস্তাকউর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে অসুস্থ হয়ে পড়া বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পাওয়ার অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো. মোস্তাক হাসপাতালে ছটফট করছেন। বিছানা উঁচু-নিচু করতে গেলেই শিশুর মতো ভয়ে কুঁকড়ে চিৎকার দিয়ে উঠছেন। আর প্রায় সারাদিনই বলছেন, ওরা পাঁচজন আমাকে মেরে ফেলবে, আমি বলেছি আমার শরীর খারাপ লাগছে, ওরা আমাকে বাঁচতে দেবে না…।
তিনি কাউকে চিনতে পারছেন না। সারাক্ষণ সেইদিনের ঘটনাই আওড়াচ্ছেন, অবোধ শিশুর মতো আচরণ করছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোস্তাকের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা।

 
বুধবার মানবাধিকার কমিশনের রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিন সদস্য সেখানে গিয়ে তার কথা শুনে এসেছি এবং তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নিয়েছি। তার প্রতি হাসপাতালের কোনও অনিয়ম আমাদের চোখে পড়েনি। উনি ভীষণ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে আমরা লক্ষ্য করেছি।
তারা চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলে জেনেছেন, মোস্তাক এখন কিছু পড়েও শোনাতে পারছেন না এবং এই মানসিক অবস্থা খুব স্বাভাবিক অবস্থায় আছে তাও না।
গত বৃহস্পতিবার বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয়ের কর্মী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে ছাঁটাই করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। ওইদিন প্রায় ৯ ঘণ্টা অপারেটরটির প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা পিরিহেনি এলহামিকে কার্যালয়ে আটকে রাখেন তারা।

 
শরিফুল ইসলামের চাকরিচ্যুতির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে সেদিন তিনি রাত ৩টার দিকে কার্যালয় থেকে বের হন। ওই ঘটনার পর থেকেই বাংলালিংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের বিরোধ শুরু হয়। ওই পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এক দিনের ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
পরে রবিবার অফিস শুরুর আগে কর্মচারী ইউনিয়ন প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিলে কর্তৃপক্ষ অফিস শুরুর সময় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে আনে। প্রধান ফটকের বাইরে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেক করে অফিসে ঢুকতে দেন। মূলত এই আচরণের প্রতিবাদে তখন থেকেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফুঁসতে থাকেন। এরইমধ্যে দুপুরে বাংলালিংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক পাওয়ার অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো. মোস্তাককে অপারেটরটির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই তিনি হাসপাতালে আছেন।

 

 

তার স্ত্রী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে, আমি অধীর আগ্রহ নিয়ে তার পাশে আছি কিন্তু তিনিতো কিছুই চিনছেন না। মুহূর্তে সব এলোমেলো হয়ে গেল।’ তিনি জানান, তার স্বামী সারাক্ষণ কেবল বলে, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বলেছি, আমার শরীর খারাপ লাগছে, ওরা আমাকে বাঁচতে দেবে না, বাবা আসে না কেন?’ বাবার প্রিয় সন্তান মোস্তাক অপেক্ষা করছেন তার বাবাই হয়তো তাকে বাঁচাতে পারবেন।

হাসপাতালটিতে তার চিকিৎসার দায়িত্বে আছেন ড. সাজ্জাদ। তিনি মোস্তাকের এই অবস্থা স্বীকার করে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কিছুতে ভয় পেয়ে থাকতে পারেন। যে কারণে এতোবড় ট্রমায় ঢুকে গেছেন। এখান থেকে বের হতে সময় লাগবে।’

 

 

c5b0ea750d47317676d08f470e68615e-

মিসেস মোস্তাক বাংলা ট্রিবিউনকে অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে আমাদের বলা হয়েছিল আমার স্বামীর অবস্থা স্বাভাবিক, আমরা চাইলে তাকে নিয়ে যেতে পারি।’ কিন্তু আরেকটি হাসপাতাল থেকে অন কলে আসা চিকিৎসকের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে মিসেস মোস্তাক বলেন, ‘উনি আমাদের বলেছেন, আমার স্বামী ভীষণ মানসিক অস্থিরতায় আছেন এবং তিনি মোটেই সুস্থ না। এখনও তাকে অবজারভেশনে রাখা দরকার।’ এরমধ্যে অফিস থেকে কর্তা ব্যক্তিরা কেউ কোনও খবরও নেয়নি বলে জানান তিনি।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা