,

অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টের রায়ে বন্দিশালায় ফেরার শঙ্কায় বাংলাদেশি নারী

114057_32অস্ট্রেলিয়ার আদালতে লড়ে হেরে গেছেন এক বাংলাদেশি নারী। এখন তাকে ফের নাউরু দ্বীপের অভিবাসী বন্দিশালায় পাঠানো হতে পারে। নাউরু দ্বিপে থাকা অবস্থায় অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলেন তিনি। এরপর চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয় অস্ট্রেলিয়ায়। তার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান, মূল ভূখণ্ডের বাইরে অস্ট্রেলিয়া সরকারের যে বন্দিশালা অর্থায়ন ও পরিচালনা করে সেটা অবৈধ। তবে দেশটির হাইকোর্ট গতকাল রায় দিয়েছে যে, সংবিধান অনুযায়ী অভিবাসন প্রত্যাশীদের মূল ভূখণ্ডের বাইরে রাখা যেতে পারে। আদালতের এ রায়ের ফলে এখন ওই বাংলাদেশি নারীকে তার সন্তানসহ ফিরে যেতে হবে পারে বন্দিশালায়। শুধু তিনিই নন, এমন ঝুঁকিতে রয়েছে ২৫০ জনেরও বেশি অভিবাসী। এদের মধ্যে রয়েছে অনেক শিশু। সিএনএন ও ভয়েস অব আমেরিকার খবরে বলা হয়, প্রশান্ত মহাসাগরে নাউরু দ্বীপ আর পাপুয়া নিউগিনির মানুস দ্বীপে অভিবাসীদের জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারের বন্দিশালা রয়েছে। নাউরু দ্বীপে ফেরত পাঠানোর শঙ্কায় থাকা ৫ বছরের এক বালক বলাৎকারের শিকার হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার এক সিনেটর সারাহ্‌ হ্যানসন ইয়ং নাউরু দ্বীপে শিশুদের ফেরত পাঠানোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছে, এটা শিশু নির্যাতনের শামিল। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে মামলাটি চলার সময় অস্ট্রেলিয়া সরকার আইন সংশোধন করে। ওই পরিবর্তনের ফলে, নিজ ভূখণ্ডের বাইরে বন্দিশালা পরিচালানার পূর্র্ণ ক্ষমতা পায় সরকার। আদালতের রায় ঘোষণা হওয়ার আগেই অস্ট্রেলিয়াল অভিবাসন মন্ত্রী পিটার ডাটন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, অভিবাসন প্রত্যাশীদের ফেরত পাঠানো হবে নাউরু দ্বীপে। তিনি বলেছিলেন, মামলার রায় সরকারের পক্ষে আসলে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা অভিবাসন প্রত্যাশীদের বড় একটি অংশকে নাউরুতে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, নৌকায় এসে আমাদের দেশে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার সুযোগ আমরা দেবো না।

বিদেশি ভূখণ্ডে মানুষকে আটকে রাখার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে লড়াই করে হিউম্যান রাইটস ল’ সেন্টার, এইচআরএলসি’র আইনজীবীরা। মামলার শীর্ষ বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশি ওই নারীর ঘটনা। আদালতের রায়ের পর সংগঠনটির আইনি পরামর্শ বিষয়ক পরিচালক ড্যানিয়েল ওয়েব বলেন, আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় আছি যেন তাদের থাকতে দেয়া হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোত ১৪০০রও বেশি মানুষকে অভিবাসন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে। আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। অনেকে অপেক্ষা করছেন ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের বন্দিদশার গড় সময়কাল হলো ৪৪৫ দিন। এইচআরএলসি ২৬০ জন মানুষের পক্ষে আদালতে মামলাটি দাখিল করে। এদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। এদেরকে চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে আনা হয়েছিল। ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব নারীর মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন অনেকে। এছাড়া ৫৪ জন শিশু ও ৩৭ জন নবজাতক রয়েছে যাদের জন্ম অস্ট্রেলিয়ায়। মি. ওয়েব বলেন, এরা প্রত্যেকে এখন শঙ্কিত যে, তাদের অবিলম্বে বন্দিশালায় ফেরত পাঠানো হতে পারে। বাংলাদেশি ওই মা’কে ফোন করে আদালতের রায় জানানোটা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ ছিল বলে উল্লেখ করেন ওয়েব। রায় শুনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সিএনএনকে ওয়েব বলেন, অন্য সকল মা যেটা চান তিনিও একই জিনিস চান। তা হলো, নিজের শিশুকে নিরাপদ কোন স্থানে সুন্দর একটা জীবনের নিশ্চয়তা দেয়া।

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে