,

মিথ্যা পরিচয়, মিথ্যা বাবার, মিথ্যার অবসান

image6পরিচয় জানা ছিল। বাবার সঙ্গে যোগাযোগও ছিল। কিন্তু সেই পরিচয় স্বীকৃত ছিল না। বরং একই নামের অন্য একজনকে বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভর্তি হতে হয়েছিল স্কুলে। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজেও। এবার দিনহাটা কলেজ থেকে বাংলা অনার্সে ফাইনাল পরীক্ষা দেবেন সাদ্দাম হোসেন। নকল বাবার অভিভাবকত্বে চলতে চলতে গ্লানি এলেও জীবনের দাবিকে অস্বীকার করতে পারেননি সাদ্দাম বা তাঁর বাবা নওসের কেউই। কিন্তু ছিটমহল অতীত হয়েছে এখন। দেশ পেয়েছেন তাঁরা। মিলেছে নাগরিকের মহার্ঘ্য পরিচয়। প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে তাই এতদিনের জমিয়ে রাখা যন্ত্রণা জল হয়ে গড়িয়ে নামল দু’জনের চোখেই।

পতাকা উত্তোলনের মঞ্চে বার বার চোখ মুছে সাদ্দাম বলছিলেন, “বাবা আর আমি তোমাকে হারাতে চাই না। তুমি আমার পরিচয়।” সাদ্দামের বাবা নওসের শেখও ছেলেকে দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছিলেন, “তোকেও আর আমি আলাদা করে রাখতে চাইনে বাপ।”
নওসের জানান, মশালডাঙা তখন বাংলাদেশি ছিটমহল। চারদিকে ভারতীয় গ্রাম। ছিটমহল ছেড়ে বের হওয়াই কষ্টকর। বিএসএফের হাতে পড়লে জেলে যেতে হতে পারে। তার পরেও ছেলেমেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে নাছোড় ছিলেন তিনি। বাংলাদেশি ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভারতীয় কোনও স্কুল ভর্তি নেবে না। উপায় কি ? বললেন, ‘‘বুদ্ধি নিতে অনেকের কাছেই গিয়েছিলাম। শেষে উপায় বের হল। বদলাতে হবে বাবা। বদলাতে হবে ঠিকানা।’’

মশালডাঙার নওসেরের বদলে সাদ্দামের বাবা হলেন শেওড়াগুড়ির নওসের।
সাদ্দাম বলেন, “তিনি আমাদের এক আত্মীয়। বাবার নামেই তাঁর নাম ছিল। তাঁকেই আমার বাবা সাজানো হয়।” ওই সাজানো বাবার পরিচয় নিয়েই সাদ্দামকে ভর্তি করা হয় গাওচুলকা নিম্নবুনিয়াদি বিদ্যালয়ে। ওই পরিচয়েই নাজিরহাট হরকুমারি হাইস্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে সাদ্দাম। ভর্তি হন দিনহাটা কলেজে। সাদ্দাম জানান, মিথ্যে পরিচয়, ‘মিথ্যে বাবা’ নিয়ে সব সময় একটা অস্বস্তি তাড়া করে বেরিয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদের কোনও উপায় ছিল না। তাই আন্দোলনে শরিক হন তিনি। তাঁর কথায়, “এই জীবন ক্রমশ যেন ভয়াবহ হয়ে আসছিল। শুধু আমি নই। আমরা ছয় ভাই বোন সকলেই অন্য বাবার পরিচয়ে বেঁচে ছিলাম।”

নওসের জানান ২০০০ সালে কাজের জন্যে গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েছিলেন তিনি। অনেক কাকুতি-মিনতি করেও লাভ হয়নি। বিদেশি আইনে ৬৪ দিন জেল খাটার পরে জামিনে ছাড়া হয় তাঁকে। নওসের বলেন, “এই অবস্থার মধ্যে দিন কাটিয়েছি আমরা। ছেলেমেয়েরা একই দিন দেখুক চাইনি। তাই তাঁদের শিক্ষিত করে তোলা আমার লক্ষ্য ছিল। পাশের ভারতীয় গ্রামের আত্মীয় এগিয়ে আসায় তাঁর পরিচয়েই ছেলেমেয়েদের স্কুলে ভর্তি করি।” তিনি খুশি যে তাঁর ছেলে এখন কলেজের ছাত্র।
নাগরিক অধিকার রক্ষা সমন্বয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেন, “এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাদ্দাম, তাঁর বাবা নওসের কেউ হার মানেনি। আমরা তাঁদের পাশে ছিলাম। কিন্তু মূল লড়াইটা তাঁরাই লড়েছে। আজ আর কাউকে বাবা বদলাতে হবে না। নিজেদের পরিচয়েই তাঁরা বেঁচে থাকতে পারবেন।”

কোচবিহারের জেলাশাসক পি উল্গানাথন জানান, বিনিময় চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ওই সমস্যা আর নেই। তিনি বলেন, “যারা নাম, বাবার নাম, ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, তাঁরা নিজের আসল অবস্থানে ফিরে যেতে পারবেন। এখন তো সবার ঠিকানা হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে আবেদন জানালেই আমরা ওই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেব।”

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা