শনিবার, ২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তোমরা কি কোন কষ্ট স্বীকার না করেই জান্নাতে যেতে চাও?

islam_21267অনেক সময় আমাদের ভেতরে একটা দাবি চলে আসে যে, আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, যাকাত দেই, মাঝে মাঝে দান-খয়রাত করি, ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা করি, তাহলে আমার জীবনে আবার কষ্ট আসবে কেন? মুসলিমের জীবন তো সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যের হওয়ার কথা। বান্দার জীবনে তো কোনো ধরনের কষ্ট পাওয়ার কথা নয়?

ছোট কষ্টগুলো না হয় সহজেই মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু নিকটজনকে ‘অকালে’ হারানো, চাকরি চলে যাওয়া, ব্যবসা ধ্বসে পরিবার নিয়ে পথে বসা, নিজের কঠিন অসুখ হওয়া, সন্তান বখে যাওয়া, বাবা-মার কঠিন অসুখ, দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ হয়ে দিনের পর দিন না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করা, এইসব কঠিন সমস্যা তো শুধু অমুসলিমদের হওয়ার কথা। মুসলিমদের জীবনে তো কখনো এত বড় বিপদ হওয়ার কথা নয়? আমরাই তো আল্লাহর মনোনীত ধর্মে আছি।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা কি ধরে নিয়েছ যে, আগের প্রজন্মের মতো কষ্ট না করে এমনিতেই তোমরা জান্নাতে চলে যাবে? আগের প্রজন্মকে দুর্দশা-দারিদ্রতা, কষ্ট-যন্ত্রণা আঘাত করেছিল এবং তাদেরকে এতটাই কাঁপিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, তাদের মধ্যে যে রাসুল ছিল, সে এবং তার সঙ্গের বিশ্বাসীরা পর্যন্ত বলে উঠেছিল, “কবে আল্লাহর সাহায্য আসবে?” কোনো সন্দেহ নেই, আল্লাহর সাহায্য একদম কাছেই।’-আল-বাক্বারাহ ২১৪

আমাদের জীবনে প্রায়ই কষ্ট, দুর্দশা আসে। তখন আমরা অনেকেই দিশেহারা হয়ে যাই। কাউকে তখন ভাগ্য বা যোগ্যতার অভাবকে দোষ দিতে দেখা যায়। আবার কারো বেলায় সেটা অন্য কারো দোষ। যেমন, সমাজের দোষ, দেশের দোষ, সরকারের দোষ, কিংবা স্ত্রী-সন্তান-পিতা-মাতার দোষ।
যাইহোক, এ ধরনের আহাজারি, দোষারোপ করে কোনো লাভ হয় না। বরং নেতিবাচক কথা এবং চিন্তা আমাদের মানসিক অবস্থাকে আরও খারাপ করে দেয়। নিজের ভেতরের তিক্ততা অন্যের মধ্যেও ছড়িয়ে দেয়। অন্যদের জন্য সে তখন মানসিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যরা তখন তাদের মন খারাপ হয়ে যাওয়ার ভয়ে এই ধরনের মানুষদের এড়িয়ে চলে।

আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে আরো বলেছেন, ‘দুর্দশা আঘাত করলে যারা সাথে সাথে বলে, “আমরা তো আল্লাহরই সম্পত্তি, আর অবশ্যই আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাচ্ছি।” এরাই হচ্ছে তারা, যাদের জন্য বিশেষভাবে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে অভিবাদন এবং অনুগ্রহ। আর এরাই তারা, যারা সঠিক পথ পেয়ে গেছে।’ -আল-বাক্বারাহ ১৫৬-১৫৭

আমরা তো আল্লাহর সাধারণ বান্দা। আমাদের উপর কম বেশি কষ্ট আসতেই পারে। কষ্ট ও দুর্দশার কারণে আল্লাহর একজন রাসুল পর্যন্ত বলে উঠেছিলেন, “কবে আল্লাহর সাহায্য আসবে?” আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের সবারই মানসিক দুর্বলতা আছে, সহ্যের সীমা আছে। বিপদ-আপদ ও দুর্দশার মাঝেও যারা আল্লাহর উপর ভরসা রাখে তার কথা মেনে চলে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ পাক তাদের বিষয়ে ইরশাদ করেছেন, ‘এরাই হচ্ছে তারা, যাদের উপর বিশেষভাবে তাদের প্রভুর পক্ষ থেকে ‘সালাওয়াত’ এবং ‘রাহমাহ’।’ -আল-বাক্বারাহ ১৫৭