বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাইবার সহিংসতার প্রধান শিকার নারীরা

70-400x260ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশে ক্রমেই বাড়ছে সাইবার অপরাধ। দেশে ক্রমশ বেড়ে চলা সাইবার সহিংসতার সবচেয়ে বড় শিকার-নারী। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী হয়রানির ঘটনা ঘটছে সবচেয়ে বেশি। স্কুলপড়ুয়া কিশোরী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণী, কর্মজীবী থেকে গৃহবধূ -কেউই এই সহিংসতা থেকে রেহায় পাচ্ছেন না। সাইবার পরিসরে ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে ওঠা এই পরিবেশের জন্য আইনের শাসনের অভাবকেই দায়ী করছেন নারী অধিকারকর্মীরা।

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। কয়েক দশক আগেও যেখানকার নারীদেরকে বলা হত পশ্চাৎপদ, সেখানে নারী শিক্ষা ও অগ্রায়ণে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ এখন সমাদৃত হচ্ছে ‘পথিকৃৎ’ হিসেবে।

শিক্ষা-দীক্ষার মতো নারীরা পিছিয়ে নেই প্রযুক্তির ব্যবহারেও। সরকারি হিসাবে, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় সাড়ে ৫ কোটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। যাদের বড় একটি অংশ আবার যুক্ত রয়েছেন ফেইসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সঙ্গে। কিন্তু সাইবারের মুক্ত জগতে তারা কতোটা নিরাপদে বিচরণ করতে পারছেন?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল রাজধানীতে-ই ফেইসবুক ব্যবহারকারী নারীদের শতকরা ৮৫ জনই কোনো না কোনোভাবে সাইবার সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। আর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-বিটিআরসি বলছে, প্রতিদিন তাদের কাছে যতো অভিযোগ আসে, তার ৮০ ভাগই নারী হয়রানি বিষয়ক। এছাড়া একই কারণ পাওয়া গেছে সাইবার আদালতে পড়া মামলাগুলোর সিংহভাগের ক্ষেত্রেও।
এখানেই শেষ নয়, সাইবার সহিংসতা অনেকক্ষেত্রে মৃত্যুরও কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গণমাধ্যমের দেয়া তথ্যানুসারে, ইন্টারনেটে নগ্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায়, সামাজিক ভয় আর লজ্জায় গত ১১ মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মহত্যা করেছেন অন্তত ৩ নারী। এছাড়া আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন আরো অন্তত ৭ জন। যাদের একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্কুলছাত্রী।

সাইবার সহিংসতার শিকার সেই স্কুলছাত্রী বলেন, ‘আমার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, আমি কোনদিন লেখাপড়া-ই করতে পারব না। কারণ আমি অনেকদিন স্কুলে যেতে পারিনি। ঘর থেকেই বের হতে পারিনি। যে আমাকে দেখত, সেই হাসাহাসি কিংবা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করত।’

কঠোর আইন থাকার পরও তার সঠিক প্রয়োগ না থাকাকেই এ অবস্থার জন্য দায়ী করছেন নারী অধিকারকর্মীরা।
নারী আন্দোলনের নেত্রী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, ‘নালিশ না করার কারণ হচ্ছে, যদি সে (সহিংসতার শিকার নারী) অভিযোগ করে তাহলে সে কোনরকম ফলাফল দেখতে পাবে না- এই ভাবনা তার মনে কাজ করে। নারী নির্যাতন যে-ই করুক না কেন, তাকে একটা জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে-এটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি তাহলে প্রযুক্তি একা একা কোন রকম নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে না।’
সম্প্রতি জাতিসংঘ থেকে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতিদিন যে সংখ্যক নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, তাদের ৪ ভাগের অন্তত ৩ ভাগ সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ হার আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে বলেও এই গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে। তাই এ ব্যাপারে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেয়া হলে বাংলাদেশে এটি মাথা ব্যথার নতুন একটি কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এ জাতীয় আরও খবর

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে

ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪

বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

আগারগাঁওয়ে শুরু হচ্ছে হজ-ওমরাহ মেলা

গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকার ও বিএনপিতে রদবদলের আলোচনা

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী, চুলা ও সিএনজি দুই-ই বিপাকে

৯ জেলায় ঝড়ের সতর্কতা, ৬০ কিমি বেগে বাতাসের শঙ্কা