বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারীদের সাথে নারীদের দেখা……

2016_01_19_13_56_23_gcwne5eFIquae02RNsCVtuWV050Vqq_originalগতকাল পাবলিক লাইব্রেরীতে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে নারীদের জন্য হয়ে গেল রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’। রয়া-র আগে ঢাকা শহরের রাস্তা-পথ আর মানুষ ভেসে ওঠে ক্রিনে। তারও আগে যদি চোখ রাখি দেখি পর্দা ওঠার আগে কেবল নারীরা সারিবদ্ধভাবে ঢুকছেন পাবলিক লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামে। কেবল নারীরা। আয়োজকদের উদ্দ্যেশ্যই ছিল এই নারীরা যেন নারীদের পাশে বসে দেখে যেতে পারে নারীরই যাপিত জীবনের গল্প। সাড়ে পাঁচটা বাজে ঘড়ির কাঁটায় ঠিক পর্দা ওঠে মঞ্চের। উপস্থাপক ডেকে নিয়েছিলেন নির্দেশককেই প্রথমে। মঞ্চে উঠে নির্দেশক রুবাইয়াত হোসেন একে একে মঞ্চে ডেকে নিচ্ছিলেন “আন্ডারকনস্ট্রাকশন” এর সাথে যুক্ত যেসকম নারীরা উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে।

n1

রয়া থিয়েটারকর্মী, ময়না গৃহকর্মচারী আর রয়া-র মা একজন স্বাবলম্বী মানুষ – কিন্তু সমস্ত কিছুর পরে তিন জন নারী সমাজের তিন দিক থেকে যেন উঠে দাঁড়ায় পর্দাজুড়ে। নন্দিনী চরিত্রে বারো বছর অভিনয় করে চলা রয়া নন্দিনী-কে খুঁজে ফেরে। রক্তমাংসের নন্দিনীকে এ সমাজেই সে খুঁজে পায়, এই ইট কাঠ পাথরের ধুলো ধূসরিত শহরে। ময়না-কে না হারাতে চাওয়ার মাঝেও সমস্ত নারী সত্ত্বাকে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে জেগে ওঠার এক ইচ্ছে কাজ করে হয়তো রয়ার। কিংবা মায়ের কাছে বাবা সম্পর্কে নেতিবাচক কথাগুলোর মধ্য দিয়ে আদতে নিজস্ব জীবনের যন্ত্রণাই উসকে উঠে। না-পাওয়ার বেদনা কিংবা নিস্পৃহ এক সম্পর্ক বয়ে নিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ থেকেই কি রূঢ় হয়ে উঠে রয়া মায়ের প্রতি? দেখতে দেখতে মনে হয় কোথাও একটা নিয়ে যাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। এবং তারপর চলচ্চিত্র আদতে শেষ হয় এক যাত্রার মধ্য দিয়ে। শেষ অবধি জেগে থাকে দ্বন্দ্ব-সংগ্রাম-জেদ।

সমস্ত গল্পটুকু নিয়ে হলেই আসছে শীঘ্র “আন্ডার কনস্ট্রাকশন”। আগামী ২২শে জানুয়ারী চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স, বলাকা, শ্যামলী এবং যমুনা ব্লকবাস্টার এ। গতকালের প্রদর্শনী শেষে নারীদের আড্ডায় ঝলমল করছিল পাবলিক লাইব্রেরী প্রাঙ্গন।

‘আন্ডার কনস্ট্রাকশন’ দেখতে হাজির ছিলেন তারাও…

চলচ্চিত্র শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গীতিআরা নাসরীন বলেন – ‘অতো দ্রুত কোন কিছু সম্পর্কে বিস্তারিত বলি না, পারি না আর কি। আমার আরও কয়েকবার দেখতে হবে, ছবিটা সেরকম না, দীর্ঘক্ষণ ভাববার মতোন এটা। রুবাইয়াত যেটা করেছেন একটা সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন নন্দিনী-র মতোন চিরচেনা চরিত্রকে ধাক্কা দিয়ে । রয়া যখন চারপাশ দেখে, চারপাশের মানুষের সাথে মিশে তখন রয়া বুঝতে পারে সে আসলে বিচ্ছিন্ন কোন মানুষ না – আমার মনে হয় এটা একটা উপলব্ধি। আরেকটা ব্যাপার হল – এই যে নন্দিনীর চিরচেনা ইমেজ তা আজকের সময়ের সাথে মিলিয়ে ভাবা যায় কি না তা ভাবা বা সেটাকে প্রশ্ন করেছে এ চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্র সমাজের কয়েকটি স্তরের নারীদের মধ্যেও সংযোগ স্থাপন করে। তবে সামগ্রিকভাবে রুবাইয়াত-কে অভিনন্দন,আমার মনে হয় এ চলচ্চিত্রের অনেকগুলো স্তর রয়েছে যেগুলো বোঝার ব্যাপার। এটা নানান দিক থেকে অসাধারণ একটা কাজ হয়েছে। যে দেখবে তাকে এ চলচ্চিত্র ছোঁবে বলে মনে হয় এবং মেয়ে হলে আরও বেশি ছোঁবে।’

পরিচালক রুবাইয়াত চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে বলেন – ‘আজ প্রায় ২৫০জনের উপরে ছিল নারীদের উপস্থিতি, এটা ভালোলাগার। আর চলচ্চিত্র নিয়ে এখনো তেমনভাবে জানার সুযোগ হয়নি মানুষের মতামত। যারা এসে বলেছেন তাদেরটাই জানি। আমার মনে হয় ছবি মুক্তি পাওয়ার পরই বোঝা যাবে দর্শকের কতটা ভালো লাগছে কিংবা লাগছে না।’

এ জাতীয় আরও খবর