বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের সাম্প্রতিক মারমুখি আচরণ; বিশ্লেষকের প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট (আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া.কম) : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশ কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বির ওপর হামলা- পুলিশ সদস্যদের এমন আচরণ বাহিনীটির অবক্ষয়েরই প্রকাশ বলে মনে করেন মানবাধিকার কর্মী ফরহাদ মজহার। এসব ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পুলিশের সংস্কার জরুরি বলেই মনে করেন তিনি।

সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসা ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয় দোকানী, ছাত্রলীগ ও পলিশের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এ ঘটনার জেরে পুলিশের অভিযানে আহত হয়ে হাসপাতালে মারা যায় মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ মাসুদুর রহমান। তার মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও সহিংস করে তোলে। মাসুদকে পুলিশ রাইফেল দিয়ে পিটিয়ে চারতলা থেকে নীচে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় প্রায় ৬ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ৯টি মামলা হয়েছে।

শনিবার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা গোলাম রাব্বীকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাসুদ শিকদার। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করা হয় এসআই মাসুদকে। রাত ১১টার দিকে মোহাম্মদপুর থেকে কল্যাণপুরে বাসায় যাওয়ার পথে, ইয়াবা আছে বলে এসআই মাসুদসহ পুলিশ সদস্যরা তাকে নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। এক পর্যায়ে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তুলে তাকে ব্যাপক মারধোর করা হয়। ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানোর হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়, ক্রসফায়ার দেয়ার হুমকি দেয়া হয় তাকে। পরে বন্ধুদের সহায়তার ছাড়া পান রাব্বি।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আজ (শুক্রবার) ভোরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের বেধড়ক পিটুনির শিকার হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা-কর্মীদের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাশ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিকাশ জানান, দয়াগঞ্জে নিজের বাড়ি থেকে সায়েদাবাদ এলাকায় কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মীর হাজিরবাগ এলাকায় সাদা পোশাকধারী চারজন পুলিশ তাকে থামার সংকেত দেন। ছিনতাইকারী ভেবে মোটরসাইকেল ফেলে দৌড় দেন তিনি। পরে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে।

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকার কর্মী ফরহাদ মজহার বলেন, পুলিশের এমন আচরণ নতুন নয়। আগে র‍্যাব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড করতো, তা এখন পুলিশবাহিনী অনেক বেশি করছে। তাদেরকে সরকার বিরোধী দলকে দমন করার জন্য ব্যবহার করায়, তারা অনেকক্ষেত্রে সুযোগ নেবে- এটাই স্বাভাবিক। তাই এসব ঘটনাকে ব্যক্তির অপরাধ বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এটাই প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলেই মনে করেন এ বিশ্লেষক।

যারা এসব ঘটনাকে প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তির অপরাধ মনে করেন- তারা পুলিশের ক্ষতি করছেন। আসলে সংস্কার প্রয়োজন যে, বাহিনীটি কিভাবে, কতটুকু ভূমিকা রাখবে তার আইনী কাঠামো দরকার। তবে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সামগ্রিক রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতেই পুলিশের সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন ফরহাদ মজহার। সূত্র : রেডিও তেহরান4bk19c82715cd32lg0_620C350

এ জাতীয় আরও খবর

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে

ডেঙ্গুতে আরও ৩ প্রাণহানি, হাসপাতালে ভর্তি ৫৩৪

বিশেষ অভিযানে ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি গ্রেপ্তার

আগারগাঁওয়ে শুরু হচ্ছে হজ-ওমরাহ মেলা

গ্যাস সংকট সমাধানে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইলেন তারেক রহমান

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সরকার ও বিএনপিতে রদবদলের আলোচনা

গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে রাজধানীবাসী, চুলা ও সিএনজি দুই-ই বিপাকে