,

স্পিন ছাপিয়ে পেসের রাজত্ব

news-image

এমন আলোকিত বছর আর আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে। আলো ঝলমলে পারফরম্যান্সেরও দেখা মেলেনি আগে। ফুরোতে বসা রূপকথার সেই বছরের হিরে-চুন্নি-পান্নায় আলো ফেলছে কালের কণ্ঠ। স্মৃতির রেলগাড়িতে চড়ে ঘুরে আমরা আসছি হিরণ্ময় সেই মুহূর্তগুলোয়। তিন পর্বের ধারাবাহিকের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আজ বছরের সেরা পাঁচ বোলিং পারফরম্যান্স।  লিখেছেন নোমান মোহাম্মদ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার শেষাঙ্কে সম্ভাবনার পাল্লা হেলে ছিল ইংল্যান্ডের দিকে। ২ উইকেট হাতে নিয়ে ১২ বলে চাই মোটে ১৬ রান। এ অবস্থায় রুবেল হোসেনের হাত থেকে বেরোয় আগুনের গোলার মতো দুটো ব্রহ্মাস্ত্র। প্রথম বলে স্টুয়ার্ট ব্রডের স্টাম্প ছত্রখান, এক বল বিরতি দিয়ে জেমস অ্যান্ডারসনের বেলস উড়ে যায় আকাশে। যে বল দুটো তুলনীয় এখন ১৯৯২ বিশ্বকাপ ফাইনালে ওয়াসিম আকরামের সেই দুটো ডেলিভারির সঙ্গে। ৯.৩-০-৫৩-৪ বোলিং ফিগারের সেই ম্যাচটি তাই অমরত্ব দেয় রুবেলকে। খলনায়ক থেকে বনে যান তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেট-বীর।

ভারতের বিপক্ষে সে ম্যাচে চমকের শুরুটা ছিল একাদশ নির্বাচনেই। বাংলাদেশ যে মাঠে নামে চার পেসার নিয়ে। ৩০৭ রান তুলে ব্যাটসম্যানরা এরপর মঞ্চটা ছেড়ে দেন বোলারদের। সেই মঞ্চে পারফরম্যান্সের কী অপূর্ব আলোই না ছড়ান বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজ! যদিও ৯৫ রানের ওপেনিং জুটিতে জয়ের কক্ষপথে ছিল ভারত। জোড়া ব্রেক থ্রুতে তাসকিন আহমেদ ম্যাচে ফেরান বাংলাদেশকে। এরপর কেবলই ‘মুস্তাফিজ ম্যাজিক’। একে একে পাঁচ ব্যাটসম্যানকে আউট করে তিনিই নায়ক। মুস্তাফিজের ৯.২-১-৫০-৫ বোলিং ফিগারের আলোকিত অভিষেকে তাই নতুন এক তারকা পেয়ে যায় বাংলাদেশ।

দিন তিনেক পরের ম্যাচে জ্বলে ওঠেন শুরুতেই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই ফেরান রোহিত শর্মাকে। ধারাবাহিকতায় তাঁর শিকারের ঝুলিতে যোগ হয় সুরেশ রায়না, মহেন্দ্র সিং ধোনি, অক্ষর প্যাটেল, বরিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার নাম। মুস্তাফিজের বোলিং পড়তেই পারছিলেন না কেউ। স্লোয়ারে-কাটারে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন সবাইকে। তাঁর প্রশংসায় ধারাভাষ্যকারদের শব্দের ভাঁড়ারে টান পড়ার দশা। অপ্রতিরোধ্য মুস্তাফিজ যেন তখন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার খেলায় মত্ত। এবার তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ ১০-০-৪৩-৬। মুস্তাফিজের কীর্তিতে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজও জেতে বাংলাদেশ।নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ছিলেন না। নেতৃত্বের ভার তাই সাকিব আল হাসানের কাঁধে। তা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে যোগ্য নেতার মতোই সামনে থেকে লড়েন তিনি। মাহমুদ উল্লাহর টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ২৮৮ রানের পুঁজি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বল তুলে নেন নিজের হাতে। চটজলদি ফিরিয়ে দেন সেরা দুই ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও কেন উইলিয়ামসনকে। এরপর মার্টিন গাপটিল ও লুক রঙ্কিকেও তুলে নেন সাকিব। দল হারায় ৮.৫-১-৫৫-৪ বোলিং ফিগার নিয়েও তাই বিমর্ষ ‘অধিনায়ক’ সাকিব।

চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট উইকেট পাওয়ার জন্য বেশ কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয় মুস্তাফিজকে। অবশেষে তা পান যখন, রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটিং লাইনের ওপর। প্রায় হ্যাটট্রিকই তো হয়ে যাচ্ছিল মুস্তাফিজের! এক ওভারের প্রথম বলে হাশিম আমলাকে আউট করে বাঁহাতি পেসারের প্রথম টেস্ট উইকেট। পরের বলে জেপি দুমিনিকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে তৈরি করেন হ্যাটট্রিকের মঞ্চ। কিন্তু কুইন্টন ডি কক সে বলটি রুখলেও পরের বলেই আউট! টেস্ট অভিষেকে চার বলে ৩ উইকেট! ইনিংস শেষের বোলিং বিশ্লেষণ ১৭.৪-৬-৩৭-৪।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা