শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সূরা ইখলাসের গুরুত্ব ও বঙ্গানুবাদ

news-image

সূরা ইখলাস কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। কোরআনের অধিকাংশ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরার মধ্যে থাকা কোন একটি শব্দ দ্বারা। কিন্ত এসূরাটি এর ব্যাতিক্রম। বরং এসূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরাটির সারমর্মের দিকে লক্ষ করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ সূরাটি ছিল বিপুল মহত্বের অধিকারী।

বিভিন্নভাবে তিনি সাহাবিদের এর গুরুত্ব অনুভব করাতেন। তারা যাতে এ সূরাটি বেশী করে পড়েন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একে বেশী করে ছড়িয়ে দেয় এজন্য ছিল তাঁর এ প্রচেষ্টা। কেননা এখানে ইসলামের প্রাথমিক ও মৌলিক আকীদাকে (তাওহীদ) এমন ছোট ছোট চারটি বাক্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শুনার সাথে সাথেই মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং তারা সহজেই মুখে মুখে সেগুলো আওড়াতে পারে।

রসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে লোকদের বলতেন, এ সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান— এ মর্মে হাদীসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বুখারী, তিরমিযী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইত্যাদি কিতাবগুলোতে বহু হাদীস আবু সাঈদ, খুদরী, আবু হুরাইরা, আবু আইয়ুব আনসারী, আনাস ইবনে মালেক ও আবু মাস’উদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মুফাসসিরগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তির বহু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে সহজ, সরল ও পরিষ্কার কথা হচ্ছে, কুরআন মজীদ যে দ্বীন ও জীবন ব্যবস্থা পেশ করে তার ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি বুনিয়াদী আকীদার ওপর। এক, তাওহীদ। দুই, রিসালাত। তিন, আখেরাত। এ সূরাটি যেহেতু নির্ভেজাল তাওহীদ তত্ব বর্ণনা করেছে তাই রসূলুল্লাহ (সা.) একে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান গণ্য করেছেন।

হযরত আয়েশার (রা.) একটি রেওয়ায়াত বুখারী ও মুসলিম এবং হাদীসের অন্যান্য কিতাবগুলোতে উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অভিযানে এক সাহাবীকে সরদারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। তিনি সমগ্র সফরকালে প্রত্যেক নামাযে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পড়ে কিরআত শেষ করতেন। এটা যেন তার স্থায়ী রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিরে আসার পর তার সাথীরা রসূলুল্লাহ (সা.) কাছে একথা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কেন এমনটি করেছিল? তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দেনঃ এতে রহমানের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এর পাঠ আমার অত্যন্ত প্রিয়। রসূলুল্লাহ (সা.) একথা শুনে লোকদের বলেনঃ “তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।”
বঙ্গানুবাদ

১.আপনি বলুন, তিনি আল্লাহ, একক।২. আল্লাহ কারোর ওপর নির্ভরশীল নন এবং সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল।৩. তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন।৪. এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
এটি কোরআনের একটি ছোট্ট সূরা। আমরা চাইলে দিনে অনেক বার পাঠ করতে পারি। সাথে সাথে আমরা সূরাটির অর্থ ও ব্যাখ্যাও পড়তে পাড়ি তাহলে আমরা সূরাটির মর্মকথা উপলব্ধি করতে পারবো। সাবায়ে কেরামের ভাষা ছিলো আরবি তাই তারা শুধু পড়লেই তা উপলব্ধি করতে পারতেন। কিন্তু আমাদেরকে অর্থ ও ব্যাখ্যা পড়তে হবে।তাহলেই আমরা কেবল তা উপলব্ধি করতে পারবো। আল্লাহ আমাদের সে তৌফিক দান করুন। আমীন।

এ জাতীয় আরও খবর

গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, বিপাকে চালকরা

দুই দফা বাড়ার পর স্বর্ণের দামে বড় পতন

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আজ পদত্যাগ করছেন

আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি জেনে নিন

ভালোবাসা পেলাম, এবার তার যোগ্য হওয়ার পালা : ফারিয়া

অবশেষে অনশন ভাঙলেন সোনাম ওয়াংচুক

ফ্ল্যাট থেকে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মাংস, ডিম ও ব্রয়লারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে মাছের দাম

নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ : শিক্ষা সচিবকে অপসারণ করল ভারত

বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ

বাগেরহাটে খানজাহান আলী মিশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে সমবায় সমিতির উদ্যোগ