,

সূরা ইখলাসের গুরুত্ব ও বঙ্গানুবাদ

news-image

সূরা ইখলাস কোরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা। কোরআনের অধিকাংশ সূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরার মধ্যে থাকা কোন একটি শব্দ দ্বারা। কিন্ত এসূরাটি এর ব্যাতিক্রম। বরং এসূরার নামকরণ করা হয়েছে সূরাটির সারমর্মের দিকে লক্ষ করে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ সূরাটি ছিল বিপুল মহত্বের অধিকারী।

বিভিন্নভাবে তিনি সাহাবিদের এর গুরুত্ব অনুভব করাতেন। তারা যাতে এ সূরাটি বেশী করে পড়েন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একে বেশী করে ছড়িয়ে দেয় এজন্য ছিল তাঁর এ প্রচেষ্টা। কেননা এখানে ইসলামের প্রাথমিক ও মৌলিক আকীদাকে (তাওহীদ) এমন ছোট ছোট চারটি বাক্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শুনার সাথে সাথেই মানুষের মনে গেঁথে যায় এবং তারা সহজেই মুখে মুখে সেগুলো আওড়াতে পারে।

রসূলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদ্ধতিতে লোকদের বলতেন, এ সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান— এ মর্মে হাদীসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। বুখারী, তিরমিযী, মুসলিম, আবু দাউদ, ইত্যাদি কিতাবগুলোতে বহু হাদীস আবু সাঈদ, খুদরী, আবু হুরাইরা, আবু আইয়ুব আনসারী, আনাস ইবনে মালেক ও আবু মাস’উদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত হয়েছে।
মুফাসসিরগণ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ উক্তির বহু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। তবে সহজ, সরল ও পরিষ্কার কথা হচ্ছে, কুরআন মজীদ যে দ্বীন ও জীবন ব্যবস্থা পেশ করে তার ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি বুনিয়াদী আকীদার ওপর। এক, তাওহীদ। দুই, রিসালাত। তিন, আখেরাত। এ সূরাটি যেহেতু নির্ভেজাল তাওহীদ তত্ব বর্ণনা করেছে তাই রসূলুল্লাহ (সা.) একে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান গণ্য করেছেন।

হযরত আয়েশার (রা.) একটি রেওয়ায়াত বুখারী ও মুসলিম এবং হাদীসের অন্যান্য কিতাবগুলোতে উদ্ধৃত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছেঃ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক অভিযানে এক সাহাবীকে সরদারের দায়িত্ব দিয়ে পাঠান। তিনি সমগ্র সফরকালে প্রত্যেক নামাযে “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ” পড়ে কিরআত শেষ করতেন। এটা যেন তার স্থায়ী রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিরে আসার পর তার সাথীরা রসূলুল্লাহ (সা.) কাছে একথা বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কেন এমনটি করেছিল? তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দেনঃ এতে রহমানের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। তাই এর পাঠ আমার অত্যন্ত প্রিয়। রসূলুল্লাহ (সা.) একথা শুনে লোকদের বলেনঃ “তাকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন।”
বঙ্গানুবাদ

১.আপনি বলুন, তিনি আল্লাহ, একক।২. আল্লাহ কারোর ওপর নির্ভরশীল নন এবং সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল।৩. তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন।৪. এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।
এটি কোরআনের একটি ছোট্ট সূরা। আমরা চাইলে দিনে অনেক বার পাঠ করতে পারি। সাথে সাথে আমরা সূরাটির অর্থ ও ব্যাখ্যাও পড়তে পাড়ি তাহলে আমরা সূরাটির মর্মকথা উপলব্ধি করতে পারবো। সাবায়ে কেরামের ভাষা ছিলো আরবি তাই তারা শুধু পড়লেই তা উপলব্ধি করতে পারতেন। কিন্তু আমাদেরকে অর্থ ও ব্যাখ্যা পড়তে হবে।তাহলেই আমরা কেবল তা উপলব্ধি করতে পারবো। আল্লাহ আমাদের সে তৌফিক দান করুন। আমীন।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা