,

নেপালে স্বপ্নের ফাইনালে কলসিন্দুরের মেয়েরা

news-image

স্পোর্টস ডেস্ক : ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের মেয়েদের স্বপ্নের ফাইনাল ম্যাচ রোববার নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হবে। ভূমিকম্পের কারণে স্থগিত হওয়ার সাত মাস পর ম্যাচটি আবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে জেলার ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুরের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে উন্মাদনা।

গত এপ্রিল মাসে নেপালের কাঠমান্ডুতে শুরু হয় আঞ্চলিক এএফসি কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ মেয়েদের চ্যাম্পিয়নশিপ। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ নারী দলে খেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার ১০ ছাত্রী। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের মেয়েরা ভুটানকে ও ইরানকে হারিয়ে এবং ভারতের সঙ্গে ড্র করে ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বী স্বাগতিক নেপাল। কিন্তু নেপালে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ফাইনাল খেলাটি স্থগিত করা হয়। স্বপ্নের ফাইনাল রেখে ভূমিকম্পের আতঙ্ক নিয়ে বিশেষ বিমানে দেশে ফিরে আসে মেয়েরা।

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী দলের ১৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১০ জন কলসিন্দুর ও আশপাশের দুটি গ্রামের। ২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিয়ে আয়োজিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওই মেয়েরা ফুটবল খেলতে শুরু করে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মফিজ উদ্দিনের অনুপ্রেরণায় ও অদম্য ইচ্ছায় মেয়েরা জড়তা ভেঙে নামে ফুটবল মাঠে। প্রথম দুবার মেয়েরা আঞ্চলিক পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হলেও জাতীয় পর্যায়ে হেরে যায়। তাতে দমে যায়নি শিক্ষক-কোচ মফিজ উদ্দিন ও তাঁর শিষ্যরা। এরপর ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পর পর দুবার বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ওই মেয়েরা একই ক্যাম্পাসের কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখায় ভর্তি হয়। প্রাথমিক স্কুল ছেড়ে দিলেও মেয়েদের ছেড়ে দেননি মফিজ উদ্দিন। তিনি নিয়মিত মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেন। এতে ওই অদম্য মেয়েরা হয়ে ওঠে ফুটবলার। ময়মনসিংহ জেলা নারী দলের হয়ে খেলা ১৮ জন মেয়েই কলসিন্দুরের মফিজ উদ্দিনের শিষ্য।

কলসিন্দুরের মেয়েদের এই সফলতার গল্প গত ২২ আগস্ট ‘প্রথম আলো’র শনিবারের বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়। এরপর ‘প্রথম আলো’র পক্ষ থেকে কলসিন্দুরের মেয়েদের নিয়ে ‘অদম্য মেয়েরা’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা হয়। এই মেয়েদের গল্প দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

কালকের খেলা নিয়ে আজ দিনভর কলসিন্দুর ও ধোবাউড়া উপজেলা সদরের মানুষের মধ্যে ছিল আলোচনা। কয়েকজন ‘প্রথম আলো’কে বললেন, ‘প্রথম আলো’ যেভাবে মেয়েদের সাফল্যের খবর প্রচার করেছে তাতে বিশ্বের মানুষ এখন কলসিন্দুরকে চিনে। তাঁরা চান, ফাইনালে বাংলাদেশ জিতুক। বাংলাদেশের জয় মানেই কলসিন্দুরের জয়।

বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টায় কাঠমান্ডুতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল খেলাটি সরাসরি দেখাবে বলে জানা গেছে। আজ তাই এখানকার বাসিন্দাদের অনেকে ওই টেলিভিশন চ্যানেলটি দেখা যাওয়ার বিষয় নিয়ে কেবল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিদ্যুৎ যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে, সে ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।

মেয়েদের শিক্ষক-কোচ মফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার আত্মবিশ্বাস বাংলাদেশ জিতে আসবে। বাংলাদেশ জিতলেই জিতবে কলসিন্দুর।’

কলসিন্দুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জালাল উদ্দিন বাংলাদেশ দলের ও নিজের প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের সাফল্য কামনা করেন।

দলের অন্যতম সদস্য মারিয়া কাঠমান্ডুর উদ্দেশে বিমানে ওঠার আগে গতকাল শুক্রবার মোবাইল ফোনে ‘প্রথম আলো’কে বলে, সবার দোয়া চায় তারা। জয় নিয়ে ফিরে আসার ইচ্ছায় তারা নেপাল যাচ্ছে।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা