,

প্রধানমন্ত্রী, আমাদের স্বপ্নকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরায় অভিনন্দন!

news-image

অনলাইনে অনুসন্ধান করে বুঝতে  চেষ্টা করলাম, সারাবিশ্ব কতটা জানে বাংলাদেশের পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজের খবর, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ ডিসেম্বর সকালে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় উদ্বোধন করেছেন। অনুসন্ধানের ফলাফল হতাশাব্যঞ্জক। তদুপরি বাংলাদেশের ইংরেজি গণমাধ্যমগুলো ছাড়া একমাত্র চীনের সিনহুয়া বার্তা সংস্থা লিউ শুনটাও ও নাঈম-উল-করিমের যৌথ প্রেরিত সংবাদটি বিশদ প্রচার করেছে। সেটাই আবার চীনের অপর বার্তা সংস্থা ‘চায়না ডটঅর্গ’-এ রয়েছে। কারণ দুটো হতে পারে- হয় প্রধানমন্ত্রী এবং যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সকল বিদেশি বার্তা সংস্থাকে তা প্রচারে আমন্ত্রণ জানানো কিংবা উদ্বুদ্ধ করায় যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেননি অথবা আমন্ত্রিত করলেও শেষটায় গুরুত্ব বিবেচনায় তারা তা প্রচার করেনি। যদি শেষোক্ত কারণে তা হয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে তারা প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় ‘হামলে পড়ার’ মতো এজেন্ডা উস্কে দিতে বসে রয়েছে।

তারপরও তেমনটা মনে করি না। তবে ‘নিউজ স্কিউ’ বা ‘খবর টেরা’র প্রবণতা থাকলেও সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকতার লক্ষ্য পূরণটি ছিল অতীব জরুরি। আবার এমনও হতে পারে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ভিন্নমাত্রা বা পরিসরে খবরটি স্থান পাবে।  সে সম্ভাবনাটি যদিও ক্ষীণ। আর যদি আমন্ত্রণকারীকর্তাদের গাফিলতি  থেকে থাকে, তবে দায়িত্বশীলরা যথেষ্ট অন্যায় করেছেন। এতে বিশ্বব্যাংক তথা বিশ্বকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার মতো মোক্ষম সুযোগটি হাত ছাড়া হয়ে গেছে।

সুযোগটি হাত ছাড়া হয়েছে, তার কারণ ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে যে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার সুদীর্ঘ পদ্মাসেতুর মূল পাইলিং ও নদীশাসনের উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা জাতিকে আশান্বিত ও অপার স্বপ্নে বিমোহিত করার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তার সুশাসন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সর্বোপরি মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে এবং তা সব গণতন্ত্রেই থাকে, তবু কার্পণ্যহীনচিত্তে বলতে হবে তিনি জাতিকে উন্নয়নমুখী করতে সবচেয়ে যোগ্যতম চ্যালেঞ্জটি প্রদর্শন করেছেন। রাতে পুরো মাওয়া ঘাটটি নাকি চীনের সাংহাইয়ের মতো সেতু নির্মাণ কাজে হয়ে থাকে আলোকজ্জ্বল! দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে পদ্মাসেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৫ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ট্রেন ও সড়ক পথে ২০১৮ সালের মধ্যে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দ্রুততম সময়ে পারাপার ও সংযোগ করবে। এশিয়ান হাইওয়ের পথ হিসেবেও তা ব্যবহৃত হবে। সহসাই দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে। চীনের হংকংয়ের আদলে নগর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। মাওয়া থেকে পোস্তগোলা পর্যন্ত চারলেনের সড়ক হবে এবং রাজধানীর বিজয়নগর থেকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হবে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়ালপথ। এ এক মহা কর্মযজ্ঞের অবকাঠামো, যা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি!

পদ্মাসেতু উদ্বোধনকালে শরিয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা সেই জাতি, যে জাতি সম্পর্কে জাতির পিতা বলেছিলেন, আমাদের কেউ দাবায়া রাখতে পারবা না, আজকে সেটি প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। আর বড় কাজ করতে গেলে হাত পাততে হবে, এমন মানসিকতা ভাঙতেই নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে বড় এ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি। আমি চেয়েছিলাম, আমরা পারি, আমরা সেটা করে দেখাব। আজ আমরা সেই দিনটিতে এসে পৌঁছেছি’। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দিনে রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে শনিবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘অতীত ফিরে না তাকিয়ে’ বলেছেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে আওয়ামী লীগ সরকার পদ্মা সেতু প্রকল্প করছে সেটা অবশ্যই ভালো কাজ’। এই সব আশা, স্বপ্ন ও চমৎকারিত্বের সবটাই বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আগামীতে দেশের আপামর মানুষের চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে, যার বিশ্বে প্রচার প্রয়োজনীয় ছিল।

তবে এই সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অজুহাতে বাধাগ্রস্ততায় বিশ্বব্যাংককে নিজের সততার চ্যালেঞ্জটি তুমুলভাবেই করে গেছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এবং এখনও তা তিনি অব্যাহতভাবেই করে যাচ্ছেন। আমার মনে আছে, এ বিষয়ে কানাডার টরন্টোয় পরিচালিত মামলার সর্বাধিক রিপোর্টকালীন এবং বিশ্বব্যাংক থেকে সরাসরি সরেজমিন রিপোর্ট সংগ্রহকালীন এই অকুতোভয় সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে আমার বহুবার ফোনে এবং ই-মেইলে যোগাযোগ হয়েছে। আমি নিজেও তার সততাকে বিশ্বাস করেছি বলে কানাডার জাতীয় দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইল ও জাতীয় বার্তা সংস্থা কানাডিয়ান প্রেসের সঙ্গে তার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবার সংযোগটি সরাসরি সাধন করে দিয়েছি। সেখানে তিনি দ্বিধাহীনচিত্তেই নিজেকে উপস্থাপিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে কখনো কানাডার কোর্ট-পুলিশেরও কোনো পরোয়ানা জারি হয়নি। গর্ববোধ করছি, প্রধানমন্ত্রী এই সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে হেলিকপ্টারে নিয়ে গিয়ে সেতুটির উদ্বোধন করেছেন। একইসঙ্গে বলা প্রয়োজন, সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের এই পদ্মাসেতু বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণে উত্থাপিত ‘অলীক’ বক্তব্যটিও আমি প্রথম পত্রিকার পাতায় তুলে ধরেছি।
আজ তাই সামগ্রিকভাবে জাতিকে বিশ্বে মাথা উঁচু করে তোলায় এবং একইসঙ্গে উন্নয়নের স্বপ্নে অনুপ্রাণিত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন!

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা