বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যে কারণে দেশ ছাড়ছেন : নেপালিরা

news-image

চলতি বছরের এপ্রিলে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় নয় হাজারের মতো মানুষ মারা যায় এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় বহু ঘরবাড়ি ও নেপালের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এদিকে ভূমিকম্প পরবর্তী সময়ে নেপালের জনসাধারণকে নানা সমস্যার সম্মূখীন হতে হচ্ছে। কোন উপায়ন্তর না দেখে অনেকেই অর্থ উপার্জনের জন্য চলে যাচ্ছে প্রবাসে। তাদের কাছে এখন দুটি পথ খোলা এক তাদের বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পুনরায় স্থাপন করা অথবা প্রবাসে চলে যেয়ে অর্থ উপার্জন করা। তবে পরিবারের পুরুষ সদস্যটি যদি প্রবাসে চলে যায় তাহলে তার পাঠানো অর্থ দিয়ে কি পরিবারের নারী সদস্যরা পুনরায় তাদের ঘরবাড়ি নির্মান করতে পারবেব এ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ফলে নেপালের অনেক পরিবারই পড়েছে উভয় সঙ্কটের মধ্যে।

তাদেরই একজন সাবিন। ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি পরেছে উভংসঙ্কটে। সাবিন কাতারে কর্মরত ছিলেন। অলিম্পিকের জন্য কাতারে যে নতুন ষ্টেডিয়াম তৈরি করা হবে সেখানেই তিনি একজন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ ছিলেন। ভূমিকম্পের খবর শুনে তিনি ছুটি নিয়ে নেপালে ফিরে আসেন। ভূমিকম্প আঘাত হানলে সাবিন তার ঘরবাড়ি হারায়। তিনি তার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে এখন পর্যন্ত একটি অস্থায়ী আবাসনে আছে।

ভূমিকম্পের আগে যে গ্রাম ছিল নিবিড় ছায়া ঘেরা। কাঠমন্ডু থেকে মাত্র তিন ঘন্টার রাস্তা। এখন সেখানে জনসাধারণ নেই বললেই চলে। তাদের গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছে এমন কেউ বাকি নেই যারা তাদের ভেঙ্গে যাওয়া ঘরবাড়িগুলোকে পুনরায় নির্মান করবে। এমনকি এই গ্রামে বিদ্যুৎ যে নেই সেই ব্যপারে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। এ গ্রামের মানুষেরা এখনো জোরে কিছুর আওয়াজ শুনলে আতকে ওঠে।

 

নেপাল পৃথিবীর অনুন্নত দেশগুলোর মধ্যে একটি। মোট জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ নেপালিরা পর্বতে ঘরবাড়ি বানিয়ে থাকে। আর তাদের মধ্যে গত বিশ বছরে অনেকেই প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছে। আর প্রবাসে পাড়ি জমানোর জন্য তারা বেছে নিচ্ছে মালেয়শিয়া, কাতার, আবুধাবি এবং দুবাইকে। প্রবাসে যেয়ে নেপালিদেরকে বেশ কষ্ট সহ্য করে কাজ করতে হয়। কারণ তারা ঠান্ডার দেশে থেকে অভ্যস্থ তাই উষ্ণ দেশে বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে তাদের কাজ করতে অসুবিধা হয়। অনেকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে কাজের জন্য বেছে নিলেও প্রচন্ড গরমে তাদের কাজ করতে বেশ কষ্ট হয়। তারা প্রায়সময়ই কাজ ফেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে থাকে এবং ঘুমিয়ে পড়ে। আর একবার ঘুমিয়ে গেলে তারা আর জেগে উঠতে পারেনা। 

প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স নেপালের অর্থনীতিতে একটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ প্রবাসী একদিনে প্রায় ২ ডলারের মতো আয় করে থাকে। দরিদ্রতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রবাসে তাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। এদিকে ভূমিকম্প থেকেও ভারতীয় নেপালিরা পড়েছে আরও একটি বিরাট সমস্যায়। যারা ভারতীয় বংশোদ্ভুত তারা নেপালের সংবিধান সংশোধনকে  দায়ী করছে। তারা মনে করছেন নতুন সংবিধানে তাদের প্রতি বৈষম্য দেখানো হয়েছে। আর এই কারণে অনেকে তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রবাস জীবনকেই বেছে নিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, তারা অবরোধ করে ভারত থেকে জ্বালানি ও বিভিন্ন ঔষধপত্র আনা বন্ধ করে দিয়েছে। আর নেপালে এই রাজনৈতিক অস্থিরতার ও অসহিংসতার জন্য নেপালিরা ভারতের প্রভাবশালী ব্যাক্তিদেরই দায়ী করেছে।  

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে