,

হ-য-ব-র-ল পৌরনির্বাচন

news-image

নির্বাচন একটি। নিয়ম দু’টি। মেয়র পদে দলীয় ও কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়। এমন অদ্ভুত নিয়ম পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো দেশে আছে কি-না সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেজ্ঞরা। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এ নির্বাচনটি হবে হ-য-ব-র-ল টাইপের।
মঙ্গলবার ঘোষিত হয়েছে দেশের ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনী তফসিল। সারাদেশের পৌর শহরগুলোতে যখন নির্বাচনী আমেজ তখন এর নিয়ম নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। মেয়রদের জন্য দলীয় নির্বাচনের পরিবেশ এবং সে অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণবিধি হবে একধরনের আর কাউন্সিলর পদে নির্দলীয় নির্বাচনের জন্য আরেকধরনের আচরণবিধি। এ পরিস্থিতি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে তা নিয়েই চিন্তিত সবাই।
আমাদের সময় ডটকম এর সঙ্গে আলাপকালে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, একই নির্বাচনে মেয়ররা দলীয় প্রতীকে আর কাউন্সিলররা নির্দলীয় প্রতীকে প্রতিযোগীতা করলে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন হ-য-ব-র-ল হবে। কোথাও এরকম নির্বাচন হয় বলে মনে হয় না। হয় দলীয় না হলে নির্দলীয় হয়। দলীয় হলে তো পুরোটায় দলীয় হওয়ার কথা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার এবিষয়ে বলেছিলেন, সংসদ বিচার বিবেচনা করেই পৌরসভা নির্বাচনের আইন করেছে। আমরা নির্বাচন করেই অভ্যস্ত। তাই মেয়র পদে দলীয়ভাবে এবং কাউন্সিলর পদে নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে অসুবিধা হবে না। তবুও এটি বড় নির্বাচন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সভা করেই সে বিষয়টি ঠিক করা হবে।
সাখাওয়াত বলেন, নির্বাচনে যে এটা একটা গোলমালের বিষয় হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। একই নির্বাচনে দুই ধরনের আইনে অনেক কিছুই হবে। কিভাবে নির্বাচন কমিশন টেকেল দিবে এটা বলতে পারছি না। যারা আইন দিয়ে নির্বাচন করাবে তারা ভালো বলতে পারবে। দেখতে হবে এখন কি হয়। এখন মানুষ ভোট দিতেও যেতে চাই না। ভোটের প্রতি মানুষের আস্তে আস্তে অনিহা হয়ে যাচ্ছে। কারণ, বুথের যাওয়ার আগেই বুথ দখল হচ্ছে। সিল মারামারি হচ্ছে। কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না মানুষকে।
তিনি আরো বলেন, এভাবে তো হয় না। পুরো পরিষদ কিভাবে অংশ নিবে তাও তো জানিনা। সব কিছু নতুন ভাবে হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তো বটেই। যারা জিতবে তারা কিভাবে নিয়ন্ত্রন করবে তাও বলতে পারছি না। এটা দেখতে হবে। আমাদের কিন্তু এই অভিজ্ঞতা ছিল না। আমরা এই রকম নির্বাচন করাইনি। এই ধরনের নির্বাচন বাংলাদেশে প্রথম হচ্ছে। অতীতে কখনো হয় নাই। এই উপমহাদেশে এই রকম নির্বাচন হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এখন এই নির্বাচন কিভাবে ম্যানেজ করবে তা নির্বাচন কমিশন বলবে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের আইনটা পুরোপুরি হলো না আর কি। এটা রাজনৈতিকও হলো না অরাজনৈতিকও হলো না। পরিবর্তনের অর্থটাই বা কি? অর্থটাই ক্লিয়ার হল না। এতে আসন্ন নির্বাচনে সমস্যা তো কিছু হবেই।
তিনি বলেন, পৌরসভায় লাভবান হওয়ার মতো কোন কিছু দেখা যাচ্ছে না।  প্রচারণার ক্ষেত্রেও নরমালি যা হওয়ার তাই হবে। ব্যতিক্রম আর কি হবে? কারণ, পৌরসভা নির্বাচন তো বহুবার হয়েছে। এটা গতানুগতিক যা ছিল তাই হবে। কথা হচ্ছে সব দলগুলো নির্বাচনে আসছে কি না। ভোটাররা নির্বাচনমুখী হচ্ছে কি না। ভোটাররা তো বহুদিন যাবৎ নির্বাচনে আসছে না। ভোটাররা নির্বাচন থেকে বিমুখ হয়ে আছে।
এ বছরের ১২ অক্টোবর দলভিত্তিক পৌরসভা ভোট করতে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ৩ নভেম্বর এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি হয়। দলীয়ভাবে সব পদে পৌর নির্বাচনের অধ্যাদেশ হাতে পেয়ে বিধিমালায় সংশোধন এনে ইসি তা ৫ নভেম্বর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠায়। কিন্তু ১৫ নভেম্বর অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন বিল সংসদে উত্থাপন করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেখানে পৌরসভায় দলীয়ভাবে শুধু মেয়র পদে নির্বাচনের বিধান রাখা হয়। ১৯ নভেম্বর বিল আকারে আইনটি সংসদে কণ্ঠভোটে পাস। এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয় ২১ নভেম্বর।

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে