বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওবামা-পুতিন মতভেদ দূর!

news-image

বিশ্বজুড়ে জঙ্গি হামলার আতঙ্ক কাটছেই না। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জঙ্গি হামলায় ১২৯ জনের প্রাণহানির পর শুধু ইউরোপ নয় বিশ্বজুড়ে এই আতঙ্ক বেড়েই চলছে। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এর কয়েক দিন আগে মিসরের সিনাই উপত্যকায় একটি রুশ বিমান বিধ্বস্ত করারও দাবি করেছে তারা। দায় স্বীকারেই তারা থেমে নেই বরং সিরিয়া ও ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেয়া বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সব মিলিয়ে আইএস নিয়ে অস্বস্তি বিরাজ করছে বিশ্বজুড়ে। এমন অবস্থায় বিশ্বকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দুই ক্ষমতাধর দেশের নেতাদের। এই ব্যাপারটি সহজেই বুঝতে পারছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
 
দিনকে দিন আইএসের প্রভাব বেড়েই চলেছে। সিরিয়া, ইরাক ও লিবিয়াতে বিচরণ করা ধনী এই জঙ্গি সংগঠন মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে গিয়ে বিশ্বের নানা দেশে আতঙ্কের বীজ বপন করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও এখনো তাদের দমানো যায়নি। সেপ্টেম্বরের শেষদিকে আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে রাশিয়াও। কিন্তু ফল এখনো দৃশ্যমান নয় বললেই চলে। যদিও এখানে ভূ-রাজনৈতিক কিছু বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল আসাদ সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ গত কয়েক বছর ধরেই চলছে। এই যুদ্ধ অবসানের কোনো ইঙ্গিত এখনো মিলছে না। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর তত্পরতাও এক্ষেত্রে কম। এই সিরিয়া-নীতি নিয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপের সঙ্গে রাশিয়ার স্পষ্ট বিরোধ আছে। আগামী বছরে আসাদকে ভোটে দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপ আসাদকে স্বৈরতন্ত্রী এবং যুদ্ধাপরাধী বলে মনে করে। আইএসের বিরুদ্ধে তাদের পুরোদমে অভিযানে না নামার পিছনে এই মনোভাবই অনেকটা দায়ী। কারণ পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলো চায় না, আসাদের হাত কোনোভাবে শক্ত হোক। ওবামা এখনো পর্যন্ত ইরাক এবং সিরিয়ায় স্পেশাল ফোর্সের কিছু ছোট দল পাঠিয়েছেন। তারা সিরিয়ার বিদ্রোহী শক্তি এবং কুর্দিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সিরিয়া নিয়ে এই দোটানার মধ্যে আইএস ক্রমশ তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে।
 
কিন্তু প্যারিস হামলার পর এখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার যে সময় নেই সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনুভব করতে শুরু করেছে। এখন আইএসের বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়বে জাতিসংঘ। আইএসসহ সব জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশ্ব শক্তিগুলোকে এক হতে ফ্রান্সের দেয়া প্রস্তাব গত শুক্রবার অনুমোদন করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্স ওই প্রস্তাব দেয়। এতে জঙ্গি আইএসের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণার’ আহ্বান জানায় দেশটি। ফ্রান্সের প্রস্তাবটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। এতে জাতিসংঘের সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের যে স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে তা নস্যাত্ করে দিতে হবে।
 
দিনে দিনে আইএস শক্তিশালী হয়ে উঠলেও তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সমন্বিত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বিশ্ব শক্তিগুলো। বার বার সেখানে বাধা হয়েছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন। এবার রাশিয়া ও চীন পশ্চিমা অন্য শক্তিগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে।
 
আর ভূ-রাজনৈতিক বিভেদ দূরে ঠেলে একসঙ্গে লড়াইতে নামতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়াকে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রেই ওবামার উপর চাপ বাড়ছে আইএসের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য। অন্যদিকে, পুতিন শুরু থেকেই আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর পক্ষপাতী। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলার পর পুতিন তার কূটনৈতিক অবস্থান আরো শক্ত করে ফেলেছেন। সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ যে ‘ভুল’ করেছে, সেটা প্রমাণ করার বড় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক শক্তিকে যে একযোগেই লড়তে হবে, প্যারিস তা দেখিয়ে দিল। প্যারিস হামলা ‘সিরিয়ার প্রতিশোধ’ বলে দাবি করেছে আইএস জঙ্গিরাই।
 
শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা বুঝতে পেরেছেন তারা। আইএসের কারণেই এক টেবিলে বসেছেন ওবামা-পুতিন। গত সপ্তাহে তুরস্কের আন্তালিয়ায় জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠক করেন দুই নেতা। ৩৫ মিনিটের ওই বৈঠকে দুই নেতা বলেন, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনা দরকার। তবে তারা বিশেষভাবে জোর দেন আইএস দমনে। আইএস-কে সমূলে নির্মূল করা ছাড়া উপায় নেই বলে মত দেন তারা।
 
সিএনএনের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, আইএস ওবামা ও পুতিনকে কাছে টেনে এনেছে। গত সোমবারের বৈঠকে দুই জনকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে কথা বলতে দেখা গেছে। এমন দৃশ্যের ছবি তুলতে গত কয়েক বছর মুখিয়ে ছিলো আলোকচিত্রীরা। একটি ছোট টেবিলে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে বসে ছিলেন তারা। তাদের বৈঠককে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে গঠনমূলক দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে পুতিন বলেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন আইএস বিরোধী জোটে যোগ দিতে রাশিয়া প্রস্তাব দিয়েছে। এখন দুই দেশ পৃথকভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
 
গত সপ্তাহের বৈঠকের আগে দুই নেতার মধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা চলছিলো। কিন্তু প্যারিস হামলার পর ওবামার উপর পশ্চিমাদের এক ধরনের চাপ চলে আসে পুতিনের সঙ্গে কাজ করতে। যেটা তিনি আগে চাইছিলেন না। অন্যদিকে রুশ বিমান হামলার শিকার হওয়ার পর পুতিন বলেছেন, দোষীদের ধরে শাস্তি দেয়া হবে। এখনকার আগে দুই নেতার সম্পর্ক অনেক বেশি উত্তেজনাকর ছিলো। কিন্তু জীবন চলার পথে অনেক কিছুই বদলায়। নতুন সমস্যা এসেছে, নতুন চ্যালেঞ্জ। যার সমাধান একা করা কঠিন। প্রয়োজন এখন যৌথ শক্তি ও সহযোগিতার।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা