বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে কার্যকর করা হয় ফাঁসি

news-image

জেল সুপারের হাতে থাকে লাল রুমাল। লাল রুমাল নামিয়ে ফেলবেন জেল সুপার, অমনি কপিকলের গিয়ারে টান দেবে জল্লাদ। গর্তের ওপর থাকা পাটাতনের কাঠ সরে যাবে। ফাঁসির রুজুতে গর্তের ভেতরে ঝুলতে থাকবে দ-িত কয়েদী। নির্দিষ্ট সময় ঝুলিয়ে রাখার পর নিচের দিকে থাকা গর্তের গেটে প্রবেশ করেন জল্লাদরা। মরদেহ গর্ত থেকে টেনে মঞ্চে উঠানো হয়। তারপর দড়ি খুলে মরদেহ রাখা হয় ফাঁসির মঞ্চের উপস্থিতদের সামনে। এভাবেই হয়ে যায় দ-িত কয়েদীর ফাঁসি কার্যকর। ফাঁসি কার্যকর করার এই পদ্ধতিটি, দড়িতে ঝুলিয়ে ফাঁসি কার্যকর করার প্রত্যক্ষদর্শী ও কারা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে ।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,দ-িতকয়েদীর ফাঁসি কার্যকর করার আগে মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। জল্লাদদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন ডাক্তার। ফাঁসির রায় কার্যকর করার সময়ে ফাঁসির মঞ্চের সামনে উপস্থিত থাকেন ম্যাজিস্ট্রেট, সিভিল সার্জন, কারা কর্মকর্তা, পুলিশ, জল্লাদসহ উর্ধতন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দন্ডিত কয়েদীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলানোর জন্য ব্রিটিশ আমলের তৈরি ম্যানিলা রোপ (দড়ি) পিচ্ছিল করে জল্লাদরা। ম্যানিলা রশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন উর্ধতন কারা কর্মকর্তারাও। রশিতে মাখানো হয় তেল আর পাকা কলা। যে পাটাতনটির উপর কয়েদীকে দাঁড় করানো হবে সেই পাটাতন পরীক্ষ-নিরীক্ষা করা হয় কয়েক দফায়। পাটাতন ও রশির কপিকলগুলোতে দেয়া হয় বিশেষ ধরনের তেল। ফাঁসি কার্যকর করার সময়ে বিশেষ ইঙ্গিত বুঝানোর জন্য বিশেষ লাল রুমাল থাকে জেল সুপারের হাতে। লাল রুমাল ফেলে দিতেই জল্লাদ কপিকলের গিয়ারে টান দেয়, অমনি ফাঁসিতে ঝুলে যায় দ-িত কয়েদী।
কারা সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কোনার দিকে রয়েছে ফাঁসির মূল মঞ্চ। ফাঁসির মঞ্চের দৈর্ঘ্য ৮ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে ৪ ফুট। পাশাপাশি দু’জন দ-প্রাপ্তের মৃত্যুদ- কার্যকর করার ব্যবস্থা রয়েছে ফাঁসির মঞ্চে। মঞ্চের উপরে যে ফাঁসির কাষ্ঠ তার উচ্চতা ৮ ফুট। আর মঞ্চ থেকে নিচের দিকে যে গর্ত আছে তা ১২ ফুট গভীর। গর্তটি কাঠের পাটাতন দিয়ে ঢাকা। ফাঁসি কাষ্ঠের লাগোয়া উত্তর দিকে আছে কপিকলের গিয়ার। এই কপিকলের সঙ্গে ফাঁসির দড়ির একপ্রান্তে লাগানো থাকে।
যেই দঁড়ি দিয়ে ঝুলানো হবে সেটা থাকে ফাঁসির কাষ্ঠের আরেক প্রান্তে। কপিকলের গিয়ারের দায়িত্ব থাকে একজনের কাছে। তার পাশে পূর্ব দিকে আরও তিনজন অবস্থান নেন। মূল মঞ্চসহ পুরো ফাঁসির মঞ্চটি আরও বড়। মূল মঞ্চের পূর্ব দিকে রয়েছে ৩টি কনডেম সেল। দক্ষিণে একটি লম্বা টেবিল আছে, যার পাশে বসতে পারেন অন্তত ১০ জন। তার সামনে আরেকটি টেবিল থাকে, যাতে ফাঁসি কার্যকর করার পর রাখা হয় মৃতদেহ। ফাঁসি কার্যকর করার সময়ে সতর্ক প্রহরায় অবস্থান নেয় অন্তত ১০ জন সশস্ত্র কারারক্ষী। সবার হাতে থাকে ভারি আগ্নেয়াস্ত্র। একটি ফাঁসির দ- কার্যকর করতে সময় লাগে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মূল ফাঁসির মঞ্চে সময় নেয় ১৭ মিনিট। মূল ফাঁসির মঞ্চের কাছেই আছে তিনটি কনডেম সেল।
ফাঁসি দেয়ার আগে দ-প্রাপ্ত আসামিকে রাখা হয় এই কনডেম সেলেই। কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চের দূরত্ব ৫০ গজেরও কম। জল্লাদরা কনডেম সেল থেকে দণ্ডিতকে হাঁটিয়ে নেন মূল ফাঁসির মঞ্চে। ফাঁসির মঞ্চের কপিকলের গিয়ারের কাছে অবস্থান নেয়া ব্যক্তিরা প্রস্তুত হন। জলাদরা ফাঁসির রজ্জু পরিয়ে দেয় দণ্ডিতের গলায়। কনডেম সেল থেকে মঞ্চ পর্যন্ত এ সকল আনুষ্ঠানিতা সম্পন্ন করে একজন কয়েদিকে নিতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ মিনিট। ১৭ মিনিট ঝুলিয়ে রাখার পর নিচের দিকে থাকা গর্তের গেট দিয়ে গর্তের ভেতরে প্রবেশ করেন জল্লদরা। মরদেহ আবার গর্ত থেকে টেনে মঞ্চে ওঠানো হয়।
তারপর দড়ি খুলে মরদেহ রাখা হয় সরকারের প্রতিনিধি ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সামনে রাখা টেবিলে। লাশ নেয়া হয় পাশের মর্গে। স্পাইনাল কর্ড ও হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। তারপর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এভাবে আধা ঘণ্টায় শেষ হয় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের যাবতীয় আনুষ্ঠনিকতা।

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে