বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে বিভক্তি

news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হলে কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে দলের তৃণমূলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ মনে করছে, যাদের অপরাধের জন্য দলের আজ এমন পরিস্থিতি, তাদের দায় দল নেবে না। দলে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে এমন কোনো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচিও তারা বাস্তবায়ন করতে চায় না। দলের আরেক পক্ষ, যারা শীর্ষস্থানীয় নেতাদের রক্ষায় এখনো সচেষ্ট, তাদের মতে মুজাহিদ যেহেতু দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাই তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো কোনো আগাম নির্দেশনা দেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন।


জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, তারা বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন করতে গিয়ে গত কয়েক বছরে, বিশেষ করে এ বছরের শুরুতে তিন মাসব্যাপী জ্বালাও-পোড়াওয়ে আন্দোলনে সফলতা তো আসেইনি বরং দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার নেতাকর্মী এখন মামলার আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছে। এসব কর্মীর পরিবারকে দেখাশোনা করতে আর্থিকভাবে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দল। এখন নতুন করে যদি কঠোর আন্দোলনের নামে আবারও জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি পালন করা হয় তাহলে তা সামনের দিনগুলোতে দল ও কর্মীদের জন্য আরো বিপদ ডেকে আনবে।
জানতে চাইলে জামায়াতের যশোর জেলার একটি উপজেলা জামায়াতের আমির নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা চাই দলের নিজস্ব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে, জ্বালাও-পোড়াও নয়।’ তিনি বলেন, ‘অতীতে আমাদের দলের দুজন নেতার ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, তার পরও কিন্তু কোনো হরতাল কর্মসূচি ছিল না। এখনো মনে হয় না কোনো কর্মসূচি দেওয়া হবে। তবে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ যেহেতু দলের সেক্রেটারি তাই তাঁর ক্ষেত্রে হয়তো একটু ভিন্নতা হতে পারে। এর পরও আমরা চাই না দল এখন কোনো জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি দিয়ে আবারও তৃণমূলের কর্মীদের বিপদে ঠেলে দিক।’


জামায়াতের আরেকটি পক্ষ মনে করছে, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ছয় বছর ধরে দলীয় কর্মকা-ের বাইরে থাকলেও তাঁকে দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা হয়নি। ভারপ্রাপ্ত একজনকে দিয়ে দায়িত্ব চালানো হলেও সম্মান রক্ষার জন্য মুজাহিদকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবেই রাখা হয়েছে। তাই তাঁর ফাঁসি কার্যকর করার পর দলকে কঠোর কর্মসূচি পালন করতেই হবে। না হয় দলের ভাবমূর্তি ঠিক রাখা যাবে না। এই পক্ষের নেতারা মনে করেন, এমনিতেই শীর্ষ নেতাদের বাদ দিয়ে বা তাঁদের ফাঁসি কার্যকর করার পর নতুন নেতৃত্ব আনতে একটি পক্ষ তৎপর। তাঁদের ভিত যাতে শক্ত হতে না পারে সে জন্য মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে দুই থেকে তিন দিনের হরতাল দিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক জ্বালাও-পোড়াও করা হবে, যাতে সরকার ভবিষ্যতে আর কোনো শীর্ষ নেতার ফাঁসি কার্যকর করার সাহস না পায়।


এই পক্ষের এক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা চান মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হোক। নারায়ণগঞ্জ জামায়াতের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যিনি বর্তমানে একটি উপজেলার সভাপতি, গত রাতে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ফাঁসি কার্যকর হলে দল দুই থেকে তিন দিনের হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেবে।’ এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে আগাম কোনো নির্দেশনা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনো কোনো নির্দেশনা নেই। তবে মনে হচ্ছে কেন্দ্র কঠোর কর্মসূচিই দেবে। এই নেতার দাবি, কেন্দ্রীয় নেতাদের দুর্দিনে দলের কর্মীরা পাশে না থাকলে দলের ঐক্য বলে কিছু থাকবে না। তিনি বলেন, মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে সারা দেশে আগুন জ্বলবে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর এক নেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলোতে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে পারছে না। আগে হরতাল কর্মসূচি কিছুটা কঠোরভাবে পালন করা হলেও এখন এই অবস্থা নাজুক। কোথাও সেভাবে কর্মীরা মাঠে নামতে রাজি হচ্ছে না।


জামায়াতের সূত্রগুলো জানায়, জ্বালাও-পোড়াও মামলায় জড়িয়ে অনেক নেতাকর্মী এখন কারাগারে রয়েছে। প্রায় ৮০ হাজার নেতাকর্মী মামলায় জড়িয়েছে। অনেকে জেলে থাকার কারাণে কর্মসূচি পালন করতে সমস্যা হচ্ছে। জানতে চাইলে যশোরের কেশবপুর উপজেলা জামায়াতের এক নেতা জানান, গত তিন মাসে তাঁদের পাঁচ শতাধিক নেতা কারাগারে গেছেন। এখন তাঁরা তাঁদের মুক্ত করতে আইনি লড়াই নিয়ে ব্যস্ত। নতুন করে কঠোর কর্মসূচি করতে গেলে দলকে আরো কর্মীর ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
দলের আরেকটি সূত্র জানায়, জোটের প্রধান খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না। তিনি আজ ফিরলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেও কর্মসূচি দিতে পারে জামায়াত।


জামায়াত এখন কী করবে-এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হলে কী কর্মসূচি দেওয়া হবে তা বলার বা কর্মসূচি আগে থেকেই প্রকাশ করার সময় এখনো আসেনি। সময় হলে গণমাধ্যমে নিশ্চয়ই জানিয়ে দেওয়া হবে।
জামায়াতের এই নেতা অবশ্য বলেন, এর আগে দুই নেতার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর যদিও কোনো কর্মসূচি ছিল না, তবে মুজাহিদের বেলায় একটি কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে-এমন চিন্তা করা হচ্ছে। 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে