,

ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছি

news-image

নিউজ ডেস্ক : হয়ত আর কিছুই করার ছিলোনা ঐ মায়ের। নানান পারিপার্শ্বিকতা আর পারিবারিক সামাজিক দায়বোধ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো ঐ মাকে।

 


সচরাচর এমন ঘটনার কথা জানলে আমরা নাক সিটকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে হৈ হৈ করে সমালোচনা করতে বসে যাই। কিন্তু ব্যাক্তি জীবনে এমন হাজারো লাখো মানুষের অসহায়ত্ব কোনদিনই চোখে পড়ার মত হয়ে উঠেনা খুব একটা আমাদের। আপাত দৃষ্টিতে এমন ‘নোংরামীর’পেছনে কেও ঝুকে দেখতেও চাইনা তাদের গভীর জীবনবোধ আর যন্ত্রনার কথা।

 


জীবন যেখানে যেমন পর্বে আজ এমনি এক অসহায় মায়ের কথা যিনি সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন। সমাজ হয়তো তাকে ‘পতিতাই’ বলবেন কিন্তু আমরা দেখতে চাই এর পেছনেও এক অসহায় মায়ের গভীর মাতৃত্ব আর ভালোবাসা।

 


ইট পাথরের নির্জীব রাজধানীর একটি ছোট অখ্যাত অঞ্চল। শুক্রবার সকাল। ভোরবেলা বাড়ি ফিরলেন বছর ৩৯-এর সামিয়া। গায়ে তখনও গত রাতের হোটেলের সস্তা সাবানের গন্ধ খানিকটা লেগে রয়েছে। ভোরবেলা ফেরার কারণ, সকালে অত সেজেগুজে ফিরলে প্রতিবেশীদের কৌতুহল বাড়বে। তবে যদি বাড়েও, তবুও কিছু করার নেই। তিনি যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁর সন্তানদের কিছুতেই যেতে দেবেন না। সে জন্যেই মাসের চারটে বৃহস্পতিবার টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করেন সামিয়া।

 


তাঁর কথায়, ‘এতে আমি লজ্জা পাই না। আমি যা করি, তাতে আবেগ থাকে না। আর কি হবে লজ্জা করে?’ প্রশ্নটা সমাজের মুখে সপাটে একটা চড়। স্বামী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। স্বামী সরকারি কর্মচারী। কিন্তু খরচের বহরে মাসের শেষে কিছুই থাকে না। ছেলেমেয়ের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। তখন এই পদক্ষেপ নেন তিনি। এর জন্য একটি ফোনও কিনেছেন তিনি। সপ্তাহের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে তা অন করে রাখেন। প্রত্যাশিত ‘খদ্দের’ মেলার আশায়।

 


তিনি জানান, ‘মাসের বৃহস্পতিবার গুলিতে বাড়ির কাজ যত তাড়তাড়ি সম্ভব শেষ করে, ব্যাগের মধ্যে কিছু জামাকাপড় নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। রাতে কাজ শেষ করে ভোর ভোর বাড়িতে ফিরে আসি। আমার স্বামী সবই জানেন। কিন্তু তিনি কিছুই বলেন না।

 


অন্তত এটা বুঝেছেন, আমি বাধ্য হয়েছি। মাঝে মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করি, আমি কি স্বৈরিণী? জানি না। বাড়ি ফিরে আগের রাতের কোনো ঘটনাই মনে করতে চাই না। এখন শুধু আশায় থাকি, সন্তানরা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়।’

 


এই কাজ করতে গিয়ে বহুবার হেনস্থাও হতে হয়েছে সামিয়াকে। একবার তো পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তিন বছর জেলও খাটতে হয়। তবু তিনি মুখ বুজে সহ্য করছেন। ভালো দিনের আশায়।

এ জাতীয় আরও খবর

ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়লেও নিজস্ব মোবাইল নেই ৩৪ শতাংশের

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার পিছিয়ে যাচ্ছে: বিরোধী নেতারা

পাপ্পু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মাইটিভির সাথীকে

ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শন, আইনের ব্যত্যয় পেলে ব্যবস্থা

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

উইলিয়ামস সোয়েটার্সের বিরুদ্ধে ১৩ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চাইল ঢাকা

অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ জানালেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজারের বেশি

কাতারে গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান হান্নান

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু, মোট ১১৯৬

কাঁধের হাড় ভাঙা ও অস্টিওপোরোসিস: লক্ষণ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা