বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ায় এখন একটাই ভাষা তা হচ্ছে যুদ্ধ

news-image

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার যে বিমানবন্দরটি ব্যবহার করতেন তার নাম বার্লিন টেম্পেলহফ এয়ারপোর্ট। ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিমানবন্দরটি সাত বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তবে এর কদর কমেনি। যেভাবে ছিল সেভাবেই রয়ে গেছে। পাশ দিয়েই রেললাইন। এখন ট্রেন চলে না। তবে পাশের রাস্তায় গাড়ি চলে জরুরি কাজে। এই বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারের পাশেই বসেছে এবারের সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন। এ স্থানটি এখন পরিণত হয়েছে সম্মেলন কেন্দ্রে। প্রতিবছরই এখানে অনুষ্ঠিত হয় একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন।


দু নং হ্যাঙ্গার সিরীয় শরণার্থীতে ঠাসা। সম্মেলনে অবশ্য এর কোন প্রভাব পড়েনি। তবে আয়োজকরা সবাইকে অবাক করে দেন সিরিয়ার নিষিদ্ধ একটি   ব্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানিয়ে। খেভেজ ডাউলি নামের  এই ব্যান্ডটি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত। পাঁচ বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই ব্যান্ড। অল্পদিনের মধ্যেই এই রক ব্যান্ডটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। সিরিয়া সংকট শুরু হতেই এক বন্ধুকে হত্যা করা হয়। চার জনের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না দেশত্যাগ ছাড়া। এক রাতে চার বন্ধু পাশের দেশ লেবাননের পথে পাড়ি জমায়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পৌঁছায়। তখন তারা একদম নিঃস্ব। পাসপোর্ট নেই, টিকিট নেই। নেই কোন বৈদেশিক মুদ্রা। লেবাননে স্থায়ীভাবে থাকাও সম্ভব নয়। এর মধ্যে প্রায় দু’বছর কেটে গেলো। এরপর তারা স্থির করলো ইউরোপের পথে পাড়ি জমাবে। শরণার্থী কাফেলায় যোগ দিলো তারা। একটি ভ্যানে গাদাগাদি করে তুরস্কে পৌঁছালো। ডিঙ্গি নৌকায় করে একদিন তারা যখন গ্রিক আইল্যান্ডে পৌঁছালো তখন সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি। ঝড়ের মধ্যে আঙ্গুর খেতের মধ্যে লুকালো তারা।

জঙ্গলে একমাস লড়াই করে হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া হয়ে তারা পৌঁছালো বার্লিনে। এখন তাদের ঠিকানা শরণার্থী শিবির।
সামাজিক ব্যবসা শীর্ষ সম্মেলনে তাদের এই কষ্টের কথা শুনে অনেকেই বিচলিত হলেন। হলে তখন প্রচণ্ড নীরবতা। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টা। সঞ্চালক ঘোষণা করলেন আমরা এখন সিরিয়ার বিখ্যাত খেভেজ ডাউলির গান শুনবো। ব্যান্ডের কর্ণধার আনাস মাগরেবি মঞ্চে এলেন। সঙ্গে সতীর্থ দু’জন। আরেক বন্ধু ড্রামার অনুপস্থিত। তিনি এখন প্যারিসে রয়েছেন। একে একে তিনটি গান পরিবেশন করলো খেভেজ ডাউলি। শেষ গানটির বর্ণনা দিতে গিয়ে আনাস বললেন, তার বন্ধু সামরিক বাহিনীতে চাকরি করতেন। চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে তিনি এ গানটি লিখেছেন। তার ভাষায় অস্ত্র নয়, শান্তি চাই।

এই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গান পরিবেশন শেষ হলে মিডিয়া ছুটে গেলো তাদের কাছে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার দিতে দিতে তারা ক্লান্ত। একপর্যায়ে আনাস বললেন, বুঝতে পেরেছি, গান আপনাদের ভালো লেগেছে। কি যে বলবো। নিজের দেশ ছেড়ে আমরা এখন পরবাসী। শরণার্থী শিবিরে আর যাই হোক নিরাপদে আছি। কিন্তু আমাদের পরিবারগুলো কামানের মুখে। জানেন, সিরিয়াতে এখন আর কোন ভাষা নেই। একটিই ভাষা। আর তা হচ্ছে যুদ্ধ। দুঃখ করে বললেন, কেন যে আরব বসন্ত এলো। না এলে ভালোই হতো। অন্তত এতো মৃত্যু হতো না।
 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে