,

লেখকদের প্রতিবাদ ‘অযথা চেঁচামেচি’ :ভারতীয় সাহিত্য একাডেমী

news-image

ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ আর সরকারের চুপ থাকার প্রতিবাদে লেখকদের ভারতে সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংস্থাটি। অব্যাহত চাপের মুখে সাহিত্য একাডেমী কর্তৃপক্ষ এক বৈঠক শেষে লেখেকদের এই প্রতিবাদকে ‘অসাড়’ ও ‘অযথা চেঁচামেচি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে ঘরে গরুর মাংস আছে এমন গুজবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় সংস্থাটির চুপ থাকার প্রতিবাদে বেশ অর্ধশতাধিক লেখক ভারতের মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার ফিরিয়ে দেয়। দেশজুড়ে সবার আগ্রহ ছিলো শুক্রবারের সাহিত্য একাডেমীর এ বৈঠককে ঘিরে। বৈঠক শেষে একাডেমির মেম্বার সূর্য প্রসাদ দিক্ষিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘লেখকদের প্রতিবাদ অযথা চেঁচামেচি ছাড়া আর কিছু নয়।’ তিনি বলেন, কোন লেখক যদি বাকস্বাধীনতা হুমকীর মুখে পড়েছে বলে মনে করেন, তাহলে তিনি প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমান সরকারের কাছে উত্থাপন করতে পারেন। এ বিষয়টি নিয়ে অযথাই সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছে। সাহিত্য একাডেমির অন্য একজন বোর্ড মেম্বার গঙ্গাধর হান্সদাহ তো বাকস্বাধীনতার উপর কোন হুমকি আছে, তা-ই অস্বীকার করলেন। তিনি দাবি করেছেন, কিছু লেখক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন, এটা একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। সাহিত্য একাডেমীর পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন, এমন লেখকদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বিক্রম শেঠ। তিনি এ বৈঠকের আগে বলেছিলেন যে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও চলমান অচলাবস্থায় সাহিত্য একাডেমির মন্তব্য জানতে মুখিয়ে আছেন তিনি। বিক্রম শেঠ ১৯৮৮ সালে ‘দ্য গোল্ডেনস গেট’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন। ভারতে সম্প্রতি ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বিক্রম শেঠ, উদয় প্রকাশ, নয়নতারা সাহগাল, অশোক বাজপেয়িংর মত লেখকরা তাদের সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন।  ভারতে সম্প্রতি ঘরে গরুর মাংস আছে, এ গুজব ছড়িয়ে এক মুসলমানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তদন্ত কমিটি জানায়, পুরো ঘটনাটি ছিলো পূর্বপরিকল্পিত।  এর পর পিাকিস্তানের গজল শিল্পিকে ভারতে আসতে দেয়া হয়নি। এতে ভারতজুড়ে তার পূর্বনির্ধারিত বহু অনুষ্ঠান বাতিল হয়ে যায়। আবার পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুরশিদ মাহমুদ কাসুরির বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে   শিবসেনার হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন আয়োজক সুধেন্দ্র কুলকার্নি। কট্টর এ হিন্দুত্ববাদী  দলটির কর্মীরা প্রকাশ্যে সুধেন্দ্রর মুুখে কালি ঢেলে দেয়।  পরে মুখে কালি নিয়েই তিনি তার অফিসে খুরশিদ মাহমুদ কাসুরিকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।  এসব ঘটনায় শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হন নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ভারতবাসীদের আসলে রাজনীতিবিদদের করা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘হিন্দুদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে নাকি দারিদ্রের বিরুদ্ধে। একইসঙ্গে মুসলিমদেরও সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে নাকি দারিদ্রের বিরুদ্ধে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের সবাইকে একসঙ্গে মিলিত হয়ে দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। দেশ ও জাতির ঐক্য থাকতে হবে।’ তবে তার এমন মন্তব্যের দিনেই ভারতের সংসদে বিজেপি’র এক সাংসদ সংসদের ভেতরই এক মুসলিম সাংসদকে পিটিয়েছেন। কারণ রশিদ আহমেদ নামে সেই সাংসদ কাশ্মিরে একটি ব্যাক্তিগত অনুষ্ঠানে গরুর মাংস পরিবেশন করেছিলেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় এক লেখককে কুপিয়ে হত্যা করে কট্টর হিন্দুপন্থীরা। মূলত এর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন লেখকরা। গণহারে সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার ফেরত দেয়া শুরু করেন তারা।

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা