,

৩ উপজেলার মানুষের চলাচলের সড়ক বালুর কারবারীদের দখলে

news-image

আমিরজাদা চৌধুরী : তিন উপজেলার মানুষের জেলা সদরে আসা যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন ইজিবাঈক,রিকসাসহ দেড়-দু-হাজার বিভিন্ন যানবাহনে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর পশ্চিমাঞ্চল,নবীনগর ও বাঞ্চারামপুর উপজেলার হাজার-হাজার মানুষ। নৌ বা সড়ক পথে আসা এই মানুষজন গোকর্ণঘাট হয়ে ‘গোকর্ণ রোড’ দিয়েই জেলা সদরে আসা যাওয়া করেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটিই দখল করে নিয়েছে বালু ব্যবসায়ীরা। শহর থেকে গোকর্ণঘাটে ডুকার আগে গোকর্ণঘাট এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে চুটিয়ে ব্যবসা করছে ৭/৮ জন বালু ব্যবসায়ী। অপ্রশস্ত সড়কের দু-পাশে সারি সারি বালুর স্তুপ সড়কটিকে গ্রাস করেছে।  সরজমিনে দেখা গেছে- সড়কটির কয়েক’শ গজের মধ্যেই ৩০/৪০ টি বালুর স্তুপ। রাস্তা দখল করে দাড়িয়ে থাকা ট্রাক থেকে দিনের বেলায় নামানো হচ্ছে বালু। বড় ষ্টিলের নৌকায় করে আনা বালুও নামানো হচ্ছে রাস্তার ধারে আর ওপরে। এতে সড়কে অন্য যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়ছেন দূরদূরান্তের যাত্রীরা। সড়কটির পাকা অংশের বাইরে দু-পাশে মাটি না থাকায় পাশ দিয়েও মানুষ বা কোন গাড়ি চলার জু নেই। এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন বছরের পর বছর ধরে বালু ব্যবসায়ীদের এই অনাচার চলছে। এখানে গাড়ি দাড় করিয়ে একবার বালু আনলোড করা হচ্ছে আবার খুচরা বিক্রির পর ট্রাক-ট্রাকটরে ভরে ক্রেতাকে দেয়া হচ্ছে। এই রাস্তাটি এবং এর দু-পাশের জায়গার মালিক জেলা পরিষদ। কিন্তু মানুষের এতো ভোগান্তিতেও জেলা পরিষদ নিরব। আর এ নিয়ে ক্ষোভ আছে এলাকার মানুষের । এলাকার অনেকেই বলেছেন জেলা পরিষদকে টাকা দেয় বালু ব্যবসায়ীরা। পুলিশও  টাকা পায় এখান থেকে। ঘাট এলাকা হওয়ায় আভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের লোকজনও টাকা নেয় এখান থেকে। সবাইকে ম্যানেজ করেই সড়কের ওপর চলছে বালুর কারবার। তা না হলে রাস্তা দখল করে এতো বড় ব্যবসা চলছে কিভাবে,সেটি তাদের প্রশ্ন।
বালু ব্যবসায়ীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা । খোজ নিয়ে জানা গেছে- বিল্লাল,আলমগীর,খোরশেদ ও গোলাপ মিয়া সহ আরো ২/৩ জন বালু ব্যবসায়ী এই সড়ক দখল করে বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গোকর্ণঘাট এলাকার ইসলাম উদ্দিন ও বাবুল মিয়া বলেন- দু-সাইডে ট্রাক দাড় করে বালু নামানো হয়। একপাশে ট্রাক দাড়িয়ে থাকলে আরেকপাশ দিয়ে মানুষ কিভাবে চলে বলেন। রাস্তাটি মাত্র ১২ ফুট প্রশ¯ত। একটি ট্রাক দাড়ালে আর জায়গাই থাকেনা। সারা রাত ও দিনে ট্রাকের পর ট্রাক বালু আসে । বালু বেচে লাভবান হচ্ছে মাত্র কয়েকজন আর দূর্ভোগ পোহাচ্ছে পুরো এলাকার মানুষ। এই বালু ব্যবসায়ীরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাননা বলেও জানান তারা । 
বালু ব্যবসায়ীদের একজন খুরশিদ মিয়া বলেন-সবসময় ট্রাক আসেনা। ট্রাক আসলেও আধঘন্টার মধ্যেই তারা বালু নামিয়ে ফেলছেন। এতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছেনা। তাছাড়া তারা যে জায়গায় বালু মজুদ রেখেছেন সেটি জেলা পরিষদ থেকে লীজ আনা বলেও দাবী এই বালু ব্যবসায়ীর। তবে তার নিজের লীজ আনা নেই জানিয়ে বলেন বায়েজীদ মিয়া ও দানা মিয়া জায়গা লীজ এনেছে। তাদের এখানেই বালু রাখা হচ্ছে। তবে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল আলিম বলেছেন- তাদের অল্প কিছু জায়গা লীজ রয়েছে গোকর্ণঘাট এলাকায়। তবে একেবারে রাস্তার ধারের কোন জায়গা লীজ দেয়া হয়নি।  পিছনের দিকে লীজ নিয়েই হয়তো সামনের দিকে বাড়িয়েছে। আমি একজন লোক পাঠিয়ে খোজ নেব কি অবস্থা হয়েছে সেখানে। 

 

এ জাতীয় আরও খবর

ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তি দেবে যুক্তরাজ্য

বিএনপি সরকার ৬ মাসে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ: নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশে বিনিয়োগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান

মঙ্গলবার পবিত্র সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার হয়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ইবির ৪৪ শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা

সবাই রেডি হলে স্থানীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৯৪

বাণিজ্যমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক, যেসব বিষয়ে আলোচনা

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ড নিয়ে যে তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ

শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মান নিয়ে যেন আপস না করা হয়: প্রধানমন্ত্রী

হাইকোর্টের রায়ে সন্তুষ্ট নুসরাতের মা