বুধবার, ২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়ায় যা ঘটতে পারে

news-image


বিবিসির বিশ্লেষণ 

সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার 'আকস্মিক' প্রবেশ সেখানকার রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে দেখছে এই কারণে যে, আইএসের নাম করে রাশিয়া সেখানে সরকারবিরোধী অন্যান্য গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালাচ্ছে। পশ্চিমাদের আশঙ্কা, মস্কোর হস্তক্ষেপ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করবে। পাশাপাশি পাকাপোক্ত হবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের আসন। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, রুশ বিমান হামলা ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) আরো শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে রুশ বিমান হামলাকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছে আসাদ এবং তাঁর অন্য মিত্ররা। তারা মনে করে, এ হামলার ফলে বিরোধীদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করা আসাদবাহিনীর জন্য সহজ হবে। শক্তি ও ক্ষমতা বাড়বে আসাদের। দুই পক্ষের এমন আশঙ্কা ও আশার মধ্যে সিরিয়ার রাজনীতি শেষমেশ কোন দিকে মোড় নিতে পারে তা নিয়ে একটি বিশ্লেষণ করেছে বিবিসি। সেখানে সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেছে তারা।

দুই পক্ষের লক্ষ্য ভিন্ন : সিরিয়া ও ইরাকে বিমান হামলার ক্ষেত্রে কাতারের একটি বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র এবং দুই দেশেই তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু আইএস। অন্যদিকে হামলা পরিচালনার জন্য ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি ঘাঁটিকে চলতি সপ্তাহে 'কমান্ড সেন্টার' ঘোষণা করেছে আসাদের মিত্ররা। সেখান থেকেই সিরিয়ায় হামলা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া, ইরান, সিরিয়া ও ইরাক। এই চার শক্তিই চায়, আসাদ ক্ষমতায় থাকুক। ফলে আসাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে দমন করাই হবে তাদের লক্ষ্য। কিন্তু তাদের এ লক্ষ্য পশ্চিমাদের সঙ্গে যায় না। এ ছাড়া তাদের হামলার কারণে আইএসবিরোধী আন্তর্জাতিক মহলের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইএস শক্তিশালী হবে : সব কিছুর পর রাশিয়া আসলে ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন ইসলামী গোষ্ঠীর শত্রু। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের মুজাহিদিনদের কথা বলা যেতে পারে। সেখানে তারা কয়েক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে রুশপন্থী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। আর তাতে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সহযোগিতা ছিল। এবারও সেখানে রুশ সেনাদের হাতে মুসলমানদের নিহত হওয়ার দৃশ্য আরব দেশগুলোকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেবে। ফলে রুশবিরোধী মনোভাবের কারণে অনেকেই আইএসে যোগ দিতে পারে। ছোট গোষ্ঠীগুলো নির্মূল হবে : একদিকে রাশিয়া, ইরান ও ইরাক সমর্থিত আসাদবাহিনী, অন্যদিকে আইএস- এই দুই বড় প্রতিপক্ষের মধ্যে পড়ে সরকারবিরোধী অনেক গোষ্ঠীই নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়বে। তাজাম্মু আল-ইজ্জা নামের একটি গোষ্ঠী এরই মধ্যে দাবি করেছে, তারা গত বুধবার রুশ বিমান হামলার শিকার হয়েছে। ছোট ছোট গোষ্ঠীর জন্য আরেকটি খারাপ সংবাদ হলো, আসাদবাহিনীর হয়ে স্থল অভিযানে অংশ নিতে এরই মধ্যে কয়েকশ ইরানি সেনা নাকি সিরিয়ায় পেঁৗছেছে।

আরো অস্ত্র : সৌদি আরব ও কাতার আইএসবিরোধী লড়াইয়ে সরাসরি অংশ না নিলেও সিরিয়ায় আসাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে শুরু থেকেই অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। ২০১৩ সালে একবার আসাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল সৌদি আরব। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা যুদ্ধে নামেনি। এর পরিবর্তে আসাদবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রের জোগান বাড়িয়ে দেয় তারা। এখন আবার যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের হাতে আরো বেশি বেশি অস্ত্র তুলে দেবে সৌদি আরব ও কাতার।

শান্তিপ্রক্রিয়া স্থগিত : ২০১১ সাল থেকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকরা একাধিকবার ভবিষ্যদ্বাণী দিয়েছেন, আসাদ এক বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। কিন্তু তাঁদের সেই বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আসাদ এখনো ক্ষমতায় আছেন, গৃহযুদ্ধ থামেনি। এবারও আসাদপন্থী ও আসাদবিরোধী শক্তি আলোচনার টেবিলে বসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ চলমান যুদ্ধ নিয়ে উভয় পক্ষের আত্মবিশ্বাস- 'না জিতলেও আমরা হারব না।'

 

এ জাতীয় আরও খবর

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা

নাহিদের দাবি মামলা করেই ফিরবেন

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত

গুলশান থেকে গ্রেপ্তার লতিফ সিদ্দিকী

৪৫ বছর পর প্রকাশ্যে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন

বাহুবলে এনসিপির গাড়িবহর আটকাল পুলিশ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করল তাহসিন

ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকা শিক্ষকদের পাঠদানের অধিকার নেই: মাহফুজ আলম

সাবেক ডিআইজি ফারুকের বরখাস্তের আদেশ বাতিল

চাঁদাবাজির মামলায় সাবেক বিএনপি নেতা কারাগারে