,

কোরবানিকে শুদ্ধ করতে……

news-image

রাত পোহালেই কোরবানির ঈদ। প্রস্তুত কোরবানি দাতারাও। লক্ষাধীক টাকার পশু ক্রয়ে কোরবানি দিচ্ছেন অনেক শহুরে মানুষ। গ্রামেও এমন কোরবানিদাতাদের সংখ্যা কম নয়। মধ্যবৃত্তরা ৫০ ছুই ছুই হাজার টাকায় কোরবানি দিচ্ছেন। কোরবানিতে অর্থ বিসর্জনের এ ত্যাগ মূলত কাদের জন্য? গরীবদের জন্য।
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এ কোরবানির গোস্ত পাচ্ছেন তো গরীবরা? নাকি কোরবানিদাতাদের ডিপ ফ্রিজেই রক্ষিত হচ্ছে আত্মত্যাগের গোস্ত। সমাজে দৃষ্টি ফেরালে বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। কোটি কোটি টাকা পশু কোরবানি হলেও গরীবদের থলিতে জুটে ১০-২০ কেজি গোস্ত। যাদের বছরে এক টুকরো গোস্তর স্বাদও নেওয়ার সৌভাগ্য হয় না এটুকু গোস্ত কি তাদের জন্য যথেষ্ট? গোস্ত বণ্টন নিয়েও দেখা যায় নানা রকম হেয়ালিপনা। গ্রামে গঞ্জে কোরবানির গোস্ত গরিব দোস্তদের দিয়ে আসার প্রথা থাকলেও শহুরে নাগরিকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় পুরোটাই ব্যতিক্রম। গ্রামে গরিবদের বাড়ি বাড়ি যেয়ে কোরবানির গোস্ত দিয়ে আসার প্রথাও চালু রয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় গ্রাম্য মাতব্বরদের পরিচালনায়ও কোরবানির গোস্ত বণ্টণ হয়ে থাকে। গ্রামে গঞ্জে কোরবানির এ গোস্ত বণ্টন সংস্কৃতির মতোই কাজ করে। তবে ব্যতিক্রম শুধু শহুরেদের ক্ষেত্রেই।
এখন কোরবানির গোস্ত থেকেও গরিবরাও অবহেলিত। শহরে চালু নেই গরিবদের ঘরে ঘরে কোরবানির গোস্ত দিয়ে আসার গ্রাম্য সংস্কৃতি। কোরবানির অধিকাংশ গোস্তই শোভা পায় ধনীদের ডিপ ফ্রিজে। অথচ ইসলামে কোরবানির পশুর গোস্তের অধিকাংশই গরীব ও আত্মীয় স্বজনদের মাঝে বিলি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘সুতরাং, (হে মুসলিমগণ) সে পশুগুলো থেকে তোমরাও খাও এবং দুস্থ অভাবগ্রস্থকে খাওয়াও। (সুরা হাজ, আয়াত : ২৮।’) আল্লাহ তায়ালা কোরবানির গোশত থেকে দুস্থদের দানের আদেশ করেছেন। তবে ঠিক কতটুকু দান করতে হবে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ তায়ালা কোনো পরিমাণ নির্দিষ্ট করেননি। মহানবী সা. এর হাদিসের মাঝেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন, তবে তিনিও কোন সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বলেননি। তবে সাহাবিদের মাঝে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. গোশতকে তিনভাগে ভাগ করতেন এবং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এর এক বর্ণনানুযায়ী মহানবী সা.ও গোশত তিনভাগে ভাগ করেছেন। আর এভাবেই ইসলামী আইন বিশারদগণ বলেছেন, কোরবানির গোশতকে তিনভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। একভাগ দরিদ্রদের, একভাগ পাড়াপড়শি বা আত্মীয়দের, একভাগ নিজের। (ফতোয়া আলমগিরী। ভলিউম, ৫. পৃ.৩০০) এমনিভাবে ইমাম আহমদ, ইমাম শাফেয়ীসহ বহু বিদ্বান গোশতকে তিনভাগ করার কথা বলেছেন। (সুবুলুস সালাম। ৪:১৮৮)
তবে তিনভাগের মাঝে কমবেশি করলেও কোরবানি সহিহ হবে। তবে পাড়াপড়শি এবং দরিদ্রদের কথা অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। ডিপ ফ্রিজ সংস্কৃতির এই যুগে অন্তত কোরবানির ক্ষেত্রে যেন আমরা আত্মকেন্দ্রিক পুঁজিবাদি মানসিকতার শিকার না হই এ দিকে লক্ষ রাখা প্রয়োজন। গ্রামের মত শহরেও চালু হতে পারে গোস্ত বণ্টনের উদার প্রথা। কোরবানি হোক মাংশত্যাগের বার্তা নিয়ে। কোরবানি হোক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে।

এ জাতীয় আরও খবর

স্বনির্ভর দেশ গড়তে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্ব: পানিসম্পদমন্ত্রী

রংপুর জামায়াত দখল করেছে, অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

ইরানে দুই হামলায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর চূড়ান্ত করতে ফের আলোচনা: দ্য হিন্দু

তৃণমূলের নাম-প্রতীক নিয়ে মমতা-ঋতব্রতকে নতুন সিদ্ধান্ত কমিশনের

জামায়াতের ৭১-এর ভূমিকা নিয়ে রাজ্জাকের বক্তব্যের গুরুত্ব তুলে ধরলেন আইনমন্ত্রী

শেখ হাসিনা কালকেই আসুন, হাতকড়া দিয়ে রিসিভ করব: বিমানমন্ত্রী

নির্যাতনের অভিযোগে দাম্পত্যে ইতি, থানায় সমঝোতায় সংগীতশিল্পী কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইউসুফ রায়হান ও মুন্নির বিবাহ বিচ্ছেদ

আজ প্রথম প্রেম মনে করার দিন

বিশ্ব বাঁশ দিবস আজ

মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাব নেই বাজারে