বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা চলছে ধার করা পাঠ্যপুস্তকে’

news-image

অনুবাদের ওপর ভিত্তি করে উচ্চশিক্ষার বই ছাপানো হচ্ছে। শিক্ষকদের অবহেলা ও অমনোযোগের অভাবেই উচ্চ শিক্ষায় মৌলিক সংকট রয়েছে। এ কারণে উচ্চ শিক্ষায় বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০টি বিষয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০টি বিষয় পড়ানো হয়। কিন্তু এসব বিষয়ের বেশিরভাগেরই বাংলায় মৌলিক বই নেই। নির্ভর করতে হয় অনুবাদের ওপর। কিন্তু একটি বই অনুবাদ করতে দুই বছর লাগে। বাজারে আসতে আরও দুই বছর লাগে। কিন্তু ততদিনে বিশ্ব আরও পাঁচ বছর এগিয়ে যায়। গতকাল মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান হলে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষাস্তরে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের বর্তমান অবস্থা ও সমস্যা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। তিন পর্বে বিভক্ত দিনব্যাপী এই সেমিনারের আয়োজকও ছিল বাংলা একাডেমি।
উদ্বোধনী পর্বে মূল প্রবন্ধে বাংলা একাডেমির পরিচালক অপরেশ কুমার ব্যানার্জী উচ্চ শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বেশকিছু সমস্যা তুলে ধরেন। সেগুলো হচ্ছেÑ পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকদের অনাগ্রহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ব্যতীত অন্য লেখকের গ্রন্থ উচ্চমানের হলেও সেটি রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ না করার মানসিকতা, বাংলা ভাষায় প্রণীত গ্রন্থ পাঠদানে শিক্ষকদের নিষ্ক্রিয়তা ও অনীহা, বিদেশি গ্রন্থের ওপর নির্ভরশীলতা, যথোপযুক্ত পরিভাষার অভাব, ব্যাপকহারে গাইড বই প্রকাশ, সঠিকমানের পাঠ্যগ্রন্থ নির্বাচনে শিক্ষকদের অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা।
সেমিনারে এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অনুবাদ নয় আমাদের মৌলিক বই প্রয়োজন। এক্ষেত্রে শিক্ষকদেরও অমনোযোগ রয়েছে। এখন আমি বাংলার শিক্ষক হয়ে পদার্থ বিজ্ঞানের বই লিখতে পারব না। এজন্য যিনি যেই বিষয়ের শিক্ষক তাকে সেই বিষয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। সর্বস্তরে বাংলার চর্চার ক্ষেত্রে আমাদের যতটুকু এগোনোর কথা ছিল এখনও ততটুকু পারিনি। আমাদের সংগঠিত ও সুপরিকল্পিতভাবে সর্বস্তরে বাংলা চর্চা বাড়াতে হবে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় আমরা এখনও বিষয়ভিত্তিক ভালো বেসিক বই করতে পারিনি। এর মূল কারণ পা-ুলিপির অভাব। বাংলা নিয়ে যত আলোচনা সব ফেব্রুয়ারিকে ঘিরেই। তবে এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমিকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারকেও মৌলিক বই বাড়াতে বরাদ্দ দিতে হবে। এক্ষেত্রে কাটতির কথা চিন্তা করলে হবে না। তবে ৪০-এর দশকে যেভবে স্বাধীন চিন্তা-চেতনার চর্চা হতো এখন তা কমে গেছে। আমরা আগের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছি।’
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বাংলা একাডেমির তিনটি গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করা হয়। বইগুলো হচ্ছে- স্টাডিজ ইন সাউথ এশিয়ান হেরিটেজ, পাকিস্তানের আঞ্চলিক বৈষম্য (১৯৪৭-১৯৬৯): পার্লামেন্টের ভাষ্য এবং বাংলা ও বাঙালির ইতিহাস। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ, অধ্যাপক ড. এ এম হারুন অর রশীদ, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ প্রমুখ।

এ জাতীয় আরও খবর

বিশ্বের ‘মোমো রাজধানী’ কোন শহর?

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরুষের ৫টি গোপন রহস্য জেনে নিন

সহকারী পরিচালকের ‘অদ্ভুত’ আচরণ, ভয়াল স্মৃতি কাজলের

বিএনপি সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতির দিকে যাচ্ছে : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাগরপথে ইতালি ও গ্রীসে যাওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশ

এই সরকার স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে : নাহিদ ইসলাম

ইরানের ডজনের বেশি প্রতিষ্ঠান-ট্যাংকারের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

অধিনায়কত্ব হারালেন মিরাজ, দায়িত্ব বাড়ল লিটনের

কারিনার নতুন লুকে মুগ্ধ ভক্তরা, স্কার্ফ নিয়ে আলোচনা

যশোরে গ্রেপ্তার ডেভিড ইমনকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে

চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি মুখোমুখি, বাড়ছে উত্তেজনা